ওকি ছলনা

ওকি ছলনা, oki cholona

ওকি ছলনা



তুমি সব সময় এ রকম কবি কবি ভাব নিয়ে থাক কেন বলতো, এতে তোমাকে যে মেয়েলী আর বোকা বোকা লাগে সেটা কি বুঝতে পার ? যদি বুঝতে পার তাহলে ছাড় । আমার ও রকম পুরষ একদম পছন্দ হয় না। কথায় কথায় কবিতার কণ্ঠস্বর যতই দৃপ্ত হোক । তোমার পছন্দ অপছন্দে, আমার কিছু যায় আসে না। নিশ্চয়ই জান যে স্বভাব কারও মরলেও যায় না। জবা রেগে উঠে বলে এও জান যে মানুষ চেষ্টা করলে স্বভাব বদলাতে পারে। আসলে আমি যে মোটেই বদলাতে চাচ্ছিনা। একথা বলেই আড়মোরা ভেঙ্গে পাশ ফিরে ফয়সল । বলে জানতে যে "আমি কবিতা ছাড়া বাঁচতে পারি না— অর্ধদিনও নয় সম্পর্ূ্ন দিন ত নয়ই" তুমি কীটস এর কথা যতই শোনাও না কেন আমি অত সব বুঝিনা, এসব কথা শুনতে সুন্দর কিন্তু স্বপ্নের মত অস্বচ্ছ। ফয়সল গেয়ে উঠে, তুমি যে আমার কবিতা জবা রেগে উঠে, ওই রকম কথায় কথায় এক লাইন করে গান, সেও ব সেও আমার অসহ্য। পারলে সবটুকু গাও । সে তো তোমার জন্য রেখে দেই। আসলে জবা খুবভালো গায়, একেবারে শুদ্ধ সুরে খোলা গলায়। বন্ধুরা বলে, বিয়ে হলে ভালই জমবে তোমাদের, একজন কবি একজন গায়ক। কিন্তু জবা জানে আর তাই বলে পার্থিব জীবনে এতে কি কোন হিত সাধন হবে ? চাল ডাল নুন তেল না থাকলে নৃত্য সঙ্গীত কবিতা চিত্রকলা কোনটারই কোন মূল্য নেই, মূল্য যথার্থতা পায় না । জবা আটপৌড়ে ঘরের মেয়ে, নৈমিত্তিকতার বেড়াজাল নিওই মাকে পার করতে দেখেছে। দেখেছে স্বল্প আয়েও সাজানো সংসারকে। দেখেছে চার ভাই বোনের আনন্দঘন মূহুর্ত, মা বাবার সাথে মধুর সম্পর্ক, সংসারের টানা পোড়েন দেখেছে কিন্তু মালিন্য দেখেনি, উক্ত কোন বাক বিতন্ডা শোনেনি বাবার আনা শাক মাছে মা দিন চালিয়েছেন নৈপুন্যের সাথে। বাবা মিতব্যয়ী, গুনে খরচ করেছেন কিন্তু কৃপনতা করেন নি। ওদের চার ভাই বোনেরই কিছু না কিছু বিশেষত্ব আছে লেখা পড়ার বাইরেও । জবা যেমন ভালো গায়, পারুল তেমনি ভালো ছবি আঁকতে পারে। শিমুল খেলাধুলায় চৌকষ আর ভাইটা । ছোট, নাম নয়ন। এখনও বোঝা যাচ্ছে না ও কিসে বিশেষজ্ঞ হবে, তবে হবেই সে বিশ্বাস তাদের আছে। ওরা যে কোন প্রতিষ্ঠানিক শিক্ষা নিয়েছে বা পেয়েছে তা কিন্তু নয়, রেডিও বা ক্যাসেট শুনেই গান ধরে ফেলে, ঘরে বসে জানালা থেকে দেখে বাইরের ছবি আঁকে। জবা বড় বেশী সাধারণ, শ্যামলা মেয়ের যা হয় আর কি, সবই সুন্দর তবু জড়তা যায় না। কিন্তু কবির চোখ তারা এড়াতে পারে না। তাঁরা লেখে শ্যামল রং রমনীর সুনামের কথা, শ্যামলা মেয়েকে নিয়ে গান বাঁধে, দেখে কালো মেয়ের হরিণ চোখকে। জবার একটু ভয় ভয় করে। ফয়সল বড় বেশী আয়েশের মধ্যে মানুষ হয়েছে। অভাব শব্দটার সাথে শুধু শব্দ হিসেবেই পরিচিত। জীবনকে বাযে নিয়েছে তরতর করে, মাসে মাসে নতুন কাপড় জুতো আসতেই থাকে । কোন কিছু তাকে কখনও চেয়ে নিতে হয়েছে কিনা জবার জানা নেই। জবার ভয় ভয় লাগে ফয়সলের খুব বেশী কাছে আসতে। ফয়সলের ঘরে আগে সে মাত্র একদিন এসেছে, তাও ওর অসুস্থাতার কথা শুনে। ভীরু হাতে মাথায় জলপট্টি দিয়েছিল, সেদিন হাতের সাথে বুকও কেঁপেছিল। ফয়সলের জ্বরের অতি উম্ম হাত যখন তার অতি ঠান্ডা হাতের আঙুলগুলি স্পর্শ করেছিল। মাত্র কয়মাসের পরিচয়। নবীন বরণে নবীনদের পক্ষথেকে গান গেয়েছিল জবা। প্রশাংসা সবার সেই সাথে ফয়সলের কিন্তু দুদিন যহন ঘরে একটা চিঠি এলো, কাঁপা হাতে খুলল জবা, খামে গান গাওয়া অবআর একটা ছবি। জবা নিজের ছবি নিজেই চিনতে পারছিলা না, সে কি সত্যিই এতো সুন্দর। পাসপোর্ট সাইজের ছবি বিভিন্ন সময় ভর্তির জন্য আ তুলেছে, বাসায় গ্রুপ ছবি এই যা। কিন্তু একা একা বিশেষ ভঙ্গীমার কোন ছবি কখনও তোলেনি। সেদিন এলো খোঁপায় ফুল গোঁজা আর তাঁতের লাল পেড়ে শাড়ি সবার জন্য নির্ধারিত ছিল, সেও তাইই পড়েছিল। তবে চুলের গোছা আর লম্বার কারনে খোঁপাটি হয়েছিল নিবিড় আর ফুলটি বসেছিল নিবিষ্ঠ হয়ে। ছবিটি ঠিক সেই এ্যাঙ্গেলে জবা একবার দুইবার বারবার দেখলো তারপর উল্টোতে লেখা দেখে (নয়ন সম্মুখে তুমি নাই, নয়নের মাঝখানে নিয়েছ যে ঠাঁই। শ্যামলে শ্যামল তুমি নিলীমায় নীল, আমার নিখিল," ছবিটা দেখতে দেখতে যতটা ভালোলাগা কাজ করেছিল ঠিক এতটাই বুক কাপতে থাকল ভয়ে। কে ? কে ? কে সে ? প্রথমেই এই প্রশ্ন মনে হলো । জবাকে এমন করে কেউ কি কখনও ভেবেছে বা লিখেছে ? জবার জন্য এ এক ভীষন রকম অবস্থা নতুন রকম অনুভব। মেয়েদের স্কুলে মেয়েদের কলেজে পড়েছে, আসতে যেতে অনেক কথাই শুনেছে, কিন্তু মা বাবার কথা মত রাস্তায় চোখ রেখে চলেছে। আজ একি হল জবার, হলের ঘরের আলো এতো বেশী উজ্জল লাগছে কেন। ভয়ে লজ্জা নাকি আলোর ঝলকানিতে দুইহাতে চোখ ঢেকেছিল জবা। অনেকক্ষণ সে সোঙ্গাবেই বসে ছিল। হাত ভেতরে সে পানির আভাস বুঝেছিল। কিন্তু সে কান্না ভয়ের না আনন্দের, গৌরবের নাকি অপমানের বুঝতে পারেনি। সেদিন তার ডাইনিংয়ে যাওয়া হয়নি। জবা জানে, কান্না আনন্দ বেদনা দুটোরই প্রকাশ, কিন্তু একান্নার কি অর্থ সেটাই তার কাছে দুর্বোধ্য। সে রাতে ঘুম হয়নি। ক্লাস সকাল নয়টায় । নীল তার পছন্দের রং । সব জামাতেই তার কিছু না কিছু নীলের ছোঁয়া। আজ তার প্রথম মনে হলো কোন জামাটা তাকে সবচেয়ে বেশী মানাবে । একটু লজ্জাও পেল মনে মনে তবু আগের মতই চোখ মাটির দিকে রেখেই রওনা হল। গেটের বাইরে পা রাখতে রাজ্যের লজ্জা এসে তাকে একেবারে কুঁকড়ে ফেলল। মনে হচ্ছে যেন সবাই ওর দিকেই তাকাছে। ভীষন এক অপরাধ যেন সে করে ফেলেছে। ওড়নাটা বার বার টানতে লাগলো ঠিক করতে লাগলো । ভাবছিল কত তাড়াতাড়ি সেমিনার রুমে পৌছাবে সে। এব কিন্তু তার আগেই বেজে উঠে কাতার সুর, ভরাট কন্ঠের মায়াজাল কবিতা নয় আকাশে বাতরে আন্দেলিত হচ্ছে মায়াময় শব্দ তরংগ সে তরঙ্গ ভেংগে বেলাভূমির মত সিক্ত হচ্ছে সে, সর্পিল রেখা যাচ্ছে তীরে তীরে, একি হলো তার। পা কি কাঁপছে, পলকের জন্য মুখ তুলেছিল, কি দেখেছিল সে কিছু কি আদো দেখেছিল গাড়নীল প্যান্টে হালকা নীল সার্ট অত্যন্ত ভালোলাগা মোহিত করার মত মউ মউ সুগন্ধি ছড়াছিল কবিতার মায়াজাল। বিমুগ্ধ সকাল, সুবাসিত মোহময়তার আবির্থ হয়েছিল। কি দুর্বার দুরস্ত কবিতার কথা, কবিতার কথায় কি ভীষন বিস্ময় প্রকাশের জন্য কবিতার লাইনগুলো কি সে আগে থেকেই বাছাই করে রেখেছিল? বিস্ময় বোধের মধ্য দিয়ে অনিশ্চয়তা আর উৎকণ্ঠা? কবির প্রগাঢ় উপলব্ধি যেন যথার্থ উচ্চারিত হচ্ছিল, সেই মুহুর্তে তার কাছে অস্পষ্ট ছিল এটা কোন কবিতা, কার কবিতা । 'পুড়ে মরার ভয় না রাখে পতঙ্গ আগুনে ধায়, সিন্ধুতে মেটেনা তৃষ্ণা চাতক বারি বিন্দু চায়, চকোর চাহে চাঁদের সুধা চাঁদ সে আসমানে কোথায়, সুরুষ থাকে কোন সুদুরে সূর্যমুখী তারেই চায় । এরপরই উচ্চারিত হল বিনম্র বিনীত অর্থচ সুদুর কণ্ঠস্বরে, জবা তুমি যদি কবিতাকে ভালবাস তবে আমাকেও ভালবাসবে, তুমি গান ভালবাস ভাল গান গাও, কবিতাই গান হয়ে উঠে, হয় কবিতা । মান নিশ্চয়ই। জবার বিস্ময় কাটে না, কেমন এক ঘোর ঘোর অবাক করা বিহ্ববলতা কাজ করে, কিছু কি বলতে হবে তাকে এখন এই মুহুর্তে। বললে, কি বললে সে, কেমন করে বলবে, আর কাকেই বা বলবে। কে এই ভার সামনে দাড়ানো সুদর্শন। এ কি সুস্থ্য স্বাভাবিক ভাবে এই কথাগুলো এই কবিতা শোনাচ্ছে, নাকি শুধুই নেশায় বলে চলেছে, বলেছে এমনি কাউকে গত পরশু কিংবা কাল। একই কবিতা একই কথা কিংবা অন্য কিছু অনেক দিন ধরে । বেশ কিছুদিন জবা এড়িয়ে চলতে চেয়েছে কিন্তু কি এক দুর্বার আকর্ষন যে আছে ফয়সলের । সম্ভব হয়নি। তাছাড়া জাবার মত মেয়ে, তারা প্রথম নিবেদনকেই যথার্থ মূল্য দিয়ে ফেলে, দ্বিতীয় তৃতীয়তে ফিরেও তাকায় না । জবা ফয়সলকে বাস্তবমুখী জীবনমূখী করে তুলতে চেয়েও পেরে উঠছে না। ক্লাস করা, লাইব্রেরীতে পড়ার পর যেটুকু সময় হাতে থাকে সেখানে ফয়সল শুধু কবিতা লিখে পড়ে শুনায় নয়ত বিহারীলাল থেকে শুরু করে পূর্নেন্দ্রপত্রীর যে কোন একজনের কোন একটা কবিতা নিয়ে চুলে চুলে চেড়ে। আবৃত্তি করে ব্যাখ্যা করে ভুল পর্যন্ত ধরে। কিছুতেই বোঝানো যায় না এতে এতো এনার্জি লস কারা কি দরকার । অন্য কোন কথা ভোলার মত পরিবেশ তৈরী হয় না কোনদিন । সেদিন তাই জবা ঘরে এসে প্রথমেই এ কথা বলেছে। বোকা বোকা লাগে, মেয়েলী লাগে । একেবারে অপমানিত হবার মত কথা, অপমান হবার মত কথা, কিন্তু কিন্তু কি আশ্চর্শ কথাগুলো ফয়সল মোটা গায়েই মাখলো না। ফয়সল জানে সে মেয়েলী নয়, জানে সে মোটেই বোকা চেহারার নয় বরং উল্টো । কথার পৃষ্টে তাই বলে উঠল তোমার পছন্দ অপছন্দে আমার কিছুই যায় আসে না। জবার প্রায় কেঁদে ফেলার যোগার। কোন দিন কোন কথাই সে বলে উঠতে পারে না পারছেনা । গত এক বছর ছুটি ছাটায় বাড়ীতে কাটানো ছাড়া এমন হয়নি এমন দিন কমই এসেছে যে ফয়সলের সাথে দেখা হয়নি কথা হয়নি। কিন্তু কথার শুরু আর শেষের মধ্যে কোন পার্থক্য পায়নি জবা। সেই দিন থেকে এই পর্যন্ত সেই একই ভাবের ঘোরের মধ্যে রয়েছে জবা। জবা পরিনতী খুঁজে পায় না। এর পর নিয়ে কোন কথাই কোনদিন হয় না। শুধু আজ নিয়ে চলে ফয়সল, কাল পরশুর ভাবনা নেই কোন ৷ জাবার বুক কাঁপে।  ফয়সল আর জবার জুটির কথা হলের সবাই জানে, ডিপার্টমেন্টেও জানা হয়ে গেছে, বাড়িতে বা মা চাচাদের কানে গেলে কি জবাব দিবে জবা, জবা বিমর্ষ বোধ করে। ফয়সলকি তবে স্বপ্নের মত অস্বচ্ছ হয়ে থাকবে ? গত দুই মাস বিভিন্ন ভাবে ক্লাস হচ্ছে না, হলে থেকে খরচ বাড়ানোর মত তেমন স্বচ্ছলতা জবার নেই, অনেক বড় বন্যা গেল অনেক অনেক বর্ষন গেলো, জবা দেশের বাড়ীতে। ডাক বিভাগ কি বন্দ নাকি? জবার অস্থিরতা বাড়ে। পড়াশুনা যা হয় তার চেয়ে বেশী সময় চিন্তা ভাবনায় কাটে, আবেগ তাড়িত কান্নায় কাটে। ফয়সল কি দু কলম লিখে খবরও নিতে পারে না? ফয়সল তো ঢাকায় থাকে, ঢাকার আর কি অসুবিধা, প্রতিদিন শত শত লোক ঢাকায় যায় শুধু সুবিধার জন্য। ফয়সলের জন্যই তো সুবিধার মধ্যে, না চাইতে পাওয়ার মধ্যে। কথাটা ভেবেই হঠাৎ বুকটা কেঁপে ওঠে জবার । তবে কি জবা ওই না চাইতেই পাওয়ার মধ্যে একজন ! আস্তে আস্তে স্থি হয় জবা, বাস্তবতা তাকে স্বপ্নের স্বচ্ছতা কাটাতে সাহায্য করে । সে চোখ বন্দ করে শোনে ফয়সলের কণ্ঠে, যেন সত্যিই শুনছে। 'আমি নৃত্য পাগল ছন্দ আমি আপনার তালে নেচে যাই আমি মুক্ত জীবনান্দ ! ' টানা তিন মাস কাটিয়ে হলে ফিরে এলো জবা। তেমনি ভীরু পায়ে ক্লাসের জন্য গেল। ফয়সলের উদ্দেশ্যে প্রতিক্ষিত চোখ দুটো এদিক ওদিক তাকালো, শুধু তাকানো নয় খুজলো যেন। ওবেলায় ফয়সলের ডিপার্টমেন্টের দিকেও গেল, চুপি চুপি লাইব্রেরী, টি এসসি, যেখানে সচারচর তাদের আনাগোনা যাতায়াত বসা সবত্রই গেল জবা। এখনও তেমন জমজমাট হয়ে উঠেনি। ছাত্রদের ভীড় না। থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শুন্যতা যেন তার মতই একা একা। দিন কয়েক একা একা ঘোরে জবা, জমজমাট ক্লাস শুরু হলে ফয়সল ক্লাস করবে, ঢাকায় থাকে, হয়ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সব খবরই রাখে ৷ জবার মোবাইল নেই, জবাদের বাড়ীতে ফোন নেই, আর অন্য কোথাও বা কারও কাছ থেকে ফোন করতে জবার একদম ভালো লাগে না। দুরের একটু কন্ঠস্বরের চেয়ে অপেক্ষা তার কাছে অনেক মধুর। বিশ্ববিদ্যালয় আবার জমে উঠল, দলে দলে রেশারেশী, শিক্ষকদের ভেদাভেদী, বটতালা, আমতলা বেদী, মাজার সর্বত্রই জমাট আগের মতই। শুধু ফয়সল ফিরল না। শুনেছে এরই মধ্যে সে বিদেশে গেছে। বিহ্ববল হয়ে ভাবে, তাকে একটু জানালোও না ! বিহ্ববল হয় কিন্তু আশ্চর্য হয় না জবা। তার ভালোলাগা ভাবে গান সত্য হয়ে যায় । 'বেদনা মধুর হয়ে যায়, তুমি যদি দাও ।
Read Also :-
Labels : #Bangla Golpo ,#Bangla Kobita ,#Bangla Romantic Story ,#Love Quotes ,#ওকি ছলনা ,
Getting Info...

Post a Comment