মুক্তিযুদ্ধের গল্প
শিকড়
অনামিকা হক লিলি
(প্রফেসর বেগম গুলবাহার)
অধ্যক্ষ, সরকারী বিজ্ঞান কলেজ, ঢাকা।

উপরে কোনো সম্বোধন করতে আজকে আর সাহস হচ্ছে না। যদিও খুব ইচ্ছা হচ্ছে উপরে মাম্মি কিংবা ড্যাডি লিখতে। না লিখলেও তবুও ধরে নিও ওখানে তোমরা দুজনেই রয়েছ। এখন মনে হচ্ছে এতোদিন আমি তোমাদের যে ডাকে মনোযোগ আকর্ষণ করেছি, জানি না কতটা আকর্ষণ তোমরা বোধ করেছ আমার ডাকে। যতই স্বাভাবিক আর সহজ করে লিখতে চাচ্ছি, তবুও কেন যেন মনে হচ্ছে একটু কঠিনই হয়ে যাচ্ছে। যদিও আমার এ চিঠিতে তোমাদের তেমন নতুন কোনো দুঃখ বা কষ্ট হবে না, কারণ ব্যাপারটা তোমাদের জানাই ছিল। তোমরা তো জেনে শুনেই, নিশ্চয়ই অনেক ভেবে চিন্তেই আমাকে এনেছিলে। কিন্তু তখন তোমরা ভাব নাই, আমার দিকটা একবারও ভাব নাই, কতটা অবিচার আমার প্রতি করছ। আজকে আমি তোমাদের কাছে কোনো কৈফিয়ত চাইছি না। শুধু আমার মনের কষ্টটা যদি একটু কমে সেই জন্য অন্ততঃ একবার হলেও বলছি, বলছি মানে লিখছি আর কি, কারণ তোমাদের সামনা সামনি দাঁড়িয়ে কোনো কঠিন কথা বা বড় কথা বলেছি বলে মনে হয় না। আর হয়ত তোমাদেরই মমতার কারণে তার দরকারও পড়েনি কখনও। তেমন কোনো শিক্ষাই আমাকে প্রভাব ফেলতে পারে নি যা এখানে খুবই স্বাভাবিক, আমেরিকার মাটিতে, না মাটিতে বলা ঠিক হলো না, আমেরিকার পাথরের পরিবেশে বড় হয়েও আমি যেন সেই কোনো সুদুরের প্রায় না চেনা, না দেখা ভেজামাটির গন্ধভরা বাংলাদেশিই হয়ে গেলাম। কিন্তু এ সমস্ত দুঃখ বল কষ্ট বল কিংবা এই আমেরিকার ভাষায় এক সস্তা সেন্টিমেন্টই বল, সে সবই আমি আমার হৃদয়ের গভীরে মননে, আমার রক্তের উদ্মতায় আমি তা নিজেই বহন করব সারাজীবন। এখানে এর না কোনো মূল্য আছে না আছে কারও সময় একটু শোনার। আর আসলে আমি তা চাইও না কারণ ওটুকুই তো আমার নিজস্ব যা কঠিন আর বেদনাময় হলেও শুধুই আমার। কারণ আমার নিজের বলতে তো আর কিছুই নেই । কিন্তু আমি বুঝতে পারছি না কি করে তোমাদের মায়া কাটাবো, কি দিয়ে তোমাদের ঋণ শুধবো। এখানে তো প্রায় তের বছর বয়স থেকেই মেয়েরা নিজেদের তৈরি করতে শুরু করে। নিজের মতো করে নিজের জগতটাকে ভাবতে শুরু করে। জীবনটা যেহেতু তার নিজের সেহেতু নিজের মতো করেই গড়ার যেমন স্বাধীনতা আর তেমনি দায়িত্বও। দায়িত্বের নাগপাশে যে ওরা কতটুকু হিমসিম খায় সে আমি খুব কাছে থেকে জেনেছি। ওদের সাথে মিশে জেনেছি ওদের কতটুকু অসহায়ত্ব। কিশোর বয়সের চাপলা শেষ হওয়ার আগের পথ বাছবার সময় এসে যায়। তোমাদের বাংলাদেশের মতো বাবা চাচা, মামা, খালা, ফুফুরা নেই যে কোনো ভুল পথকে শুধরে ঠিক পথ দেখাতে সাহায্য করবে। তোমাদের বাংলাদেশ বললাম কেন জান? আমি তো ওখানে জন্মেছি মাত্র, শুধুমাত্র জন্মসূত্রে বাংলাদেশী। আর এখানে আমি থেকে অধিকারী হয়েছি। জানি না কোনটা মূল্যবান । জানি না আমার জন্যই বা কোনটা। জানি না নিজের পথ বাছতে গিয়ে পথ হারিয়ে ফেলব কিনা। আমি আমার এই অল্প বয়সের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি। তোমরা তো আমাদের সেই বয়সটা দেশেই কাটিয়ে এসেছ, তৈরি হয়ে এসে বসবাস শুরু করেছ। যদি আমার বয়সটা এখানে কাটাতে তাহলে খুব সহজ হতো আমাকে বুঝাতে। আমি এখানকার অনেক মেয়েরই কষ্টটা দেখেছি, পড়াশুনা যে নিশ্চিন্ত হয়ে করবে সে উপায়ও তাদের নাই। প্রাথমিকের পর বেশি পড়তে চাইলে তারা বেশ হেজিটেশনে থাকে তাদের পড়ার খরচ কে চালাবে। তোমাদের মতো মা বাবার কাছ থেকে হাত পেতে নিতে ওদের বাধে। আর নিজেরা যে কী ভাবে রোজগার করবে সে ভাবনাও মাথার উপর চেপে বসে ওইটুকু বয়সেই। আর বুঝতেই তো পারছ এই বয়সটা কতখানি মারাত্মক। আমি কাল পর্যন্ত এতোটা বুঝতাম কিনা জানি না কিন্তু আজকে মনে হচ্ছে এসব যেন আসলেই অনেক বেশি বুঝে ফেলেছি। এ বয়সটা যে অনেক নতুন নতুন জানতে চায়, উপভোগ করতে চায়। অনেকেই তাই সহজে কিছু উপার্জন করেই আনন্দের মানে সাময়িক আনন্দের মধ্যে সময় কাটাতে চায়। তারপর এই আনন্দের স্রোতে গা ভাসিয়ে দিয়ে অনেকেরই সময় তরতর করে চলে যায়। থিতু হয়ে বসে ভাববার অবকাশটুকু পায় না। অবশেষে ঘর বাঁধার আশায় বা নেশায় যখন ধরে, তখন বিহ্বল হয়ে পড়ে। ছেলেদের সাথে ডেটিং করতে করতে ঘেন্না ধরে যায় নিজের উপরে। ছেলেরা যেন নির্দয় নির্মমের মতো চেখে চেখে দেখে, মেয়েরাও দেখে তবু কেন যেন মনে হয় মেয়েরাই শঙ্কিত থাকে বেশি। অনেক কুমারী মায়েদের অস্থিরতা হয়ত তোমরা লক্ষ্য করে থাকবে। ক্ষণিক ভালোলাগার ফসল নিয়ে ঝামেলা যে মেয়েদেরই পোহাতে হয়। তখন উপলব্ধি করে তাত্ক্ষণিক মনোযোগ নয় অন্ততঃ কিছুটা সময়ের দরকার কারণ জীবনতো অনেক বড়। তাই ভুল এসে বারবার হানা দিতে থাকে। আমাকে আমার ব্যাপারটা জানাতে তোমাদের খুবই কষ্ট হচ্ছিল। তোমরা নিজমুখে বলতে পারছিলে না। মাম্মি কোনোদিনই আমাকে জানাতে চান নি। কিন্তু এখানকার সমাজ ব্যবস্থা বা আইনের বাইরে যাবার তো উপায় নেই। মায়ের অন্ধভালোবাসার মূল্য এখানে কতটুকু আছে আমার জানা নেই তেমন। আমাকে জানানোর জন্য তোমাদের দেশ থেকে লোক আনতে হয়েছে।এখানে সমাজ কর্মীরা বড়ই তৎপর, বড়ই কর্মঠ আর কর্তব্যপরায়ন। তারা বাড়ি বাড়ি আসে, খোঁজ খবর করে, দেখে যায় বাড়ির পরিবেশ। এ্যাডাপ্ট করলে মানে পোষ্য নিলে, লালন পালনে ঐক্য আছে কিনা, নিজেদের সন্তান থাকলে পার্থক্য আছে, কিনা আপনে ও পরে, এসব ওরা সত্যি সত্যি দেখে যায়। আর ওরা আছে আর আসে বলেই মা বাবারা অয়ত্ব করতে বা অবহেলা করতে সাহস করে না। অবশ্য অনেকের ক্ষেত্রেই এসবের কোনো প্রশ্নই উঠে না, তাদের উদারতা আর মহত্ব এসবের অনেক উর্ধ্বে এমনও এখানে অনেক । তোমাদের জন্য যে কষ্ট হচ্ছে এ কথা বার বার বলতে খুব খারাপ লাগছে, তোমরা ছাড়া আমার আর কে আছে বল? আমি অন্ততঃ জানি না থাকলেও সে তো আমাদেরই জানা থাকার কথা। আমি কেমন বা কোন পরিবারের কে জানে। হয়ত বা বিরাট সংসারের বোঝার উপর শাকের আটির মতো ছিলাম, নয়ত জম্মাতেই মাকে খেয়ে থাকব, আরও কতো কি হতে পারে। আমি জানি না, সে সবের কিছুই আমি জানি না। তবু কষ্ট হচ্ছে, অভিমান হচ্ছে ভেঙ্গে ভেঙ্গে কান্না এসে মনটাকে চুরমার করে দিচ্ছে মাঝে মাঝে। আমি জানি আমার মতো এমন অনেক আছে এদেশে। জানি না ওদের মনে কি প্রথম জানার পর আমারই মতোন কেঁদেছিল মনে মনে শিকড়ের সন্ধানের জন্যে? জানি না ওরা কেউ সে শিকড়ের সন্ধান পায় কি পায় না, কিন্তু আমি জেনেছি আমি সন্ধান কোনোদিনই পাব না। তোমরা আমার মা বাবার কোনো ঠিকানাই নাকি রাখনি। কিন্তু কেন রাখনি? ঠিকানাটা রাখলে আমার অন্ততঃ ঘৃণা করার একটা জায়গা থাকতো । ঠিকানা জানলেও আমি তাদের কাছে নিশ্চয়ই যেতাম না, কখনই না। স্নেহ মায়ার বন্ধনে থাকতে হলে আমি তোমাদেরকেই বেছে নিতাম। কারণ তারা আমাকে ত্যাগ করে ভারমুক্ত হয়েছে আর তোমরা গ্রহণ করেছ। তারা আমাকে দিয়ে শূন্য হয় নি বরং তোমরা তোমাদের শূন্যতা পূরণ করেছ । তবু ঠিকানাটা জানা থাকলে একবার গিয়ে তাদের সামনে দাঁড়াতাম । কিছুই বলতাম না, কিছু না, কিছুই না । বেশ কিছুদিন থেকেই সমাজকর্মীরা বার বার তোমাদের উপর চাপ দিচ্ছিল, ব্যাপারটা আমাকে বলে দেবার জন্য। কিন্তু তোমরা নির্দয় হয়ে কিছুতেই বলতে পারছিলে না অথচ আমেরিকার নিয়ম অনুযায়ী আমাকে তোমাদের জানিয়ে দিতেই হবে। তোমাদের বড় বোন একজন আমেরিকায় আসায় তোমরা সুযোগটা নিলে। সত্যিই তোমরা হয়বান মহৎ, তোমরা আমার প্রতি নির্দয় হতে পার নি। সে আমাকে লেকের ধারে বেড়াতে নিয়ে গেল। বেঞ্চে বসে লেকের পানির তিরতির করে বয়ে চলা দেখছিলাম। হাঁস ভাসছিল নির্ভয়ে নিশ্চিন্তে গা এলিয়ে জোড়ায় জোড়ায়। পাড়ে ঝাঁক ঝাঁক পায়রা। আমি বেঞ্চে বসেই একটা দুটো খৈ ছিটাচ্ছিলাম, আর পায়রাগুলো গুটি গুটি করে আসছিল আমার কাছে। আমি বেঞ্চ থেকে নেমে ওদের কাছে গেলাম, ওরা যেন আমাকে টেকে ধরল। ওদের বকবকুম ডাকে, পেখম মেলার শব্দে টে খাওয়ার ফাঁকে ফাঁকে ওদের আলাপন, একটু উড়া একটু বসা সব মিলিয়ে স্বর্গীয় আনন্দ যেন নেমে এসেছিল জায়গাটায়। ওদিকে আন্টি যে বেঞ্চে বসে বসে কিছু একটার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন শক্ত হয়ে, সেদিকে আমার মোটে খেয়ালই ছিল না। তিনি আমাকে কয়বার ডেকেছেন আমি সেটা বলতে পারব না। আমি লেকের হাঁস, পানি আর পায়রার শান্তিময় আনন্দের মধ্যে ডুবে ছিলাম, মনে হচ্ছিল যদি ওদের মতো ভাসতে পারতাম কিংবা ওদের মতো উড়তে পারতাম? হঠাৎ চমকে তাকালাম, যখন খুব জোরে আন্টির মুখে আমার নাম ধরে ডাকতে শুনলাম । তোমরা সব আমাকে নাজি ডাক। বেশ ফর্মাল কিছু না হলে আনজি বলে কেউ ডাক না। কিন্তু আন্টি এমন করে আর এতো জোরে আনজি বলে ডেকেছিল সে আমি চমকে তাকিয়েছিলাম, হাত থেকে খৈয়ের গ্লাসটা পড়ে গিয়েছিল আর সবকটা পায়রা একসাথে ডানাঝাপটা দিয়ে উড়াল দিয়েছিল দূরে। আমি আন্টির মুখের দিকে তাকালাম। আরক কঠিন মুখ আর ঠান্ডা দুটো চোখ আমার উপর স্থির। ভয়ে আমার পায়ের তলা থেকে শিরশিরে একটা ঢেউ পিঠ বেয়ে উঠে গেল উপরে। ভাবলাম আন্টির কি কিছু হয়েছে, স্ট্রোক বা অন্যকিছু। আমি একটুক্ষণ ভাবলাম একন আমার কি করা উচিত। এর মধ্যেই আমি আর একবার তেমনি ঠান্ডা গলায় আমার নাম ধরে আন্টিকে ডাকতে শুনলাম। স্বস্থি পেলাম আন্টির কিছু হয় নি বলে । আমি তখন স্ট্যাচুর মতো স্থির হয়ে বসে আমার জীবনের সত্য অথচ নিষ্ঠুর কথাগুলো শুনলাম। আন্টির সাথে একেবারে ভিন্ন মানুষ হয়ে বাড়িতে ফিরলাম। আন্টি আমার পিঠে হাত রেখেছিল সারাটা পথ। আমি আমার মধ্যে কতটুকু ছিলাম জানি না কিন্তু তখন এতটুকুও চোখের পানি পড়েনি। কিন্তু এখন লিখতে বসে কি যে হচ্ছে, বার বার চোখ মুছতে হচ্ছে। বাসায় আমার জন্য নতুন পোশাক কিনে রেখেছে, আমাকে সারপ্রাইজ দেবে বলে, আমি সেই পোশাকেই আছি, আজ যে আমি এই পরিবারের নতুন একজন। আমরা লেক থেকে ফিরে এলে তোমরা বার বার আন্টির মুখের দিকে তাকাচ্ছিলে, তোমরা আন্টির মুখ দেখে আমার মুখ দেখে বুঝতে চেষ্টা করছিলে আন্টি আমাকে বলতে পেরেছে কিনা। আমি তখন জানি বলেই তোমাদের প্রত্যেকটা চাহনি শংকা আর ভাবনাগুলো বুঝতে পারছিলাম। আমি বরং তোমাদের ব্যাকুলতা আর অনুভূতি দেখে মনে মনে অভিভূত হচ্ছিলাম। রাতে কিছু খেতে ইচ্ছে করল না, দেখলাম তোমরাও না খেয়ে যার যার ঘরে গেলে। একটুক্ষণের মধ্যে আন্টি চলে যেতেই নিস্তব্ধ নীরব হয়ে গেল সারা বাড়িটা। অথচ এখন আমার সিডিতে গানছেড়ে অংক করার সময়, ড্যাডি, তোমার তো খবর দেখার কথা বি.বি.সি.তে। মাম্মি তুমিও সিএমই ডকপিসি—তনামিকা হক ডক আগামি দিনের খাবারের প্রস্তুতি না করে উপরের ঘরে চলে গেলে। বুঝতে পারছি ড্যাডি ঘরময় পায়চারী করছে, কাঠের বাড়ি, যদিও কার্পেটে মোড়ানো তবুও উপরে হাঁটাহাটি করলে নিচ থেকে বোঝা যায়। আমার ঘরে আলো জ্বলছে, আমি লিখছি, কিন্তু এসব কি লিখছি কেন লিখছি জানি না। কি আমার করতে হবে কিংবা করব বুঝতে পারছি না এখনও। কিন্তু আমার পথ তো আমাকে দেখতেই হবে। আজ কিংবা কাল । আমার ঘরে সারারাত আলো জ্বলছে। রাত বাড়ছে ড্যাডির পায়ের শব্দ আমার ঘর পর্যন্ত এসে ফিরে ফিরে যাচ্ছে, বুঝতে পারছি ড্যাডি আমার উপর নজর রাখতে চাইছেন। আমাকে একা থাকতে সাহায্য করছেন কিন্তু এও বুঝাচ্ছেন যে তিনি কাছেই আছেন। হঠাৎ বুঝি ডুকরে কেঁদে উঠেছিলাম, ফোঁপানো কান্না হয়ত ক্রমশই ডুকরে ডুকরে উঠেছিল। দরজায় মৃদু টোকা শুনলাম বুঝলাম ড্যাডি ঘরে এসে মাথায় হাত রাখলেন । আমি দেখলাম পিছনে মাম্মিও এসে দাঁড়িয়েছিল। ইচ্ছে হচ্ছিল ভীষণ ইচ্ছা হচ্ছিল ওদের বুকে ঝাপিয়ে পড়ি। কিন্তু কিসে যেন বাঁধাছিল। মাম্মি পাশে বসলেন, আমার চোখ বেয়ে অবিরল ধারা, হাতে কলম, একটু আগেও কি যেন লিখছিলাম। খাতার পাতা ভিজছিল চোখের পানিতে । ড্যাডি খাতাটা সরিয়ে দিলেন পিঠে হাত রেখে বললেন, তোমার আরেকটু জানতে বাকি আছে মা। আমি ভেজা ব্যাথাভরা ভারী চোখ টেনে তার দিকে তুললাম। চোখে কৌতুহল বা ভীতি কোনো কিছুরই শক্তি তখন আর নেই আমার । বললেন, তোমার ঠিকানা রাখিনি। কেন রাখিনি জান? আমরা রাখতে পারিনি। চেষ্টা করেও পাইনি। জানতাম একদিন তোমার আজকের অবস্থা আসবে। কিন্তু তোমার রীরঙ্গনা মা তার আসল নাম এতিম খানায় রাখেনি, এমন কি ঠিকানাও। আর তোমার বাবা, সে যে বাঙ্গালি না ভিনদেশি তাও তো হয়ত তোমার মা রাতের আঁধারে চিনতে পারেনি। তোমার ঠিকানাতেই তুমি দাঁড়াবে । আমি সারারাতের লেখা কাগজগুলো টুকরো টুকরো করে ছিঁড়লাম ।