কুয়াশার শেষে

অনামিকা হক লিলির গল্প
ভীষণ কঠিন অবস্থার মধ্যে কামাল সাহেবের দিনগুলো কাটছে।এমন অবস্থা যার কথা না কাউকে বলা যায় না। সহ্য করা যায়।তা সহ্য করতে করতে মনে হচ্ছে যেন শেষ সীমায় পৌঁছে গেছেন তিনি।মেয়ে তার এবছরই কলেজে গেল।সেলে ক্লাস নাইনে।গত ২০ বছরের চমৎকার গোছানো সংসার তাঁদের।সাথে বিধবা মা।এ কটা সাধারণ সুখী সংসারের চালচিত্র বলা যায় তাঁর সংসার কে।তিনিও সরকারের উচ্চ পদে নিয়োজিত।স্বচ্ছল সংসার।সাহেব বন্ধু সহকর্মী সবাই বলত এমন দম্পতি খুব কম দেখা যায়।যেমন গরমে এর তেমনই মানসিকতায়।অন্যের বলাতে এমনকি নিজেও কামাল সাহেব জানত।সে সুখী রীতা তাঁকে কোনও দিক থেকেই অপূর্ণ রাখেনি।কোথাও কখনও কোনও আচরণে ব্যথা পোন্নার ডেকে নি একে অন্যকে।বিশেষ করে মার ব্যাপারটাতে বড় সুখী হয়েছেকামাল সাহেব।এ ব্যাপারে রীতার ব্যবহার তাকে প্রথম দিনই অত্যন্ত আকৃষ্ট করেছিল।বলেছিল,বিশন যোদ্ধা মেয়ের মতো।আশ্চর্য তোমার মা তোমাকে ছাড়া কোথায় যাবে?মা থাকবে এটা কি কোনো প্রশ্ন হলো।আমি মাকে ছেড়ে এসেছি।মাকে ছেড়ে থাকা কত কঠিন সে আমিবুঝতে পারি।এই মাকে পেয়ে তাকে ভুলে থাকতে পারব।মা ও বউয়ের কথা শুনে খুব খুশি।সবাইকে বলেছেন।এই যুগে এমন বহু হয়না।কামাল সাহেবের অন্য ভাইরাও ঘর সংসার পেতেছে। কিন্তু মা ওই কামাল সাহেবের কাছেই। আর অন্যান্য বইয়েরা তিনি তার চেয়ে আরও ভাল কি না?মন্দ কি না সে বিচার তিনি আর করতে চাননি।ওরা এলে বলেন দিব্বি আছি আমি।তোরা এসে দেখে যাস তাহলেই হবেজন্যে খুব হুড়াহুড়ি করে বলে।এখননা সামনে মাসেতারপরও বললে বলে,আচ্ছা সামনের সপ্তাহে এত ওরা না শুনলে যেতে রাজি হয়।তবে শুধু বেলাটুকু ওর জন্য।রাতে তিনি কামালের বাসা ছাড়া থাকবেন না।তা ছাড়াও বায়না আছে।কামালের অফিসে যাবার পর তিনি যাবেন।আর পারলে যেন তারা ওর ফেরবার আগে পৌঁছে দেয়।এ তো সব আদিখ্যেতাদেখে অন্যসব বউয়েরা স্বভাবতই মার উপরে তেমন খুশি না আর তাতেই রীতারস্থান মার কাছে ক্রমশ উপরে উঠছে।অন্যান্য বোনেরা মায়ের উপরে রেগেছে তখনই বেশি। যখন দেখেছে মা তার বড় বেশি উপকারে লাগছে।কী সুন্দর ভাবে মার কাছে সব ফেলে রেখে রীতা বেড়াতে গেছে।কামালের সাথে প্রত্যেকটাট্যুরে।সঙ্গ দিয়েছে।কামালের কাছে প্রত্যেকটা ট্যুর মনে হতো যেনহানিমুন।কী সুন্দর করে এই নারিতা মাকে বলত।আমি না গেলে আপনার ছেলের খাওয়াদাওয়া অনিয়ম করবে।দেখেই তো যা কাজ পাঠাল।হয়তো খেতে আসার কথা ভুলে যাবে।আমি সারকিট হাউসে থাকলে ঠিক ঠিক আসতে বাধ্য হবে।মা খুশি হয়ে বলতেন যাও মা সাথে যাও।স্বামীর ভাল মন্দের জন্যই তো স্ত্রী বেঁচে থাকা।মনে মনে বলতেন, তাঁর এখন বেঁচে থাকা অনর্থক। যখন স্বামী আর বেঁচে নেই।কামালের কাছে রীতার কারণে প্রতিটা ওট্যুর সত্যিই অনবদ্য হয়ে উঠত। অন্য অফিসারেরা ট্যুরে যেতে চাইত না। আর সে ছিল ট্যুরের নামে পাগল।ফলে উপরওয়ালারা কামালের উপরে খুব খুশি ছিল।এ ব্যাপারে তাঁর উৎসাহ ছিল মুখ্য।কামাল ক্রীড়ানক মাত্র।রীতাএত সুন্দর স্যুটকেস গোছাতো যেকোন খুঁত থাকত না?সেভিং কিট থেকে ট্যুর করে সুপুরি কু সি এলাচ, দানা কিছু বলত না। দুটি সম্পর্ক আলাদা স্যুটকেস বুঝতো টায় রয়েছে।স্ববিরোধিতার।তবু সবই কামালের মম ভরনের বিষয়বস্তু।নিশ্চয়ই রয়েছে চমৎকার সুভাষের পারফিউম বডি লোশন লিপস্টিক আর মম মাতানো রাত্রিবাস।তাঁর রাত্রিবাস গুলো সে নিজে নিজেই বানায়।একেকটা একেকটর সে সুন্দর।রীতা সুন্দর সিকদার শরীরটা এতে আরওকমনীয় হয়ে ওঠে কামালের কাছে।নতুন পরিবেশে প্রতিবার নতুন নতুন করে রীতার এ যেন পায়ে কামাল।প্রতি মাসে এই সব আনন্দ সুখ গুলো এখন যেন কামাল সাহেবের কাছে শুধু স্মৃতি মাত্র।সেই রীতা কী করে এই রীতা হয়ে উঠতে পারে?বুঝে না তিনি।সবাই বলছে, স্বামী স্ত্রীর এমন মিল খুব কম দেখায় যায়।ওদের রোম্যান্স কি যুগ যুগের।সত্যিই যেন তাই।রীতা মার কাছে তাঁর ছেলেমেয়েকে রেখে ও তার সাথে মাঝে মাঝে বেড়াতে বের হয়ে গেছে কদিনের জন্য।তাই রিতা যেন মন প্রাণ ভরিয়ে রেখেছিল কামালের।তা ছাড়া বড় হতে হতে আস্তে আস্তে স্বাভাবিক ভাবেই বাইরে যাওয়া কমেছে।তাঁর ওদের স্কুল আর লেখাপড়া সামলেছে রীতা।মাসংসারের অন্যসব।কি রান্না হবে?তাঁর ছেলে কি খেতে ভালবাসে সেটা সে ছাড়া অন্য কি বেশি জানবে?তাই এইবারবরাবর মায়ের উপরেই তা।এখন তাঁর নাতি নাতনি কী ভালবাসে তাও মার মুখস্থ।এতে মা ও খুশি। তার উপরে বেশ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে বলে আর সময়টাও দিব্যি কেটে যায়।ভার হয় না তেমন।রীতা ও চমৎকার সাবধানী আমার ঘরে যে একবার না একবার খবর সে নেবেই নেবে।কিছু দরকার কি না কিংবা কোনও অসুবিধা আছে কি না।মা এতই খুশি তেমন কিছুই এসে বলে না। যানের অভ্যাস আছে তাই ভাল জর্দা টা ফুরালেই বউকে বলেন।আর বলেন, সারাদিনের কাজের মেয়েদের নানান কথা।রীতামন দিয়ে শুনে।বলে ঠিক আছে।আমি দেখব মা।মায়ের ছোট্ট গোছানো সিমস আম ঘরটারই তা ঝেড়ে ঝুড়ে একটু গুছায়।মা বলেন, থাক মা তুমি তরি হও গেয়ে যাও।কামাল আসার সময় হয়ে এল।আর আজ ওরা কখন আসবে আমার নাতি নাতনি।মিষ্টি কথায় আর ব্যবহারে ওরা একে অন্যকে দিব্যি ভরিয়ে রেখেছিল।কিন্তু কোথা থেকে কী যে ঢুকল রীতার মাথায় কে জানে।কে যে ওকে উল্টোপাল্টা কিছু বুঝিয়েছে কে জানে।কিন্তু কামাল সাহেবের যাচ্ছেনযানের উপর দিয়ে।প্রথম প্রথম ভাবতেনএই বোধহয় রসিকতা বয়স বাড়ছে বলে।একটু হাসিঠাট্টা বেশি করার ইচ্ছা যাতে কম বয়স মনে হয়।অফিসথেকে একটু দেরিতে ফিরলে বলে এত দেরি করলে।আমার কথা বুঝি মনে ছিল না।কামাল চমকে তাকিয়ে হেসেছে।এ কী বলছ রীতা?একেবারে প্রথম দিককার মতো।তবে কি এটা ঠিক যে চল্লিশের দিকে নতুন করে আবার প্রেম জাগে?আসলেপ্রথমের সেই সুধা ভরা দিনগুলো ঠিক চমত্ কার যে থাকে।অফিস থেকে আসতে পাঁচ মিনিট দেরি হলে ঠোঁট দোলানো।তার পর ফোলানো ঠোঁটে উপটে চুমু দিয়ে দিয়ে তবে হাসি বিকেলে কোথাও না কোথাও বেড়াব।এ কটা ঘাসফুল।দু আনার চিনাবাদাম।তুচ্ছ কথা।কী অনেকেই না ভরিয়ে দিতো দুজনকে।এর পরই তাঁর এই জিজ্ঞাসা কামালের প্রথম প্রথম মন্দ লাগে না।কিন্তু কদিন পরে যে কৈফিয়তেরসুর ভেসে ওঠে রীতার গলায়।এই ঠোঁটফোলানো সে ঠোঁটফোলানো নয়, যা চুমুতে গোলে।কেমন যেন সন্দেহ পূর্ণ আগুনে দৃষ্টি কামাল লক্ষ্য করে।এবং সত্যিই কামালকে রীতিমতো কৈফিয়ত এর সম্মুখীন হতে হয় ক্রম।বিশ্রী ব্যাপার।তাই মাঝে মাঝে,ছেলে মেয়ের সামনেও সার্চ করে বসে।কেমার সামনেও।দেবের যে তখন কী অবস্থা হয়?সে দিকে একটুও ভাবে না রীতা।প্রথম প্রথম ছেলেমেয়েরা উঠে যেত ক্রমশ বুঝি ওঁদেরও সন্দেহ হয়।তাই মাঝে মাঝে বাবার সাহায্যে এগিয়ে আসে বলে।তাই বারে বাবার বুঝি। অফিসের পরে কোনও কাজ থাকতে পারে না।মা তুমি কী যে বলো?বাবা কি ছেলে মানুষ যে পথে পথে খেলে সময় নষ্ট করবে?হঠাত্ ই স্থান কাল ভুলে রীতা ও হোকাস কথা বলে বসে।তোরা কি জানিস?এই বয়সে পুরুষ মানুষ আবার ছেলেমানুষ হয় বুঝলি।লজ্জায়কামালের মাথা কাটা যায়।তিনি যত তাড়াতাড়ি পারেনপ্রসঙ্গ বদলান।সা নাস্তা খেতে চান।বরাবর এই কাজটা মাই করে।আগে আগে মা আসে আর পিছনে কুয়া ট্রে হাতে।এ ক্ষেত্রেও রীতা বিশ্রী ইঙ্গিত করছে আজকাল।বোয়ার কাছ থেকে ঝট করে ট্রেটা টেনে নেয়।বলে ভূয়া তুমি সাহেবের সামনে আসবে না।যা ওবুয়া অবাক হয়ে তাকায় মা ও।কাকে কী বলবেন তিনি?যেখানে তিনি নিজেই কিছু বুঝতেন না।এরপর আশ্চর্য হয়ে গেলেন রীতার বেশ বাম দেখে।কেমন যেন অগ্রের আবা সব কিছুতে।ইঙ্গিতগুলো কেমন? কেমন সস্তা ধরন।কামাল সাহেব বুঝতে পারেন না।কেন? কেন রীতার এই পরিবর্তন?এই বয়সে এই পরিবর্তনের দরকারই বা কী?রীতা লক্ষ্য কাট ব্লাউজ ধরেছে সাথে হাত কাটা সব সময় উগ্র মেক আপ আর নেলপালিশলি লিপস্টিকের রং থাকতেই আবারও রঙ,তাঁর পায়ে রূপের ভিসা ধরেছে।আঙুলে আংটি।আর হাতের আঙ্গুলে জুড়ায় জুড়ায় প্রায় আটদ্শটা তো হবেই।দেখে মনে হচ্ছে গোপনে সে পীর ফকির ও ধরেছে।রাতে কী কী সব করে?খায় আর খাওয়ার কামালকে।কামার মুখ বুজে সহ্য করে।কারণ এই তাকে চেনা ভার আর চটানো আতঙ্কের।এর গাধা গহনা গায়ে হাতে ছুরির ভারে প্রায় অনড়।বিছানায় কামাল সাহেবকণ্ঠ কিতো হয়ে থাকেন।এই বুঝি পান থেকে চুন খসা অপরাধে শুরু হয়ে যাবে কথার ঢেউ।যা চলতেই থাকবে। চলতেই থাকবে শুধু।বাতাসে বাড়বে কমবে কিন্তু থামবে না।না ঘুমাবে পর্যন্ত।কোনো না কোনো কিছুর অজুহাত কথা সে তুলবে।বলবে,বললে না তো আজকে কেমন লাগছে?এই এগিয়ে আসে না৷ কাছে।না এই নাইট টি টা কি সুন্দর?এটা বিদেশী নায়িকার ছবি দেখে তৈরি করেছি।কোনওদিন হয়তো চুলের ফ্যাশন দেখাবে।কীভাবে চুল কেটে এসেছে?কোথা থেকে ইত্যাদি।আবার হাতের চুড়ি দেখাবে। পায়ের মল ঠুনঠুন বাজাবে।একটু খেয়াল না করলেই বলবে।এখন তো আমার দিকে মন তাকাবেই না।এখন অন্য মেয়ের কাছে ভিড়ে আছো তো।অবাক হয়ে যায় কামাল সাহেব।এ কথার কী জবাব হতে পারে?২০ বছর সংসার করার পর রীতার এই কথায় এই প্রশ্ন। আর এই সন্দেহ।ঘৃণায় আর লজ্জার কথা বলার প্রবৃত্তি হয় না। কামাল সাহেবের বিছানায় কুঁকড়ে থাকেন তিনি।এমন কথার পর স্বতঃস্ফূর্তআবেদন আসেই বা কী করে।কিন্তু রীতা তা বোঝে না।অযথা।উত্যক্ত করতে চায় কামাল সাহেবকে,ব্যর্থ হয় এবং ফুলতে থাকে।সন্দেহ তাঁর আরও দানা বাঁধে।পরিস্থিতি বাঁচাতে কামাল সাহেব খুব তাড়াতাড়ি অফিস থেকে উঠে আসেন আজকাল।তা।কিন্তু হাজার হলেও তিনি সিনিয়র অফিসার।কিছু বেশি কাজ দায়িত্ব কর্তব্য থেকে যায়।বাশার অবস্থা কোনও উন্নতি হয় না।ছেলে মেয়ে মাকে দেখে ভয়েকোপটা হয়ে থাকে।কামাল সাহেব চিহ্নিত হল।না জানিয়ে সরল শিশুমনে তারা কী ভাবছে?তাদের মা বাবাকে।বারবার রীতার একই কথা বলায় হাত বাবাকে তাঁদের সন্দেহ হতে পারে।এক্ষেত্রে তাঁর ঠিক কী করা উচিত সেটাই বুঝতে পারছি না।কামাল সাহেব সে ছেলেমেয়েকে ডেকে কী বলবে?তাদের সামনে তো তাঁদের সুস্থ মা ক্রমশ অসুস্থ মনে অস্বভাবিক হয়ে উঠেছে।সে দিন বড়ো বিশ্রী ব্যাপার হয়ে গেল।তা যে মাকে কামালের থেকে বেশি দেখত বেশি ভালবাসত তাঁকে শেষে সরাসরি অপমান করে বসল।ছেলে মেয়ে মা সবাই একসাথে খাবার টেবিলে বসে।হঠাৎ রীতা বলল, মা।আপনার ঘরে কদিন থেকে আমি আর যাচ্ছি না কেন? জানেন।মারি তার মুখের দিকে প্রশ্ন নিয়ে তাকাল।কিন্তু মুখে কিছু বলে না।মনে মনেই তার প্রতি তার একটু অভিমান জমেছে। বই কি?রী তা বলে বড়োমানুষের ঘরে গেলে মনটা বুড়িয়ে যাবে তাই।আর আপনিও বেশি সামনে সামনে ঘুরবেন না।সব সময়ই আপনার সামনে আসার দরকারটা কী?কোনও রকম বাবা আর মা তো একেবারে নির্বাক।কামাল সাহেবও বুঝতে পারছেন না কী বলবেন।বয়সেরঅভিজ্ঞতাই বোধহয় মাই উদ্ধার করলেন সেই পরিস্থিতির।আরে সওলায় কি পুড়ছে বলে তিনি দ্রুত উঠে গেলেন।যার পর আর টেবিলে।কামাল সাহেব আসলেও আর ভাবতে পারছেন না।কাল তাঁকেঅফিসের কাজে ট্যুরে যেতে হবে কদিনের জন্য।কিন্তু বাশার এই পরিস্থিতি রেখে কী করে যাবেন তিনি?কামালের দু রেকর্ড পরিমাণ ভালো সে কী করে বলবে যে ট্যুরে যেতে চায় না। ট্যুরেরকথা শুনে রীতা বাড়ি মাথায় তুলল।না না সে কিছুতেই কামালকে যেতে দেবে না।নিশ্চয় কামাল কদিনের জন্য সাত বল বদলাতে যাচ্ছে।সাথে নিশ্চয় কোনও মেয়ে নিয়ে যাচ্ছে।ইত্যাদি।তার পর সে জেদ ধরলনিজেও যাবে সাথে।কিন্তু রীতাকে আর বাহিরে নেওয়ার উপায় নেই।হঠাত তাঁর এই পরিবর্তন সবারই চোখে লাগে।পোশাক আর ব্যবহার ভীষণ উগ্র অথচ ভীষণ রকম স্বাভাবিক ছিল রিতা এই সেদিনও।রীতার এই পরিবর্তনের কথা মনে হয়।কান দু কান হতে হতে বহু কানে হয়ে যাচ্ছে।আত্মীয়রা তারপর বন্ধুরা আসছে কৌতূহল মেটাতে।ভাই বউরাও মার দিকে করুণা করে তাকায়।মা ঘরে চলে যায়।আর রিতা সবার সাথে হেসে হেসে গল্প করে।তা বিশ্রী সব কথা বলে।কান পাতা যায় না।সব গল্পই তাঁর সেন্স নিয়ে।ছোট ভাই বোরা হাসতে হাসতে লুটিয়ে পড়ে।রীতার ভাবভঙ্গি আর কথা শুনে।কী করতে পারে? কামাল কাকে দিয়ে উদ্ধার হবে তাঁর এই সমস্যা?এর মধ্যেই ভাইয়েরা কামালকে জিজ্ঞাসা করে যে ভাবির কোনও চিকিৎসা করানো হচ্ছে কি না।ভাইব রাও সেই মতোই বলে।তাঁরা বলেন, অবশ্যই তাকে মানসিক চিকিৎসক দেখানো দরকার।তবে ভাবে এটা সাময়িক ব্যাপার সেটা বুঝতে পারছি।কোন এ কটাব্যাপারে ভুল বুঝে আছেন তিনি।নিশ্চয়ই লক্ষ্য করেছে সে।ভাবির সেই হিস্টেরেকটমি অপারেশনের পর থেকে তিনি ক্রমশ বদলে গেছেন।কেউ না কেউ তাকে ভুল কিছু বুঝিয়েছে।এর মধ্যেই সেখানে মা ও এসে পড়েন।তিনিও ডাক্তারের কাছে নেবার কথাই বলেন।এত দিন নেয়নি বলে কামালকে দোষারোপও করেন।কামাল সাহেব ঠিক করেন।ট্যুর থেকে ফিরে এসে তিনি ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করে তার সময় নেবেন।কিন্তু ট্যুরে যাবার জেদ থেকে রীতাকে তিনি কিছুতেই থামাতে পারেন না।আরে বহুদিন পর ট্যুরে আসাই যেন তাদের জন্য মঙ্গলের হয়ে ওঠে।কামাল ইচ্ছে করে একটু বেশি মনোযোগ দেয় রিতার দিকে।ঘণ্টায় ঘণ্টায় ফোন করে।তাঁর প্রিয় শাড়িটা পড়ে থাকবার জন্য অনুরোধ করেন।ধীরে এসেই গাঢ় চুম্বনে বুকে চেপে ধরেন।পরে বলেন কখন যে রাত আসবে ইত্যাদি।প্রতিদিন নতুন নতুন জায়গায় বেড়াতে নিয়ে যায়।গান শোনাতে অনুরোধ করেন। আর জড়িয়ে ধরে বলেন।গহনাগুলো খোলো রীতা।মিলনে একান্ত হতে ওগুলো বড় বাধা দেয়।রীতা হাসতে হাসতে নিজে সব খুলে একে থাকে।কামাল খুশিতে হয়ে ওঠে।কামাল কাজ শেষ হয়নি বলে ট্যুরের মেয়াদ বাড়ান আরও।প্রতিটি দিন তিনি নতুন নতুন আনন্দে জড়িয়ে তোলেন।যেন বিশ বছর পর তারা আবার হানিমুনে এসেছে।রিতা এখন স্বাভাবিক।একদম স্বাভাবিকভাবে বলে ওঠেন।কে গো বাড়ি ফিরবে না।সামনে যে ছেলে মেয়ের পরীক্ষা।এতদিন আমার বাইরে থাকলে চলে।কামালবড় স্বস্তি নিয়ে বাড়ি ফেরেন।দুজনেরই মুখে মিটিমিটি হাসি।রীতা মাকে কদম বুঝি করেন।ছেলে মেয়ের চুলে হাত ডুবিয়ে বলেন।কিরে ভালো ছিলি।মা ছুটে যান নাস্তার জন্য।রী তা বলে।মা আপনি ছেলের কাছে বসুন,আমি বরং আনি।একদিনে কত ঝামেলাই না আপনার উপরে গেছে।ওরা নিশ্চয়ই খুব বিরক্ত করছে।ছেলেমেয়ের দিকে তাকিয়ে বলে।কামাল সাহেবের চোখ দিয়ে আনন্দের অশ্রু ঝরে যেতে চায়।ছেলে মেয়ে বলে আমরা পড়তে যাই বাবা।রান্নাঘর থেকে চিৎকার করে রীতা বলে।না না তোরা যাস না।একসাথে যা নাস্তা খাবো তারপর।আর তোদের জন্য কি এনেছি তা দেখবি না।মা খুশি মনে হেসে বলেন।বোমা আমার জন্যও রীতা।আপনার জন্য বাবা জর্দা নয়।মা জর্দা সবাই হেসে ওঠে।
Read Also :-
Labels :
#Bangla Golpo ,#Bangla Kobita ,#Bangla Romantic Story ,#Love Quotes ,#কুয়াশার শেষে ,
Getting Info...