রমণী লোভ

অনামিকা হক লিলি।
রিকশাটা হঠাৎ করেই জিগাতলার মোড়ের ভিড়ে থামল।রিকশাওয়ালানেমে তার পিছনের কোন চাকার কাছে গেল। এমন তো কতই হয়।ভাবলাম সেনা পড়েছে।মিনিটদু য়েক দেরি করলেও সে।রিকশাটা দুই বারএকটু এদিক ওদিক ঝাঁকাল, কাঁপাল,ঝাঁকি খাচ্ছি আমিও।রিকশার আমি একাই আছি।হাতেকাঁচাবাজার ও ইত্যাদি।ঘামছি দরদর করে।বললাম কি হলো তাড়াতাড়ি করো।রিকশাওয়ালা সেন তুলেছে বলল।আর বলল।সে যেন কী এক্টা পেয়েছে চাকার নিচে।সে জিনিসটা এবার নিয়ে এলো আমার কাছে।ধূলা ঝাঁঝালো।বাড়িয়ে দিল আমার হাতে।গিয়ে বুঝলাম কিছু একটাজিনিস হাতে জড়ানো আছে।রিকশাওয়ালাতখন গামছা দিয়ে তার ঘাম মুছছে আর আমার হাতের দিকে না তাকিয়ে জিজ্ঞাসা করল।আপা কী ওটা? বললাম বুঝতে পারছি না।তুমি দেখো বলে ওর দিকে এগিয়ে দিলাম আমি।হাত বাড়িয়ে নিয়ে জড়ানো কাগজ ধীরে ধীরে খুলল।আমার তখন এটা ধারে ভয় আর কৌতূহল কাজ করছে।যে কত রকমবাদুড় তা দূর থাকে।আজকার কি যেন কি ক্ষতি হয়ে যায় ব্লাস্ট করে।কিন্তু ওই মুড়ে ক টা অত বড় মনে হচ্ছে না।কী হতে পারে? তবে এটাই কৌতূহল।তার রিকশাওয়ালা কাগজ খুলে ভয় ভয় কাঁপা গলায় বলল।আল্লা এটা কী?এসে দেখি সোনা।এই বলে আমার সে আমার দিকে হাত বাড়িয়ে দিল।বলল আপা পরে দেখেন তো এই কাগজে কি না লেখা আছে।আমারও তখন কেমন যেন লাগত।তাড়াতাড়ি বললাম।লেখা আছে ঘরে যতটুকু সোনা ছিল গলিয়ে একসাথে করে পাঠালাম।বিশুদা তুমি আমার একমাত্র বিশ্বস্ত জন।আমাদের সেনা শিবুদার সোনার দোকানে গিয়ে আমার মেয়ের জন্য এক সেট গয়না বানিয়ে আনতে।জানো তো ওর বিয়ে ভাদ্র মাসে হচ্ছে।দেখবে যেন গহনা গুলা আধুনিক হয়।তাই আজকালকার মেয়েরা পুরানো জিনিস পছন্দ করে না বলে আমার খাট সোনা গলিয়ে পাঠাতে হল।ইতি তোমাদের গণেশদা।পড়তে পড়তে আমার হাতও কাঁপছিল।সোনার দলাটা আমার মুঠায়।রিকশাওয়ালা বলল, আপা আমি এমন কী করব আপা।আমিওবুঝলাম না ওকে ঠিক কী বলি।তাই শেষে ওই বলল।আমিএই সোনা নিয়ে সোনার দোকানে গেলে আমাকে দোকানদার চোর বলে ধরবে।চিঠিটা ঠিকানাও তো নাই না আপা।না হলে তো এখনি আপনাকে সাথে নিয়ে ঠিক জায়গায় দিয়ে আসতাম।বলেন তো আপা মুশকিলে পড়লাম। এখন তো আমাকে পুলিশে ধরবে।আমার হাতে সোনার টুকরো দেখলে নির্ঘাত ভাববে। আমি চিন্তাই করছি।এখন কী যে করি?আমি আসলেও কোনও উত্তর দিতে পারছিলাম না।মধ্য প্রায় মিনিট তিন চারেক চলে গেছে।পিছনে ভিড় জমে উঠেছে।বলে রিকশাটা আরেকটু ধারে নিলহঠাৎ করে রিকশাওয়ালা বলল।আপা আপনি নিয়ে নেন সোনা তা।সোনা বলে কথা।মেয়েমানুষ কি না?তাই একটু বোধহয় বিচলিত হলাম।ভাবলাম,বললাম,তা তুমি কত নেবে বলো?ঋ রিকশাওয়ালা বলল।আপনি হাতে একট ওজনে বলেন।দইতিন ভরি তো হবেই তাই না আপা।দোকানে গেলে আমি অনেক টাকা পেতাম।আর রিকশা টানতে হত না।আল্লাহ আমারে দিল।কিন্তু এমন করে দিল যে আমার উপায় নাই। এটা কাউকে দেখানো।ততক্ষণে আমাকে শোনাটা প্রায় পেয়ে বসেছে।আমি কেন যে ক্রমশই আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছি লোভে।বললাম, অত কথা থাক তুমি কত নেবে বলো।কত নিয়ে বিক্রি করবে?তিন চার হযাযার পারেন দেন আপা।বললাম, অত পারব না।মনে ভেবে দেখলাম বর্তমানেব্যাগে আর বাড়িতে গিয়ে,দুয়েকের বেশি পারব না।আমি তাই বললাম।বলল, পাশের ফ্ল্যাট বা কারও কাছ থেকে নিয়ে আপা। আপনি না হয় তিনি দিয়ে দেন।বাসার সামনে এসে নেমে ওপরে উঠছি।বলল, আপা সোনাটা নিয়ে যাবেন।তাহলে আপনার ব্যাগে যা টাকা আছে সেটুকু অন্তত দিয়ে জানআপা। ওর ব্যাপারটা বুঝলাম।যদি আমি সোনাটা নিয়ে গিয়ে পাঁচে আনা নামই বা অস্বীকার করি।যে বইটি।ঘেঁটে ঘেঁটে খুচরো টাকাগুলো সহ চারশো সাতান্নবই টাকা দিতে পারলাম।বললাম বসো নিচে আমি বাকি টাকা নিয়ে আসছি।উপরে উঠে দেখি ছোট সেলে বাসায় ফিরেছে।ও বুয়েটে পড়ে।বললাম, তোর কাছে কত টাকা হবে বাবা দেখত।আমিও গেলাম। আমার আলমারি খুলতে।ছেলে বলল কেন মা?টাকা কী হবে?রিকশা ভাড়া এত ঘামছে কেন মা?তুমি আলমারি খুলবে আমার।আবার কাছে টাকা চাচ্ছো এ তো অস্থির লাগছে কেন মা তোমাকে।বললাম পরে বলছি থাম।₹১৫০০। আগে নীচে শার্ট পরা রিকশা আল আটাকে দিয়ে আয়।দেনাতোর কাছে একটু আ টু যা আছে দিয়ে না।গরিব মানুষটাকে একটু না হয় বেশি দিয়া থাক।এত টাকা রিকশাওয়ালাকে কেন মা?আমি তখন ছেলেকে ঘটনাবলী।ব্যাগ খুলে দেখলাম সোনার দলাটা।ছেলে হাতে নিয়েই সন্দেহ করল মা এটা শোনা।এতটা সোনা তুমি ঠিক জানো সোনা।আমারও বোধহয় ঘোর কাটল।ভাবতে পারলাম তাই তো এটা যে সোনাই তা তো জানি না।বললাম, তাহলে বাবা চলো না আমার সাথে।ওই রিক্সা নিয়ে সোনার দোকানে।পরীক্ষা করে আনি।সি এলে তৈরি হতে মিনিট দশ পনের মিনিট লাগল তার পর নীচে নামলাম। নেমে দেখি কেউ কোথাও নেই।না রিকশা না, রিকশাওয়ালা।আমি বিস্ময়ে বোবা হয়ে গেলাম।ছেলে বলল, আমি এমনটাইআশঙ্কা করছিলাম।আমার তখন প্রায় কেঁদে ফেলার অবস্থা।ছেলে ধরে ধরে সিঁড়ি দিয়ে উপরে তুলল আমাকে।নির্বোধ আলু ভয়ের কারণটা ভেবে নিজেকে ক্ষমা করতে পারছিলাম না।নিজের লজ্জা মানুষ ঢাকতে চায় কিন্তু আমি প্রকাশ করছি।এমন ফাঁদে যেন আর কেউ না পড়ে।আমার এর উপর দিয়েই যাক।আমার চারশত সাতানব্বাই ইউপর দিয়ে যাক।
Read Also :-
Labels :
#Bangla Golpo ,#Bangla Kobita ,#Bangla Romantic Story ,#Love Quotes ,#রমণী লোভ ,
Getting Info...