নিজ্ঞান মন

নিজ্ঞান মন

নিজ্ঞান মন

অনামিকা হক লিপি (প্রফেসর বেগম অধ্যক্ষ গুলবাহার)

অধ্যক্ষ সহকারী বিজ্ঞান কলেজ, ঢাকা।

 তুমি জিবন্ত আগ্নেয়গিরী দেখেছ ? আগ্নেয়গিরী ! তাও আবার জিবন্ত ? যে কি দেখা যায় নাকি ? তুগোলে পড়েছি টেলিভিশনে দেখেছি, ছবিতেও দেখেছি, সেতো লাভা স্রোত। আগুন মেশানো গলিত পাপর মাটি, কাদা, পানি, আরও অনেক কিছুর প্রচন্ড গতিময়তা সে লাভাস্রোতে। সে সব মানুষ নিজ চোখে দেখে নাকি ? মাইল ব্যাপি বিস্তৃত হয়ে ছুটে আসে, নিমেষে গ্রামের পর গ্রাম উজার, আর তুমি তাকে দেখার কথা ভাবছ ? পারও বটে উদ্ভট অদ্ভুত কথা বলতে আর ভারতে। কি হয়েছে তোমার বলত ? প্রশ্ন করে কবিতা । তবে কি তুমি মৃত আগ্নেয়গিরী দেখেছ ? না বাবা না, আমি সেটাও দেখিনি। তাই সব আগ্নেয়গিরীর আর তার জ্বালামুখ আমার দেখার দরকার নাই, পাহাড় পর্বতের কথা ভাবলে আমার এক ধরনের চাপা কষ্ট হয়। কি কঠিন অব্যক্ত যন্ত্রনা যে ওদের সহ্য করতে হচ্ছে। না পারে কিছু বলতে না আছে কিছু অভিব্যক্তি। আমি তোমাকে সেই কথাটাই বলছি, মানে বলতে চাচ্ছি। আগ্নেয়গিরী অগ্নুৎপাত হচ্ছে কথা বলতে না পারার প্রচন্ড ক্ষোভের প্রকাশ গভীর বেদনার রূপ, লাঞ্চনার প্রতিবাদও বলতে পার । মাসুম, তুমি প্লিজ একটু চুপ কর। আমি চুলার ভাত বসিয়ে একটা উপন্যাস ধরেছি। প্রথম পরিচ্ছেদটা পড়া হলে একবার নাড়তে যাব, দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ শেষে টেবিলে খাওয়া লাগান, খাওয়া “শেষে উপন্যাসটা শেষ করে তবে ঘুমাব, তারপর সকালে আবার অফিস আছে বুঝেছি ? না কবিতা না, তোমাকে যে আমার কথা ধের্য্য ধরে শুনতেই হবে। আজকে তোমার কথা কি না শুনলেই না ? খুব কি জরুরী কথা ? তুমি আগ্নেয়গিরীর কথা বলছ। সে কথা দুদিন পড়ে শুনলেই চলবে, কিন্তু আমার যে উপন্যাসটা শেষ না করলে মোটে সময়ই করতে পারব না। ঈদের ছুটি যে শেষ সে কথা কি মনে আছে ? গতকাল বাড়ী থেকে এসে অবধি কি যে এতোশতো ভাবছ। টুকটাক বাজারের কথা বললাম, বললে না মোটে ভালো লাগছে না। গায়ে জ্বরটর কিছুই তো দেখছি না। বাসের ঝাকুনীতে একটু গা ব্যাথা হতে পারে, সেজন্য মনে যে ব্যাথা হবে তা তো নয়। ওই সব সেন্টিমেন্ট ব্যাথা এমন কি ছেলেদের মাথা ব্যাথাও আমার সহ্য হয় না। কিন্তু তোমাকে তো এরকম কখনও দেখিনি। আমি চাচ্ছিলাম তুমি বাজার করে আসলে আমি চার পাঁচদিনের কিছু রান্না ফ্রিজে রাখতে পারতাম, তা আর হলো না । কাজের মেয়েরা বাড়ী গেলে কোনদিনই যে ঠিক সময়ে আসে না সে তুমি জান । না তুমি একটু সাহায্য করলে না একটু সুস্থির থাকতে দিচ্ছ আমাকে। নিজে সুস্থির না থাকলে কি করে তেমাকে রাখি বল। বাড়ীতে গিয়ে এবার যা শুনে আসলাম, সে না আমি কাউকে বলতে পারছি না সহ্য করতে পারছি। পরিবারের মান সম্মান রাখতে পারব কি না সেটাই বুঝতে পারছি না। এবারে সচকিত হয়ে উঠে কবিতা, পাশে এসে বসে, উৎসুক হয়ে জিজ্ঞাসা করে, কি হয়েছে বলতো! এবার আমি যাইনি, তুমি গিয়ে কি এমন দেখে বা জেনে এসেছ? সে অনেক কথা, মাসুম এড়িয়ে যেতে চায় এতোটাই অসম্ভব আর অস্বাভাবিক কথা স্ত্রীকে বলতেও লজ্জা করছে তার। থাক থাক তুমি পরে শোন, বরং এখন সাংসারের কাজগুলো হাতে হাতে সেরে নেই, আমি কফি করি, তোমার তো আমার করা কফি পছন্দ । কবিতা হাসে, বুঝতে পারে, মাসুম এখন কিছু বলতে চাচ্ছে না, সে মাসুমকে জানে, মাসুম যে নিজেই একসময় তাকে বলবে সে ব্যাপারে সে নিশ্চিন্তে, তাই আর কোন চাপ সৃষ্টি না করে, বলে তুমি কিন্তু সত্যিই ভালো কফি বানাও। আমি নিজের কাজ বাঁচানোর জন্য বলছি না, তবে কাপ এগিয়ে নেওয়া আর ধুয়ে রাখাটা যদি করতে তাহলে খোল আনা হয়ে যেতো। ফেনায়িত কফি করার জন্য চামুচ দিয়ে খুব বেশী খট খট করতে থাকে মাসুম। সেই সাথে বলতে থাকে আচ্ছা বলত, বুড়োরা কি বুড়ো হলে সত্যি সত্যিই শিশু হয়ে যায় ? লোকে যা বলে ডাকি সত্য ? তুমি তো সাইকোলজির ছাত্রী ছিলে, বলতে পার পরিনত বয়স্ক ব্যক্তিরা যেমন মনের কোন ভাবকে অবদমিত করে রাখতে পারে, কিন্তু শিশুরা বালকেরা তো সেটা পারে না তাই না ? কিন্তু অভিবৃদ্ধরাও কি দমিত রাখতে পারে না ? কবিতা আরও একটু অপেক্ষা করে, কারণ এখনও সে প্রশ্নের মাথামুণ্ডু কিছুই বুঝে উঠতে পারেনি। একবার শিশু একবার পরিনত বয়স্ক একবার বৃদ্ধ, কেমন যেন জটিল লাগছে তার কাছে। তবু কিছু না বললে কেমন দেখায় তাই বলে, সাইকোলজিতে শিশুর অবদমিত ইচ্ছা নিজ্ঞান মনে আশ্রয় নেয় না, এগুলো মনের পড়হংপরড়ঁং মনের স্তর পরিত্যাগ করে ঢ়ৎব—পড়হংপরড়ঁং স্তরে আশ্রয় গ্রহণ করে। কিন্তু সেই ইচ্ছাগুলি স্বপ্নের মধ্যে প্রত্যক্ষভাবে ও অবিকৃতভাবে চরিতার্থতা লাভ করে। মাসুম বলে, কবিতা শোন, আমি কোন স্বপ্নের কথা মানে শিশু স্বপ্নের কথা বলছি না। তবে কি পরিণত বয়স্কদের কথা বলছ ? তাদের কামনা বাসনার স্বপ্ন কিন্তু ভিন্ন প্রকৃতির। তাদের মনে মাঝে মধ্যে এমন কামনা বাসনা জাগে যেগুলিকে সমাজ অনুমোদিত পথে পূরণ করা। সম্ভব হয় না। মানুষ তো সামাজিক জীব তাই না ? সভ্য সমাজে বাস করতে হলে তাকে লক্ষ্য রাখতে হয় তার কাজের সাথে সমাজ সম্মত নৈতিক আদর্শের সঙ্গতি রক্ষা করা। কবিতা শোন শোন, এ সবই আমি জানি। কিন্তু ব্যাপারটা ঠিক সে রকম না । তবে কি রকম ? বাসনাগুলিকে পূরন করতে না পেরে অবদমন করে রাখতে বাধ্য হয়। সেই কথা বলতে চাচ্ছ ? কবিতা তুমি সবকিছু শুনলে বিশ্বাস করবে না করতে চাইবেও না ব্যাপারটা এমন। আমার গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠেছে। প্রথমে আমি ভীষণ রকম অবিশ্বাস করেছি, সবটুকু না শুনেই বলেছি, ছিঃ ছিঃ ওকথা মুখেও এনো না আমি বিশ্বাস করিনা। কিন্তু শেষে, শুধু শুনে নয়, একাধিক জনের কাছ থেকে জেনে, নিজে কিছু প্রত্যক্ষ করে, এখন কি বলছি জান ? বলছি, আমি বিশ্বাস করতে চাইনা চাইনা চাইনা । আমি কেন এমন একটা সমস্যার সম্মুখিন হলাম, আর এর থেকে পরিত্রাণের কি উপায় তাও বুঝছি না । কবিতা চুপ করে থাকে, আতঙ্কিত ও বিমর্ষ হয়। অপেক্ষায় থাকে না যেন কি শুনবে এখন সে । এমন কিছু যা গভদুদিন ধরে মাসুমের স্বাভাবিক চলাফেরা হাসি গান বন্দ করে দিয়েছে। মাসুম বলে, সাবসিডিয়ারীতে আমারও তো সাইকোলজি ছিল। আমি কিছু হলেও উপলব্ধি করতে পারছি, কিছু সহ্য করতে পারছি, কিছু বাস্তবতাও মনে মনে স্বীকার করতে পারছি, কিন্তু আর সবাই, আর সবাইকে কিভাবে বুঝাব ? এতো একেবারে মান সম্মান রক্ষার প্রশ্ন হয়ে দাড়িয়েছে। আমার চাচা, মানে আমাদের চাচা, আব্বার মৃত্যুর পর যাকে আব্বার আসনে বসিয়েছি, যিনি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ মসজিদ ছাড়া পড়েন না, গ্রামের লোক সম্মানকরে মর্গাদা করে, পথে দেখা হলে সালাম দেয়, সেই চাচা, সেই চাচার আজ কি যে অবস্থা ! চোখে মুখে প্রশ্ন নিয়ে তাকিয়ে থাকে কবিতা। বলে, কি হয়েছে তার ? কি হয়নি বল, লোকে ছিঃ ছিঃ করছে। বাড়ীতে গিয়ে দেখি পাড়ার কোন মুরুব্বীই সকাল বিকাল তার সাথে যেমন গল্প করতে আসত তেমন কেউই আসছে না। আমি যাওয়ায় কেউ কেউ এসে শুধু আমার কুশল জেনেই চলে গেল। তারপর ? কবিতা উদ্বিগ্ন হয়। মাসুম বলে, প্রথমে বাড়ীর রান্নার মেয়েটা এসে বলে, সে আর এ বাড়ীতে রান্নার কাজ করতে পারবে না। বলে যতই গরীব হই ভাইজান আমাদেরও মান সম্মান আছে, ইজ্জত আছে। আমার যতই অভাব থাক এ বাড়ীতে আর কাজ করব না, অন্যকাজ খুঁজে নেব। আপনি আসলে বলে যাব সেই অপেক্ষাতেই ছিলাম । বললাম কেন চলে যাবে, বেতন বাড়াতে হলে বল, বাড়িয়ে দিচ্ছি কিন্তু মান সম্মান এসব কি বলছ ? 'সে কথা আমি মুখে উচ্চারণ করতে পারব না ভাইজান, বলেই আঁচল চেপে কান্না শুরু করে।' চাচাত ভাইয়ের বউটা সে এসে বলে, ভাইজান ও সত্য কথাই বলেছে, আমিও আমার বাপের বাড়ী চলে যাব। এতো লজ্জার কথা আমি মুখ দিয়ে উচ্চারণ করতে পারব না। আপনি আমাকে জিজ্ঞাসা করবেন না ভাইজান, আমি মিনতি করি ভাইজান, আপনি বাইরের আর দশজনের কাছে শুনুন । রান্নার মেয়েটার মেয়ে, বারো তেরো বছরের হবে মনে হয়, নাম চম্পা, ফ্রকের কোঁচড়ে কয়টা কড়কাচা পেয়ারা নিয়ে এসে বসল দাওয়ায়। কাঁঠাল পাতায় লবন আর মরিচের গুড়া দিয়ে কচমচ করে খাওয়া শুরু করল। বলল, ভাইজান খাবেন নাকি একটা ! আপনেরে দিমু কিন্তু ওই বুইড়া চাইলে দিমু না। চাচার ঘরের দিকে হাত দিয়ে দেখায়, বুইড়ার দাঁত নাই ভাও বলে কি জানেন? বলে যা আনছস তাই আন, আমি খামু, তুই নিয়ে আয়। আমি সেছিল লোনাফল নিয়ে মাইভেছি সে আসারে মাপটাইয়া এরছিল। অঃপ আর যই মা মানা করছে। চম্পার কথা শোনার পর বুঝতে আমার আর একটুও অসুবিধা হয় না। বুঝতে পারি চাচার আচরণের ব্যাপারটা, বাইরে লোক মুখেও হয়ে গেছে সব কথা। তাদের কি করে বুঝাব, অবদমিত বাসনাগুলি কখনও কারও মধ্যে নিজ্ঞান স্তরে আশ্রয় নিয়ে থাকে। সেগুলো সবসময় মন থেকে মুছে যায় না, কখনও কখনও আত্মপ্রকাশ করে। তখন পরিতৃপ্তির উপায় অনুসন্ধান করে। কবিতা কেন, পঁচাত্তরও পার হয়ে গেছে। কি করেছে বা করছে জান? মাস কয়েক থেকে শুরু হয়েছে এই অবস্থা। খালাতো ফুফাতো ভাবীরা বোনেরা সবাই নাকি এসেছিল, তারা যার যার সুবিধামতো চাচার সাথে দেখা করতে আর সালাম করতে গিয়েছিল। সবার সাথেই নাকি অশ্লিল ব্যবহার করেছে আর অনেককেই বলেছে, রাত্রে আসিস, দরজা খোলা রাখব। এরা সম্পর্কে কেউ তার বোন হয় কেউ মেয়ে, কেউ চাচি হয়। এরা প্রথমে চুপ থেকেছে, পরে ফিসফিস করে বলাবলি করেছে, তারপর চম্পারে মা বলেছে আমি নাস্তা, ভাত দিতে গেলে কঠিন অবস্থায় পড়ি। খেয়াল করে থাকি, যখন ঘুমায় সেই সময় চুপ করে দিয়ে আসি । কিন্তু সেটাও আর পারব না। এখন উনি জেগে থেকে ঘুমের ভান করেন, আমি ঘরে গেলেই লাফ দিয়ে বিছানা থেকে নামে। একদিন আমার মেয়েটাকেও ধরছিলো জানেন। ছোট বড় কিছুই মানছে না গো, ছেলের বউকেও খারাপ ইশারা করতে ছাড়ছে না। আমিও চলে যাব, বউও বাপের বাড়ী চলে যাবে। আপনারা ব্যবস্থা নেন । মসজিদে নামাজ পড়তে গিয়ে শুনলাম উনি নাকি গত কয়মাস নামাজ পড়তেও যান না। সবই বুঝছি কবিতা, কিন্তু এক্সন কি করতে হবে সেটাই শুধু বুঝছি না। মনে হচ্ছে ডান্ডাবেড়ী শিকল দিয়ে বেধে রাখি ফাঁসির আসামীর মত। মনে হচ্ছে কাঁচা বেতের চাবুক দিয়ে পিটিয়ে পিঠের চামড়া তুলে দেই। বুড়ো নোংড়ামি সহ্য করি কি করে বলতো? গ্রামে মুখ দেখানো কঠিন হয়ে পড়েছিল, ছুটি শেষের আগেই চলে এসেছি, কিছুই সমাধান দিয়ে আসতে পারিনি কাজের মেয়েটি চলে যাবে, চম্পা সারা গ্রাম রটিয়ে বেড়াচ্ছে ডালপালা ছড়িয়ে বহু কথা হচ্ছে। ভাই বউ টাও থাকবে না, পাগলা কুকুরের কি হুশ জ্ঞান আছে। ছেলের বউ সম্পর্কে মেয়ে, কিছুই মানছে না, ভেবে দেখ অবস্থাটা। কবিতা বলে এতো বেশী অস্থির হবে না, একটু শান্ত মাথায় ভাব, আর ভাবতে দাও। হাজার হলেও মানুষ তো। সৃষ্টির সেরা জীব। পশুর সাথে নিকৃষ্ট জীবের সাথে তুলনা কোর না। যদিও কখনও পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট হয়ে পড়ে তবুও না। বুঝতে হবে বোঝাতে হবে, সমাধানের কথা ভাবতে হবে, দেশে বিদেশে বহু চিকিৎসা রয়েছে। তুমি অশিক্ষিত মানুষের মত ঝাড়ফুক তুকতাকের কথা ভাবছ কি করে? হয়ত কোন খারাপ সময় তার যাচ্ছে, দীর্ঘদিন আগে তার স্ত্রী মারা গেছে। কিন্তু লালিত বাসনাতো সুপ্ত থাকতেই পারে, যা সাধারনত সমাজে সবাই অবদমিত করে রাখে, কিন্তু যা তিনি পারছেন না। এই না পারাটা তার কোন শয়তানের আসরের কারনে হয়নি। হয়েছে দৈহিক ও মানুসিক কোন বৈকল্যের কারণে। এ সময়ে মুরব্বীদের দূরে সরে থাকলে তো চলবে না। তাকে এক ঘরে বন্ধি করে রাখলেই কি এর সমাধান হবে? এর আগে এরকম খবর একদম কানে আসেনি তা তো নয়, তাই না? কমবেশী সবাই শুনেছি, মনোবিজ্ঞানীদের কতো কতো গবেষণা রয়েছে। আমার কি মনে হয় জান? তোমরা এখনি তাকে ডান্ডাবেরী পড়ানো, পাগলা গারদে পাঠনো, হাসপাতালে পাঠনো এসব করো না। বরং মুরুব্বীদের গ্রামের মাতব্বরদের শিক্ষিতদের তার এই দুঃসময়ে এগিয়ে আসতে বলো। তাকে সবসময় ভালো আলোচনায় ভালো সংগে রাখতে থাক তার ঘরে কিংবা বারান্দায় ধর্মীয় আলোচনা ও কোরআন পাঠ হতে থাকুক, সুদ্ধ ও সুন্দর জীবনের কথা, তার কর্তব্য কর্মের কথা, সংসারে তার দায় দায়িত্বের কথা মনে করিয়ে দিয়ে, তার ছোট বেলা থেকে মধ্যবয়স পর্যন্ত সব ভালো ভালো ঘটনার কথা তুলে ধরে, তার ভালো ঘটনার কথা তাকে একের পর এক বার বার শোনান হোক। মানুষতো পরিবর্তনশীল ধীরে ধীরে অবশ্যই পরিবর্তর্তন আসবে। আর এটা তোমাকে মোটেই মানাচ্ছে না, মাসুম, তুমি উঠ প্লিজ উঠে বস, চলো রাত এখনও তেমন হয়নি। মাসুম বিছানা ছেড়ে উঠে বলে তোমার কথায় একটু চকেটু স্বস্তির আশ্বাস পাচ্ছি। শুধু স্বস্তির আশ্বাস পাচ্ছ বললে তো হবে না সামনে শুক্রবার ছুটির দিনে বাড়ী গিয়ে ব্যবস্থা করে আসবে, এখন উঠ। উঠছি, তবে তার আগে আরও এক কাপ কফি করি, কি বল ।
Read Also :-
Labels : #Bangla Golpo ,#Bangla Kobita ,#Bangla Romantic Story ,#Love Quotes ,#নিজ্ঞান মন ,
Getting Info...

Post a Comment