পদধ্বনি - Pododhwoni

পদধ্বনি,Pododhwoni

পদধ্বনি।



দুপুরবেলা সেলাইয়ের মেশিন নিয়ে বসেছিলেন হোমায়রা বেগম বেশি কিছু না। শুধু বালিশেরদ দুই কাপ আর সেলাই করবেন।একেবারে সোজাসাপটা।আমাদের সময়ের যত তত ধনচি এখন নেই।চারপাশে কুচি দেওয়ার ঝামেলা নেই।উপরে নকশা করবার দরকার নেই।এমন কী ক্রসেরইঙ্গিত চলে না বালিশের কভারের পাশে।কোনও ধূমচী মনে হলেও তখন মোটেও তা মনে হতো না।কত আনন্দের সাথে না নতুন নতুন ডিজাইন সব করতেন তাঁরা।কত কত সুন্দর সব ফুল লতা পাতা,প্রজাপতি ময়ূর আর নামীদামি  কোটেশন।কার ভরাট কাজ কত সুন্দর আর তার রঙের মিশ্রণে রুচি এ নিয়ে ভিতরে ভিতরে দিব্যি প্রতিযোগিতা চলত মনে মনেসারা পাড়া জুড়ে।ভোটে একটু মুচকি হাসি।একটু মুচকি হাসি খেলে যায় হোমায়রা। এই।কোনায় প্রজাপতি করায় কটা রুমালের ছোট এ কটা স্মৃতি দোলা দিয়ে যায় মনে।মেশিনটা কে এ কটা জল সুকিরউপরে তুলে তিনি মোরা নিয়ে বসেন।একটু কষ্টই হয়।বেশ ভারী।ভাগ্যিস কট।করে লেগে যায়নি জায়গায়।মেয়ে বলেছে, এই বয়সে একটু সাবধানে থেকো,তাই হুট করে কিছু হয়ে গেলে সারানো মুশকিল।আগে যা যা করেছ সেগুলো এখন আস্তে ধীরে করো।মেয়ে মেডিকেলে পরে যে ভাবে বলে ,মনে হয় অকাট্য যুক্তি।যাতে বারবার উড়তে না হয় সে জন্য সুতোর কোটা সুই  সুতা সব হাতের কাছে নিয়ে নেয়।তার পর মাপের জন্য বালিশটাও।হুমায়রা টেপ লাগে না,দিব্বি হাত আর চোখের মাপে ঠিকঠাক হয়ে যায়।ছুটতে ক্রমশ কত বানিয়েছেন ছোট ছোট বোনদের? ফ্রক ,কামিজ,সালোয়ার,পাঞ্জাবি,তা ছাড়া স্কুলের সিলাই তো ছিলই।এদিকে ভাবি দ্বিগুণ তিনি নিষ্পন্ন তিনি,তাঁর ভরা  বকেয়া শিলায় একেবারে মেশিনে সেলাই বলে চালানো যেতো। কেটে কেটে নিয়ে মেশিনে সুতা বদলে নেন।কাপড়ের রং অনুযায়ী।অনেকদিন পর বসছেন তিনি,আজকাল সাধারণত মেশিনটা ব্যবহারই হয়না।বেশি ভাইবোন আর তার মধ্যেও বোন বেশি থাকলে তবেই না মেশিনের দরকার।সে।সব কিছুই রেডি মেটের যুগের ব্যাপার আর কি।রেডিমেড সবাইরশ্রম কমে গেছে সময় বেঁচে গেছে।আরও কত কত যে সুবিধা।আজকাল নাকি আবার পড়াশোনা মানে সার্টিফিকেট,তাও নাকি রেডিমেড পাওয়া যায়।এককাপ খেতে ইচ্ছা করে হুমায়রা।সুই এ সুতো পরাতে গিয়ে একেবারে হয়রান হয়ে উঠছে।একবার ডাইনে যায় তো একবার বাঁয়ে নয়তো সুতোর মাথাটাই বেঁকে যায় ঠিক সময়মতো।বারবার পাকিয়ে নেন সুতা।যা জীবনে করেনি তাও করেন।থু থু দিয়ে ভিজিয়ে নেন আঙ্গুল। তার পর সুতো পাঠান।না তবুও না কিছুতেই সুতো ঠিক মতন শুইয়ে দিতে পারেন না।উঠে তিনি জানালার পর্দাগুলো সরান ঘরকে আলো করে নেন।দুপুরবেলা লাইট জ্বেলে দেন,কিন্তু তবুও তো আজ তাঁকে বারবার হতাশ করতে থাকে।কে সি দিয়ে সুতোর মাথা কাটতে কাটতেই হয়তো গ জখানেক। কাটা হয়ে গেছে তবুও হচ্ছে না।এ বারে রাগে দুঃখে কষ্টে জ্বালা করে ওঠে ভিতরটা।এককাপ চায়ের জন্য তৃষ্ণার্ত হয়ে ওঠেন তিনি।নিজেকেই সান্ত্বনা দেন,নিশ্চয় কোনও কারণে মনটা চঞ্চল আছে তাই,একটু পরেই ১স্থির হবে।এরমধ্যেই আলম এসে দাঁড়াল।ছেলেটা ভীষণ ভাল,কাজের ছেলে সে এত কাজের হয়। তিনি তার এই মধ্য বয়সের মধ্যেই একটা দেখলেন।বাসায় অবশ্য কাজ খুব বেশি নেই। তবুও সময়মতো সবকিছু একেবারে ঠিকঠাকসবচেয়ে আশ্চর্য হয়েছেন তিনি এই দেখে যে এই শীতের সকালে কোনওদিন তাঁকে ডেকে তুলতে হয়নি।এটা একা উঠে গরম পানি করে বালতিতে রাখে একেবারে দরজার পাশে।একেবারে প্রথম দিন যেমন তিনি বলে দিয়েছেন ঠিক তেমন তা ছাড়া এই যে এখন চায়ের দোকান।এটা কেমন করে যেন ঠিক ঠিক একেবারে বুঝে যায়।আর এটাও অবশ্য মন কাতার এ কটা ব্যাপার যে।আপা আর ভাইয়ের কথা বারবার জিজ্ঞাসা করে, যেআপা আর ভাইয়াকে সে মুটে দেখেই নাই তাদের প্রতি যে তাঁর এত দরুন।ঘরের ফুটোগুলো মুছতে মুছতে রুজি আলম শুনে আর রোজই হুমায়রার,বলেন,হুমায়রার ওই একটা ব্যাপারই অসীম আনন্দ আর বেদনা জড়ানো আর আলমের যেন শুনবার আগ্রহের শেষ নাই।মেয়ে তার ঢাকার বাইরে পড়ে।মেডিক্যালে,আর ছেলে তাঁর দেশের বাইরে।।বারবার চোখমুছে মুছে একি প্রসঙ্গের কথা চলে একজন বালক আর এক জন মধ্য বয়স্কের মধ্যে।শূন্যতার কোনও এক বিন্দুতে যেন তারা একাকিত্ব হয়ে যায়।হুমায়রা বলেন,আলম এসেছেন বাবা,তোর জন্যই যেন অপেক্ষা করছিলাম,বলত তুই কি করে বুঝলি যে আমার এখন চায়ের দরকার,মনে মনে আরও বেশি তারিফ করেন,সামনে বলেন কম,নয়তো বলা যায় না কবে দেমাগে পেয়ে বসবে।আলমের পায়ের শব্দ বা মেলাতে না মেলাতেই বেল বাজার শব্দ হয়।দুপুরেই বেলে শব্দটা খুবই আশাব্যঞ্জক হন হুমাইরা আর কাছে।  তিনি রোজ কান খাড়া করে থাকেন।কোনওদিন দুপুরে ঠিক মতো ঘুমান না পর্যন্ত।হুঁ।তিনি সিঁড়ি পর্যন্ত এগিয়ে যান।নিশ্চয় ডাকপিয়নচিঠি,থাকলে আলম এখনই নিয়ে আসবে।আলম এই দমবন্ধ করে থাকা অপেক্ষাটুকু ও বুঝে।আপনার চিঠি বাইরের চিঠি দিবি।চিনে গেছে।অবশ্য বিদেশে ঘ্যাম দেখলে বোঝা যায়।দৌড়ে সিঁড়ি ভেঙে নিয়ে আসে আলম।যেন এই আনন্দ হুমায়রার সাথে তার ও।এর আগে যে ছেলেটা ছিল সেটা চিঠির গুরুত্ব বুঝত না।খোলা অবস্থায় যদি বেল বাজিয়ে ওর হাতে দিয়ে যেত,তো সে সেটাকে নিয়ে যত্নেই রাখত,তবে তখনই হাতে দিত না।ভাবতো চিঠি একবার পেলেই হল।একসময় দিলেই হবে।সাহেব বেগম সাহেব নীচে নামুক তখন ওই না হয় দিও না যাবেএমন ভাব।বাবা বসাননি।ওই যে কথায় আছে।আবার বেল যে সবসময়ই ডাকপিওন দেয় তা নয়। কোনকোন সময় ফকিরও দেয়।আবারফেরিওয়ালাও।তবু উৎকর্ণ হয়ে থাকেন তিনি ডাকপিয়নের আশায়।ধুপ ধাপ করে সিঁড়ি বেয়ে দৌড়ানো শব্দই তিনি বোঝেন। আলম আসছে। চিঠি আছেআর হয়তো বিদেশের।আলম তখনই সব সিটি উপরে আনে কিন্তু তাঁর চলায় বোঝা যায় কোনটা গুরুত্ব কতটুকু।বিদেশি চিঠি একদমে দৌড়।সি দ্রুত হাঁটা আর যদি ডিম ইলে স্টিম বিল কিংবা টেলিফোনের বিল হয়, তবে সাধারণত হাঁটা। একটু আগে এবার ভাবছিলেন। তিনি আলমের কুচি চোখ দিয়ে শুয়ে সুতো ভরে নেবেন কি নাকিন্তু সে চিন্তা এখন আর এর দম মাথায় নেই।বেলের শব্দে তিনি সিঁড়ির শুকিয়ে গিয়ে দাঁড়িয়েছেন তাই আর আলামের দৌড়ে শব্দে রেসের প্রতিযোগিতা দের মতো তিনিও চিঠিটা ধরবার জন্য কিছুটা নেমে গেছে।আলম উঠছে। আর তিনি নামছেন।যেন মুহূর্তে সময় নষ্ট না হয়।মোরা এসে বসতে বসতে আলোতে উঁচু করে চিঠিটা দেখে নিলেন তারপর  কেসির একপাল্লা মেলে ধরে চিঠির জোড়ায় জোড়ায় খুললেন।উদ্ গ্রীব হয়ে তাকিয়ে আছে আলম।হুমায়রা বেগম শুরু থেকে চোখ মুছতে থাকেন।কেউ দেখলে ভাববে না জানি কোন দুঃসংবাদ আছে চিঠিতে,কিন্তু না,বিদেশে চিঠি পেলেই তাঁর এই অবস্থা হয়।কিছুতেই সংবরণ করতে পারেন না নিজেকে।টপটপ করে পড়তে থাকে প্রথমে গালে। তারপর চিঠির উপরে তার পর বুকে।আলম কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকে,সে চোখ মছে তারপর নেমে যায়।এরকম অবস্থায় কাপ চা করে নিয়ে ওপরে আসে আলম।হুমায়রা একটু স্বাভাবিক হলে কাপটা এগিয়ে দেয়তারপর জিজ্ঞাসা করে ভাইয়া কেমন আছে?নতুন করে আবার একবার পানি আসে হুমায়রার তবু ভাঙা গলায় চিঠিটা পড়ে শোনান তিনি আলমের মায়ের প্রাণের ব্যাকুলতা গুলো আলম ই যেন বুঝতে পারে।তাছাড়া চিঠি পাওয়ার পর পরই যে আবেগ সে আবেগ কি অন্য সময় এরকম থাকে?সাহেব তো ফিরবেন সেই সন্ধ্যার মুখে আর ছোট্ট ছেলেটা সে ও সেই বিকেলে।মাঝে মাঝে কোচিং সেরে ফিরতে ফিরতে তাঁর।রাত হয়ে যায়।তখন তাদের ক্লান্তির কাছে বিদেশের আসা সিটি শুধু এ কটা খবরের মতো হয়।অবশ্য দ্রুতই জিজ্ঞাসা করে তেমন কোনও খবর,হুমায়রা স্যুপ করে থাকেন।আলামি তখন বলে যে টুকু শুনেছে তাঁর মধ্য যেটুকু মনে রাখতে পেরেছে সেটুকু।ছোট ছেলে হাসে সাহেবও হাসে। তার পর সময়মত তারা চিঠি পরে একে একে।তাই মাঝে মাঝে হুমায়রার বিস্ময় লাগে।তাঁর রিলেরেগের ব্যাপারটা এরা দেখলে বোধহয় তাঁকে হাসিয়ে কাঁদাবে।চিঠি নিয়ে মোরা ছেড়ে বিছানায় বসেন হুমায়রা।ছাঁটার জন্য বারবার আলমকে প্রশংসা করে লেখা লাইনগুলো পড়ে শোনান তিনি।এখানকার চা য়ে কোনও স্বাদ নেই।একই রকম করে দই দেয়,চিনি দেই,সোন্দর প্যাকেটের চা ,সাইকো ওয়েবে ফুটিয়ে নেই তবু কেমন যেন ম্যাড়ম্যাড়ে করে।তোমার হাতে করা চায়ের মতো রঙ ফুটে না স্বাদ লাগেনা।হুমায়রা আলমকে বলেন,তুই ভাইয়ের কাছে থাকলে বেশ হত,ভালো চা খেতে পেত।কান্না হাসি জড়ানো গলায় চিঠির দিকে তাকিয়ে বলেন পাগল ছেলে।আলম মেশিনটা সিটির জায়গায় তুলে যেমন ছিল ঠিক তেমন করে ঢেকে রাখে।সেজানে আজকে আর শিলাই করা হবে না। হুমায়রা ও জানে সে কথা তাই বাধা দেয় না।তা আজকে একবার নয়একাধিকবার চিঠিটা পড়বে আর পড়বে,কাঁদবে চোখ মুছবে।শুকাবে আবার কাঁদবে আবার ভিজবে।তা সারা দুপুর এমনই কাটবে যতক্ষণ আর কেউ না আসে।আল ম সময়টা বারান্দায় একা একা কাটায়।কি যেন কি দেখে?রাস্তায় যানবহন বোধ হয়।হয়তো দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে রিকশা গাড়ি ট্রাক এসব গুণে।হুমায়রা এবার ঠিক করেছেন আলমকেএবার লেখাপড়া শেখাবেন।তাতে তারপরও দুপুরটা কাটবে আর আলামের ও লাভ হবে।আজকে আলম বারান্দায় যায়নি।বেশ কিছুক্ষণ পরে হুমায়রা দেখে আলম মেশিনটা তোলার পর ওখানেই মুখ নিচু করে এক হাতদিয়ে আরেক হাতের আঙুল খোটরাসে,খটকা লাগে হুমায়রার,জিজ্ঞাসা করে হাত পুড়িয়ে দিস নাকি নাকি কেটেছিস?কিছু বলেনা আলম,বারবার চোখ মুছে হাত দিয়ে,এবার ডান হাত একবার বাম হাত।ফিরে মাথা ব্যথা করছে,জ্বর এসেছে,এদিকে আয় তো দেখি কপালে হাত দিয়ে,হোমায়রা উৎকণ্ঠিত হয়ে ওঠেন,কাজের ছেলের প্রতি বরাবরই তাঁর মায়াঅনুভূতির কারণে অনেকেই সেই সুযোগ নিয়ে কাজে ফাঁকি দেয় অযথা শুয়ে শুয়ে থাকেপেট ব্যথায় অজুহাত দিয়ে।কিন্তু আলাম তো তেমন সেলেনা।যদিও মাত্র এক মাস হল এসেছে। তবুও তিনি ঠিকই বুঝেছেন।আলম তেমন ছেলে না,তবে কী হয়েছে?আহা পরের সেলে,কত দূরে এসে কাজ করে এরা,চিঠিটা বাস করে রেখে উঠে বসেন তিনি,স্লিপারে,পা রাখেন আলমের কপালটা দেখে এ কটা প্যারাসিটামল দিবেন ভেবে কেন মনে মনে,কোন উঠত না খাওয়া শরীরে এ কটা প্যারাসিটামল একে বারে মতো কাজ দেয়।এতে তিনি আগে পরীক্ষা করে দেখেছেন।কিন্তু আলম চোখ মুছতে মুছতে মিনমিন করে নিচু সুরে কী যেন বলছে বলে মনে হয়।কিরে কি বলছিস?একটু জোরে বল বাবা,বাসায় তো কে বকবারবা মাবারতো কেউ নেই।নাকি পাশের বাসায় কেউ?রাঙানি দিয়েছে।বাইরের কেউ কিছু বলেছে।আলমের গলায় এবার একটু উঁচু সুরে আম্মা আমার মনটা খুব খারাপ লাগছে,ভাইবোনগুলোর কথা মনে পড়ছে বারবার।মার কথাও।কোনওদিন তাঁদের ছেড়ে থাকেনি আগে।একেবারে সশব্দে কেঁদে ওঠে আলম।তাঁর কান্না জড়ানো গলায় বারবার বলতে থাকে।আম্মা আমার মাও আমার জন্য কাঁদে।আপনি যেমন ভাইয়ার জন্য কাঁদেন তেমনই।আপনার কান্না দেখলেই আমার মায়ের কথা মনে।ভাইয়া আর আপার সিটি আসলে আমার ভাইবোনদের মুখ ভেসে ওঠে।ওদের ছেড়ে কোনওদিন দূরে থাকেননি নাই আম্মা।আম্মা আপনি কিছু মনে নিয়েন না।আমি বাড়ি যাব আম্মা।আমি আমার মার কাছে আম্মা,ভাই বোনদের কাছে যাব।হোমায়েরা আলমের কাছে যান।মাথায় হাত রাখেন,কিছুই বলতে পারেন না,তার দুই চোখ পানিতে ভেসে যেতে থাকে।বলবার জন্য নানা কথা তার মনের মধ্যে আসেকিন্তু মুখে কিছুই বলতে পারেনা।চিরকাল কোন সেলে যে মায়ের বুকে থাকে না এ কথা তিনি কী করে এই বালক কে বোঝাবে?বড় হওয়ার জন্য।নিজের পায়ে দাঁড়ানোর জন্য যে একদিন মাকে ছেড়ে যেতেই হয় সে কথা তিনি কী করে এই অবুঝ নাবালক বালক কে বোঝাবে।এই বয়সে এটাই যে ন্যায্য চাওয়া।মায়ের কাছে যাওয়া।ভাইবোনদের সাথে একবেলা খেয়েও পিঠে পিঠ ঠেকিয়ে থাকার মধ্যে যে আনন্দ আনন্দই যে ওর সবচেয়ে বড় আনন্দ।এই মারামারি এই হাসাহাসি এতো এই অল্প বয়সেই।যখন আড়ি নিজেও বাধে না,তেমনই মুহূর্তও সময় না ভাপ নিতে।অথচ এরাই হয়তো বড় হয়ে একদিন একে অন্যের সুখ দেখবে না।এবার আড়ি হলে আর ভাব হবে না সারা জীবন ধরে।ছেলেমেয়ে দূরে থাকায় হুমায়রা বেগম আজকাল অল্পতেই বড় দুর্বল হয়।নাই কথাতে চোখে পানি আসে।স্বামীর ব্যাপার।কেউ মাঝে মাঝে বুঝতে চান না বুঝেও।আলমের কষ্টটা ব্যাথাটা কিংবা দুঃখটা হুমায়রা একেবারে অন্তর দিয়ে উপলব্ধি করেন।তিনি মনে করেন, ছেলেকে মায়ের কাছে যেতে বাধা দিলে হয়তো তার ছেলে বিদেশ থেকে আসতে পারবে না তাঁর কাছে,হয়তো সেল এর কোন?অমঙ্গলে হতে পারে।দুর্বল মনে এ রকম অবান্তর কিছু ভাবেন তিনি।কিন্তু যখন ভাবেন তখন কি এ ধরনের বিশ্বাস যেন কাজ করে।ব্যাপারটা আর তিনি ব্যাখ্যা করতে পারেননা।আর তাই অন্যকে বুঝতেও পারেন না।হুমায়রা পর দিন নিজেই উদ্যোগী হয়ে দেশের বাড়িতে পাঠিয়ে দেন আলমকে।যাওয়ার আগে আলম কদমবুসি করে যায়,হোমার আর ভালো লাগে।প্রাণভরে দোয়া করেন।মা আর ছেলে সুখে থাক।সেলে মায়ের বুকে ফিরে যাচ্ছে ভেবে আনন্দ বয়ে যায় দু চোখে।সে দিনের ফেলে রাখা বালিশের কভারের সেলাইটা করার জন্য আবার মেশিনটা বের করেন হুমাইরা।সুতা ভরতে গিয়ে আবার সেই একই নাকাল।শুধু ডান বাম আর ডান বাম।এই হয় হয় আবার হয় নাআসলে।ক্ষোভে দুঃখে কিছুক্ষণ কাঁদেন তিনি।তা এই অবস্থা। একটি প্রাণী নেই তিনি ছাড়া।এ কটাকুচি চোখ নেই যে সুতাভরে দেয়।তিনি কিছুক্ষণ ঘরঘর শব্দ তুলে ববি গুলো ভরেন।যতগুলো ছিল।একটু করে থামেন। কান পেতে থাকেন।বেল বাজে না তো?আলম নেই যে দৌড়ে চিঠি আনবে।বারবার চোখ তা মুছে কী যেন ভীষণ,ভীষণ রকম ব্যস্ত হয়।তা শুয়ে সুতো দিতে না পারাটা কি যেন কেন খুবই কাদায়।খুবই,তার ঝাপসা চোখে আঁচল দিয়ে ভাল করে মুছে নেন ,শুধু পর্দায় সরান না,জানালা খুলে দেন আলোর জন্য।বড় লাইটটা ও জ্বালান।ধুয়ে সুতো দিয়েই ছাড়বে জে দে।আবেগের ,রাগে,খোপে তিনি কাঁপছেন।তাঁর হাত কাঁপছে,আর প্রায় উচ্চ সুরে তিনি কাঁদছেন ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে।এ যেন পরাজয়,জীবনের কাছে যেন কী রকমের হেরে যাওয়া।এ যেন কোন্ মহাশূন্য তার হাহাকার।তিনি  জেদে জেদে দাঁত দিয়ে সুতো কাটছেন আর সুতো পাকাচ্ছেন বারবার। কখন যেন ঠিকঠাক শুয়ে সুতো দিয়ে ফেলছেন সেই মুহূর্তে টের পাননি।সুতোর মাথা টেনে লম্বা হওয়ায় তবে বুঝলে।মেশিনের সাথে কপাল রেখে কাঁপাচ্ছেন তিনি।এক কাপ চা খেতে ইচ্ছা করছে।আপাতত স্বস্তি যে তিনি অবশেষে পেরেছেন। কিন্তু কান্নায় ভেঙে যাচ্ছে ভিতরটা।জীবনে উত্থানের পরেই তাঁর পতনের প্রথম ধাপ শুরু।মধ্য বয়সে চশমার জন্য যাবেন,ডাক্তার বলবে,এত দেরি করছেন কেন?আরও আগে আসতে হত,নিজস্ব স্বকীয় যা কিছু এ ভাবে শেষ হয়ে যাবে একটা এ কটা করে।বেল বাজছে কী?বুঝি সিটি এল,মেশিন থেকে মাথা তোলে।কপালে ভাঁজ ফেলে চোখ শুরু করে অনেকক্ষণ ধরে তাকিয়ে থাকেন মেশিনটার দিকে।কত স্মৃতি জড়িত?কত সুখ? কত আনন্দ।টপটপ করে,পানি পড়ে লোহার মেশিনের গায়ে,আঁচল দিয়ে মুছে নিন যেন পরিষ্কার।করার জন্য এই চোখের পানি।আলম টাও চলে গেছে।বড্ড চায়ের দরকার।আস্তে আস্তেপিঁড়ি ভাঙেন চায়ের অজুহাতে আসলে দেখবেন সিটি এসেছে কিনা।সিটি পাওয়ার কান্নাটা যদি তাঁর এই কান্নাটা ভাসিয়ে নিয়ে যেতে পারে।
Read Also :-
Labels : #Bangla Golpo ,#Bangla Kobita ,#Bangla Romantic Story ,#Love Quotes ,#পদধ্বনি ,
Getting Info...

Post a Comment