কিছুটা সত্য

কিছুটা সত্য

“কিছুটা সত্য”

প্রফেসর অনামিকা হক লিলি

কি গো তুমি হেঁটেই চলে এসেছ ? বুঝতে পারিনি তো। কই গলা থাকরি বা কোন রকম আওয়াজই তো করনি, এমন তো হয় না নারে বাবা এইমাত্র ঢুকছি। হুক্কার দিব দিব করছিলাম তক্ষুনী তোমার সুরেলা কন্ঠের সুর ভেসে এলো। আর এও জানি তুমি এক্ষুনি পানির গ্লাস আনবে তারপর আনবে চায়ের ঘুমারিত কাপ । আমার রোজনামচা একেবারে মুখস্ত করে রেখেছ ? শুধু আমি রাখি, তুমি রাখ না ? এইতো চা খেয়ে গোসল সেরে বের হতে না হতেই গরম গরম নাস্তা এসে যাবে টেবিলে। সে নাস্তায় একেক দিন একেক চমক । সব আমি করি নাকি ? আমাদের জবার মা আছে না, ওইতো সব করে। জবার বিয়ে নিয়ে এখন ওর হাতে অঢেল সময় । সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আমার সাথেই থাকে। রাতের রান্না সেরে তবে যায় । ও আমার কাছে সবই শিখে নিয়েছে । আমি পাশে থাকলেই তরতরিয়ে করে ফেলে । তুমি তো সপ্তাহে কোন নাস্তা রিপিটই করোনা । নানা ভাই, নাসিমা এতো রকম নাস্তা কি তোমার জন্য করে নাকি, করে তো আমার জন্য। সারা বছরের নাতি সায়ন হাসতে হাসতে খাওয়ার টেবিলে বসে পরে । বলে দাদিমা আজকের নাস্তার মেনু কি? চালের আটার রুটি, আর হাঁসের মাংস, তাই না ? আমি তোমাকে কালকে হাঁসটিতে দেখেছি । সায়ন দাসু। তোমার এতো দিকে নজার এতো বুদ্ধি ? হবে নাই বা কেন, একেবারে মানুর মতো যে একেবারে ঠিক বলেছ, পাঁচ মিনিটের মধ্যে এসবই আনছি । আফজাল সাহেব নাস্তার পর খবরের কাগজ নিয়ে বসলেন। হেড লাইনগুলো দেখার পর ডিটেলসে পড়া। নাতি পাশে বসে বসে পড়াশুনা নয়ত গল্পের বই, ছবি আঁকা, লুডু কিংবা একাই মনোপলি খেলা । কাগজ হাতে নিয়েই ডাকতে থাকলেন, আয়েশা, আয়েশা এদিকে এসো, তাড়াতাড়ি এসো। দেখে যাও দেখে যাও, একটা খবর দেখে যাও। শুধু তো দোষ দেখা আর দোষ দেখা। পুলিশ এই করেছে, পুলিশই এই করে ইত্যাদি। পুলিশ বাস ট্রাক থামায়, গাড়ীর লাইসেন্স দেখার নাম করে নাকি কারণে অকারণে এসব করে। যত্তসব সব মাছই নোংরা খায় আর একটা মাছের নাম হয়। আয়েশা, তাড়াতাড়ি আসতো দেখবে আসো। খবরের কাগজে কি দেখাবে দাদাভাই ? আমিও দেখি । দাদাভাই কে এই ভদ্রলোক, কি করেছেন তিনি । পড়না পড়ে শোনাও না । এই ভদ্রলোক একজন বাংলাদেশী পুলিশ। ট্রাফিক পুলিশ, নাম মনির, কনস্টেবল মনির। কতো মহৎ আর সাহসের কাজ করেছে জান কি করেছে বলছি । আয়শা আঁচলে হাত মুছতে মুছতে এসে বলে, মনে হয় আবার বৃষ্টি হবে, ক'দিন ধরে যা হচ্ছে, সময় অসময় বলে কিছু নাই, বৃষ্টি আর বৃষ্টি। ভাদ্র মাসে এতো বৃষ্টি, কতো যে দুর্ভোগে আছে মানুষ জন। ঢাকার অনেক রাস্তাই তো পেপারে বলছে জলজট আর যানজট। সে সবই তো কিছু একটা বলবে তাই না? আসছি বাবা আসছি ! তোর দাদাভাই এতো ডাকাডাকি করছে কেনে দেখ কনষ্টেবল মনিকে দেখ । গতকালের ঘটনা আজকে কাগজে এসেছে। কালকেই ওর সাহসিকতা আর মানবতাটা প্রতিটা চ্যানেলে বার বার দেখানো উচিত ছিল । বছর দশেকে একটা ছেলে সবার চোখের সামনে ম্যানহোলে পড়ে গিয়েছিল, অনেকেই সেখানে শুধু জটলা করছিল আর ভীড় বাড়ছিল, সেখানেই ট্রাফিকের কাজে নিয়োগীত ছিল মনির। চট্টগ্রামের ব্যস্ত রাস্তা, ভীড় দেখে মনির এগিয়ে এলো আর শোনার পর তৎক্ষণাৎ ম্যানহলে নেমে গেল। ছেলেটাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসল । কি মহৎ ছেলে বলো ? উঠে এসে সে তার সাক্ষাৎকারে কি বলেছে জা মনির বলছে, ওর নিজের একটা দশবছরের ছেলে আছে। শোনার পরই তার ছেলের মুখটা নাকি মনে পড়ে গেল আর অমনি ঝাঁপিয়ে পড়ল। নিজের জীবনের মায়া মমতা না করে উদ্ধার করতে নামলো । কাদা পানি আর দুর্গন্ধের মধ্যে ছেলেটাকে খুজে পেতে তার কণ্ঠ হচ্ছিল, তারপর হাতে পায়, কিন্তু উঠে আসতে খুবই কষ্ট হচ্ছিল। গায়ের পোশাক আর বিশেষ করে জুতা ভিজে পানিকরে খুবই ভারী হয়ে গিয়েছিল, এদিকে নমও প্রায় ফুরাতে বসেছে । ছেলেটাকে উচুকরে দিয়ে, তবে নিজে উঠেছে । বলকি । আমার গায়ে তা কাঁটা দিয়ে উঠছে। এ যুগেও এমন আছে । আল্লাহ ওর মঙ্গল করুক, ভালো করুক । দাদাভাই, ওকে মানে মনির সাহেবকে তো রাষ্ট্রীয় পুরস্কার দেওয়া দরকার তাইনা ? হ্যা, হ্যা তা দেবে বইকি, অবশ্যই দেবে । দাদাভাই তোমার সময়ের দু একটা এমন কথা বলোনা শুনি দাঁড়াও দাঁড়াও আমি তোমার লেদারের সুটকেসটা নিয়ে আসি । দাদিমা বলেছে, ওটাতেই তোমার সব স্মৃতি লুকানো আছে । তুমি নাকি খুব জাঁনবেল দারোগা ছিলে লোকেতো তাই বলতো। যখন যে থানায় পোষ্টিং হয়েছে সেখানে নাকি চোর ডাকাতেরা বাড়ীতেই থাকতো না। অন্যদানার আওতায় ঘটনা ঘটাতো । কিন্তু তোর দাদিমা কি বলে জানিস, আমি নাকি মশা মাছিই ধরতে পারিনা । তার আবার চোর ডাকাত ধরা ! আচ্ছা তুই বলতো আমি কি 'মাছি মারা কেরানী' সেই গল্পের মতো মশা মাছি তাড়ানো তো ধুপধুণার কাজ ছিল তখন আমার সাথে ঠাট্টা করতো বুঝলি, ঠাটা আমি অবশ্য এটুকুতে আনন্দই পেতাম । মানুভাই আমি তোমার ব্যাজগুলো মুছে ঝকঝকে করি ? টুপিটা ঝাড়ি মুছি দাদাভাই তোমার ঠিকটা মানে লাঠিটা কতো সুন্দর । ওই লাঠিটার কথা বলছো ? ওটা কিন্তু যেখান সেকানের লাঠি না, ওই লাঠিটা আমি পশ্চিম পাকিস্তান থেকে আনিয়ে ছিলাম। ওখানে 'চিনিওট' নামে একটা জায়গা আছে সেখানকার তৈরী। শিয়ালকোটের যেমন ক্রিকেট ব্যাট, তেমনি চিনিওটের লাঠির নাম বিখ্যাত বলোনা দাদাভাই, তোমার স্মৃতির ভাণ্ডারটা খোল। আর বেশীদিনতো থাকা হবে না, বাবা অস্ট্রেলিয়া থেকে ডাকলেই রওনা দিতে হবে। মাতো কাগজপত্র তৈরীতে ব্যস্ত তাই না ? একবার গেলে আবার কবে আসা হবে ওসব কথা এখন থাক সায়ান, সুনলে দাদী মা এখনই কাঁনতে বসবে। আমাদের এই বয়সে আমাদের আবার একা থাকার পালা, সেটা তোর দাদি মা বুঝেও বুঝতে চায়না। ছেলে মেয়ে বড় হবে নিজের সংসারে যাবে কাজে যাবে এটাইতো নিয়ম । পাপাতাই ওসব আমি বুঝি না তুমি এবার গল্প বলো। গল্প নারে সায়ান একেবারে সত্য ঘটনাই বলছি । ওই লাঠিটা, মানে ঠিকটা এটা তুমি সুটকেসে রেখে দাও দাদা । এটার সাথে আমার অনেক বড় কষ্টের একটা স্মৃতি বড়ানো আছে, জড়ানো আছে দীর্ঘ চাকুরী জীবনের কলঙ্ক । এই যে দাদা নাতি তাড়াতাড়ি আসতো, রুটি মাংস দুটোই ঠাণ্ডা হয়ে যাবে, আসো আসো। গল্প তোলা থাক, নাস্তার পরে ঘরে যেয়ে করবে । ঠিক আছে তাই হবে দাদিমা, কিন্তু গল্প আমি শুনবই। দারোগা পুলিশদের জীবনের গল্প সবসময়ই ডিটেকটিভ গল্পের মতো হয়। আমার কিন্তু ডিটেকটিভ মানে গোয়েন্দা গল্পের বই পড়তে আমার খুব ভালো লাগে। আমি তো অস্ট্রেলিয়ার লাইব্রেরীতে যেয়ে শুধু গোয়েন্দা বইগুলোই পড়ি । দাদাভাই তোমার গল্প গোয়েন্দা গল্পের মতো হবে, তাই না হয়তো হবে, আবার হয়তো না । আমাদের সব কাজইতো চোর ডাকাত আর পুলিশের খেলা, চোর ডাকাত বোঝ তো ? চুরি করা মানে আর ডাকাতি করা মানে কি শুনেছ ? চুরি করা হচ্ছে গৃহে বা বাসায় যারা থাকে আরকি তার মোটে বুঝতেই পারবে না। গোপনে সন্তর্পণে নিয়ে গেলে চুরি করা বলে। আর ডাকাতি হচ্ছে সরবে হই হই করে এসে, অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে চারজনের বেশী লোকজন এসে নিয়ে যাওয়াকে ডাকাতি বলে দানা ভাই, তোমার কন্ঠের স্মৃতিটা কিসের নানাভাই ? চোর নিয়ে না ডাকাত নিয়ে । থাকার নিয়ে সায়ান, ডাকাত নিয়ে, সে ডাকাত খুব নামকরা ডাকাত নামকরা ডাকাত আবার কি ? তুমি বলছ বিখ্যাত ডাকাত ? হ্যারে খুবই বিখ্যাত ডাকাত ডাকাতি করার আগে যে বাড়ীতে যাবে তাদের চিঠি দিয়ে মামটা মনে আছে ? জানিয়ে দিত । এতোটাই সাহস ছিল তার । নামটা মনে আছে? তা আছে, কিন্তু ওটা কি আর এর আসল নাম? পছন্দ মতো জানরেল এক নাম নিয়ে নেয়। ওর নামও তেমনি। আমার খুব রাগ আর জেদ ছিল, বুঝলি । ভেবে রেখেছিলাম ওকে পেলে আমি ধরতোই ধরবো । তেমনি সুযোগও পেয়ে গেলাম। আমার এলাকার একেবারে শেষ প্রান্তে, নদীর দিকে মুখরেখে সরকারদের দোতলা টিনের বাড়ী । উপরে টিনের চাল রেখেছে দুই শুধু গ্রামের সবার সাথে একাত্বতা রাখার জন্য । ওদের বিষয় সম্পত্তি জমি এতো যে দু চারটা দালান কোঠা করা কিছুইনা । ভেতরের কাজতো দেখার মোত । কাঠের খাট পালঙ্ক। মোট কথা আসবাবপত্র দেখার মতো । যেমন খান্দানী পরিবার তেমনি সুন্দর সবার চেহারা গঠন। আমি খবর পেলাম সন্ধ্যায়। দুইদিন আগে তারা চিঠি পেয়েছে। থানায় খবর দেবে কি দেবেনা ভেবে ভেবে শেষে দিয়েছে। কারণ তাদের নিজেদের কাছেও লাইসেন্স করা দোনালা বন্দুক আছে। কিন্তু সে বন্দুক যতটা না চোর ডাকাত ধরার জন্য তারচেয়ে বেশী তাদের ভয় দেখানেরা জন্য। আসলে ওই সরকারের সময় বন্দু যথাযথ ব্যবহার করা সহজ কথা না । ডাকাত পত্তনে ভয় না পেয়ে মাথা ঠাণ্ডা রেখে বন্দুক চালানো কি চাট্টিখানের কথা তুমি ঠিক বলেছ পানাভাই। তোমার যেমন ট্রেনিং নেওয়া আছে, সবার কি সেটা আছে ? বলো, তারপর আমি আমার প্লাটুন নিয়ে তৈরী । ভীষন উত্তেজিত, মিশনে যাচ্ছি বলে কথা, আর এই ডাকাততো আমার অনেক দিনের টার্গেট । সন্ধ্যার পর রাত একটু ঘনিয়ে এলেই আমরা নদীর ধারে গিয়ে ওৎ পেতে থাকলাম। নদীর পাড়ের বটগাছের আড়ালে এমনবাবে আমরা অবস্থান নিলাম যে ওরা তো নয়ই কাক পক্ষীও বুঝতে পারবে না । ঠিক মধ্যরাতে গড়িয়ে তবে এলো । তিনটা ছিপ নৌকা নিয়ে। ছিপ নৌকা বুঝতে তো? খুব পাতলা, চিকন চাকন গড়ন । পানি কেটে খুব দ্রুত যেতে পারে । কিছুটা বাইচের নৌকার মতো। নৌকা তিনটা থেকে ওরা নামতে না নামতেই ছুটে গেল সরকার বাড়ীর দিকে। চার দিক ঘিরে থাকলো কয়েক জন, আর কয়েক জন ভিতরে । সর্দারের হাতে ছিল বন্দুক, শুধু চোখ খোলা আর মুখ মাথা কালো কাপড়ে ঢাকা সবার, শুধু সর্দার মুখ ঢাকেনি। এমন সাহসী পদচারনা, যেন পুলিশের ট্রোনিং পাওয়া । এবার আমরা নিরবে ওদের ঘিরে ফেললাম। আমার নিষেধ ছিল ছিল বাঁশি না বাজালে অস্ত্র ব্যবহার করবে না । বাড়ীর লোকজন সজাগই ছিল, কিন্তু কিভাবে যে তারা নিরব নিথর হয়ে গেল বুঝলাম না। সিন্দুক খুলে অলংকার আর মূল্যবান কিছু নিয়েই ওরা ফিরছিল । কিন্তু বাড়ীর কর্তাব্যক্তি সেই মুহূর্তেই ভুলটা করে বসল । দোতালার জানালা থেকে গুলি করে বসলো । সে গুলিটা কাকে লক্ষ্য করে করেছিল কে জানে, লক্ষ্য হলো এর ডাকাত সর্দারের বিপরীত প্রতিক্রিয়ার গুলি মোটেই লক্ষভ্রষ্ট হলো না, বড় সরকারকে সামনে না পেলেও মেজো সরকারকে গুলিবিদ্ধ হতে হলো। এরপর খণ্ডযুদ্ধের মতোঘটনা হলো। আমার বাঁশিতে লাঠি, তলোয়ার ইত্যাদির ঝনঝন খটখট শব্দ চারদিকে । লংকারাদি নিয়ে ওরা গুলি করতে করতে ছিপ নৌকার দিকে পিছাছিল। আমার টার্গেট সর্দার, আমি রক্তপাত ছাড়া ওদের ধরতে চেয়েছিলাম, কিন্তু রক্ত যখন করেছে তখনবদলাগুলিতো করতেই হবে । আমার দলের সেপাইরা ছিপ নৌকার ক্ষতি করেই রেখেছিল । গুগুলোতে মানুষের তার পড়লেই পানি ঢুক ডুবতে থাকবে । সবাইকে আমাদের জালে ধরা পড়তে হবে। দ্রুত ছিপনৌকার দিকে যেতে যেতেই কোথায় যেন মিলিয়ে গেল। শুনলাম ঘোড়ার ড্রেসারব । বুঝলাম ভাবনার চেয়েও বেশী বুদ্ধিমান, ফিরবার দ্বিতীয় ব্যবস্থা অন্ধকারের মধ্যেই করে রেখেছে। গুড়ের শব্দ পেতে না পেতেই বন্দুক তাক করলাম। একচোখ দিয়েও অন্ধকারে দূরে অশ্বারোহীকে দেখলাম । তখন ঘোড়া প্রায় বেগ পেতে যাচ্ছে, আমার গুলি সোজা চলে গেল । ধুপ করে পড়ে যাওয়ার শব্দ পেলাম। অস্ত্র নিয়ে একাই ছুটি গেলাম । কিন্তু দুর্ভাগ্য আমার । গুলিটা বক্ষ ভেদ করে গেছে, পিউদিয়ে ঢুকে একেবারে বুক দিয়ে বেরিয়ে গেছে। কথা সে মাত্র একটাই বলেছিল । মেয়েটা অনাথ হলো । আমি জীবন্ত ধরতে না পারায় খুবই দুঃখ পেলাম । কিন্তু অঞ্চলের মাসকে বিনাশ করতে পারার পদকে ভূষিত হলাম । কিন্তু ওই পদকের আড়ালে আছে আমার কলঙ্কের ইতিহাস । দুই দিন পর একটা মেয়ে আমার সাথে দেখা করতে এলো। এতো তেজস্বী মেয়ে আমি খুব কম দেখেছি । যেমন সুন্দর দেখতে তেমনি স্পষ্ট তার কথা । আমি সবাইকে সরিয়ে দিয়ে বসতে বললাম বসল, আর বলল, আপনিই পিতাজিকে শেষ করেছেন তাই না? বললাম, মানে তুমি কে ? আমি পিতাজির একমাত্র মেয়ে আশা । পিতাজি আপনাদের কি ক্ষতি করেছিল বলুন আমি ততক্ষণে বুঝে গেছি, বললাম, কেন ডাকাতি করা অন্যায় সে সব আমি বুঝি না, আপনি শুধু বলুন কখনও কি কোন গরীবের বা মধ্যবিত্তের ঘরে ডাকাতি হয় ? হয় না। যাদের বেশী আছে তাদের কাছ থেকেই বাড়তিটুকু নেয় তারা। এতে আপনাদের এতো রাগ কেন? ওরাতো রক্তের বদলে রক্তাক্ত করেন, আগে শুধু ভয় দেখিয়েই কাজ করে। এখন আমার রূপ আর ব্যসটাই সুস্থভাবে বাঁচার জন্য অন্তরায় হয়ে উঠবে । এ কৈফিয়ত এখন আপনাকেই দিতে হবে। আমার ঠিকানা কি রাস্তায় হবে নাকি কোঠায় হবে । বরয় হাজতে রাখুন, আপনি নির্দেশ দিলে নিশ্চয়ই সাধারণ পুলিশের বিরক্ত করতে সাহস পাবে না । মেয়েটার সাহস আর স্পষ্টবাদীতা আমাকে মুগ্ধ করতো। বললাম হাজতে যে রাখা যায় না তা মনে হচ্ছে তুমিও জান। তুমি বরং আমার বাসায় চলো। তোমার খালাম্মা খুশীই হবেন, তিনি অন্যরকম, তিনি তোমাকে বালোভাবেই গ্রহণ করবেন। কারণ তাকে আমি তোমার পিতাজির শেষ কথাটা বলেছি । পিতাজির শেষ কথা ? কি কথা ? বলেছিল, মেয়েটা এতিম হয়ে গেল । আশার বড় বড় দুই চোখ পানিতে টলটল করছিল । আমি এই দুর্বলতার সুযোগটুকু নিয়ে মা আশা বলে সেম্বোধন করে বললাম, চলো বাসায় চলো, তুমি আমার মেয়ে হয়ে থাকবে । আশা এলো, তৃপ্তি করে খেলোও । মনে হলো যেন আসলেও দু'দিন পর খাচ্ছে। শান্তিতে ঘুমানোর জন্য নিরিবিলি ঘর চাইলো। সে রকমই ব্যবস্থা করা হলো। কিন্তু মধ্যরাতেই আমার ঘুম ভেঙ্গে গেল, মন কেন যেন চমকালো। আমি তোর দাদিমাকে বললাম, একবার যেয়ে দেখবে মেয়েটা কি ঘুমিয়েছে নাকি জেগে কাঁপছে । ওর পিতাজির মৃত্যুটা সহজভাবে নিতে পারেনি। থানায় আমার কাছে অনেক কৈফিয়ত চাচ্ছিল । সায়ন তুমি শুনছ ? কি বলো দাদাভাই, আনছি না মানে, অবশ্যই শুনছি। বলো বলো তারপর ? তারপরইতো সর্বনাশ । প্রানহীন আশা ঝুলে আছে আমারই বাসায় । কি কৈফিয়ত দেব ? কাকে কৈফিয়ত দেব ? কিছুই বুঝতে পারছিলাম না। দু'কান হলেই তো প্রশ্ন আর সন্দেহের শেষ থাকবে না। কি করি কি করি তত্ক্ষণী আমাদের পুরানো রক্ষনাক্ষেণকারী কাকা বলতে পার, দেশের বিশ্বাসী মানুষ বরাবর আমাদের সাথেই থাকে সেইই আমাকে পথ দেখালো। কেউ জানা বোজার আগেই আশাকে নিয়ে মানে ওর লাশটাকে নিয়ে আমার দেশের বাড়ী রওনা হয়ে এলাম। সকাল হবার আগেই বাবার কবরের পিছনেই আশাকে রেখে এলাম চিরদিনের জন্য । আচ্ছা দাদাভাই, ওই আশা, উনি কেন এ রকম করলেন বলোতো তোমাকে বাবা বলে মানলেই তো হতো অতো বুদ্ধিমতি মেয়ে এটুকু বুঝলো না রে, আমাকে চিরদিনের জন্য অপরাধী করে গেল । দাদাভাই তুমি কাঁদছো ? কেঁদোনা দাদাভাই, তোমার কোনই দোষ নেই, ওটাকে নিছক একটা ঘটনা মাত্র বুঝলে দাদাভাই । তুমি একটা চমৎকার গল্প বললে, তুমি খুব সুন্দর করে গল্প সাজাতে পার । চলো চলো দাদাভাই, পুকুরে চলো, আজকে তো তুমি আমাকে সাঁতার শেখাবে তাই না? পানিতে ভেসে থাকতে পারার মজাই আলাদা হবে, সাঁতার শিখতে কয়দিন লাগবে দাদাভাই ? তোমাদের গল্প শেষ হলো ? যাও যাও গোসলে যাও। দুপুরের রান্না হয়ে এলো প্রায়।
Read Also :-
Labels : #Bangla Golpo ,#Bangla Kobita ,#Bangla Romantic Story ,#Love Quotes ,#কিছুটা সত্য ,
Getting Info...

Post a Comment