কলুর বলদ

কলুর বলদ

কলুর বলদ

অনামিকা হকলিলি।

আবার কী হল?খাতার ভিতরে লাল পেন্সিল টারেখে খাতাভাঁজ করে উপরে একটু পর ও পাথর চাপা দিয়ে উঠে আসে রেহানা। চিকন মসৃন  এলো চুল খোঁপা করতে করতে আঁচল মাথায় বাঁধতে বাঁধতে সেন্ডেল ছাড়াই আসে।আবার কী হল?বারো বারই তাঁকে বলতে হয়।কারণ তিন দোষীর হুটোপুটি  লেগেই থাকে সারাক্ষণ। তিনটার কেউ তাই কার চেয়ে কম যায় না।ছোটটা পাঁচ বছরে। এখনকার ভিত্তি তাঁরই।ছোট বলে ছোট কু ছোটকু বলতে বলতে সে ছোটকু বা ছোট হয়ে গেছে নামে। ফ্রিজের হ্যাম ডেল্টা সে হাতে পায় না।উপরে বলে বাকি দুইটি প্রায় সারাক্ষণই ফ্রিজের পাল্লা খুলছে আর বন্ধ করছে। দরকার বা অ দরকার যাই হোক  ঠাস করে ওঠার পালা।খোলা আর ধুপ করে বন্ধ করায় যেন ওদের ওই খাওয়ার প্যাসেজ। আর পার হবার সময়ে অবশ্য কর্তব্য।পানিএক ঢুকে করে খেয়ে  নাখেয়ে যেতে না যেতেই আরেক ঢুক দরকার। তা ছাড়া পাউরুটি, জেলি, মাখন সস মাংস কখন যে কোনটার কথা মনে পড়ে তা কি ঠিক আছে? সারাটা দুপুর এদের জ্বালায় একেবারে ভাজাভাজা হতে হয় রেহানাকে।ছোট ফ্রিজ খুলে খুব কায়দা করে।খাওয়ার চেয়ারের উপরে উঠে এসে জানালায় উঠে।তারপর জানালা ধরে এগিয়ে এসে একহাতে শিখ ধরে অন্য সেই হাতে  ঝুঁকে ঝুলেতবে হ্যান্ডেলটা ধরে টান দেয়।কর্তব্যর যে নিষেধ করেছে কিন্তু কে কার কথা শোনে।কাজের ছেলেটাও ওদের সাথে ধেই ধেই করছে সারা।ফ্রিজের পাল্লাটা হয়তো কদিন থেকেই দুর্বল ছিল। মাঝখানে একবার পাশের রাবার ঢিলা হওয়া আয় বন্ধ হচ্ছিল না।কোনওরকমে বন্ধ হলেও বাতাস যা ছিল খাবার ঠাণ্ডা থাকছিল না।মাত্র সেটা ঠিক করে আনা হয়েছে।আর ওটারই ওই ফ্রিজের ই দরকার পাল্লা সহ পড়েছে ছোট।যেমন ঝুপ করে জুরে শব্দ হয়েছে তেমনই চিৎকার দিচ্ছে তারস্বরে।এমনিতেই পাল্লা মোটা ভারী তার ওপরে ভরা বোতল, জেলি সস ডিম ,ডাম অনেক কিছু বুকের উপরে নিয়ে ছোট একেবারে চিৎপাত। সোনা আর রূপা বের হয়ে এসেছে রেহেনা আগে,কাজের ছেলে কালাও।তাই সোনা রূপা হাততালি দিছে বলে কালা ও হাততালি দিচ্ছে আর লাফাচ্ছে।যেন কী মজা হচ্ছে?দৌড়ে গিয়ে  তুলল ছোট্ট কে। তাঁর মাথার পিছনে শানের গুঁতা আর কপালে পাল্লার গুঁতায়। দু দিকে এর মধ্যে ওই সুপারির মতো ফুলে উঠেছে।এতক্ষণে পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝতে পারে সোনা রূপা।ওরাও ছুটে আসে,রেহানা সাথে ট্রেনে পাল্লাটা সরায়।ভেজা তোয়ালে আনতে আমতে বলায় কালা দৌড় লাগাতে গিয়েপানির বোতল ভাঙা ভাঙা কাচ তুলতে যে হাত কাটে।রূপা বরফ আনতে হাত বাড়িয়ে পাপিছল যায়। সোনা ভেঙে যাওয়া ডিম তুলতে থাকে বাটিতে।বিশাল রাগ লাগে রেহেনার।এত এত ঝামেলা তার আর সহ্য হয় না।কালা থেকে শুরু করে প্রত্যেকেই থাপ্পড় লাগায়।আগে মুখে বলতনিষেধ করত।এখন আর মুখে বলে না।রোজই দু চার লাগায় দরকার মতো।যদিও জানে বাচ্চাদের মারা ঠিক না তবুও।খাতা দেখা আজ মাথায় উঠল তাঁর,সোনা রুপা ঘরে গেছে সুড়সুড় করে কালা, ন্যাকড়া।পানি দিয়ে জায়গাটা পরিষ্কার করছে।ছোট্ট বিছানায় ফু পাচ্ছে আর রিন রিন করে সুরতুলে চলেছে কান্নার।রেহেনাজানে এরা এক ঘণ্টার মধ্যেই সব ভুলে আবার শুরু করবে যে যার মতো হটা গুলো।তাই এ রকম রাগের মধ্যেও খাতা দেখতে চায় না রেহেনা।এসময় খাতার উপর জাস্টিস হয় না।সে একজন কলেজ এর অধ্যাপিকা।কত ছেলেমেয়ে তাঁর কাছে কত কিছু শিখছে?শুধু তারগুলো ছাড়া।এতই যে সৃষ্টিছাড়া এগুলো,খাতার ওপরে এখন সে পাথর চাপা দেওয়া।পেপার ওয়েটেরলাল নীল, হলুদ সবুজ ফুলগুলো নেওয়ার জন্য,ভেঙে গুঁড়োগুঁড়ো করেছে সিল দিয়ে।হাতের আঙ্গুল ছেছেএ তবে থেমেছে,পেপারওয়েট নেই।রেহানা ভাবে স্কুলের সময় দ শটা পাচটা হলে সে একটু সে বাস তো?সারা দুপুরে যন্ত্রণাটা অন্তত থাকত না।শাহেদ,নীরব ভূমিকার জন্য এই এত সব,রেহেনা জানে সাহেব যদি একটু স্বাভাবিক হত তাহলে অন্য আর দ শটা সংসারের মতোই তাঁর সংসার হত। কত চমৎকার আশা আর স্বপ্ন নিয়ে শুরু করেছিল সংসার।সবাই ধন্য ধন্য করছিল।নিজে ইংরেজি অধ্যাপিকা,স্বামী ইঞ্জিনিয়ার,শিক্ষায় দীক্ষায় রুচিতে দুজনের ঘর হবে উঁচু ধরনের।অথচ কী ভীষণ যে হিমশিম অবস্থা রেহেনার?সাহেবের মা মাঝে মাঝে এসে রেহানাকে দেখে বিস্মিত হয়।সেলের বইয়ের কষ্ট ও ধৈর্য দেখে নিজে এসে সহমর্মিতা দেখায়।বলে শাহেদ আগে তো এমন ছিল না।পড়ালেখা শেষ করে ইঞ্জিনিয়ার হতে হতে এমন হয়ে গেল ক্রমশ।সংসার  কোনএকটা কাজেও রেহেনা সাহেদকে পায় না।কখন থেকে কীভাবে যে সব কাজ আর দায়দায়িত্ব একে একে তার উপরে বর্তেছে তা এই এক যুগ পর এসেআর মনে করতে পারেন আরে না।কলেজে যেতে আর ফিরতে সুবিধা মতো বাজার করে।প্রিজার্ভ করে,বাশার সুবিধার জন্য ডিপার্টমেন্টের হেড কে ধরে ক্লাস অ্যাডজাস্ট করে সেশনের শুরুতে।ক্লাস নিতে যাবার আগে কাজের মেয়ে বা ছেলের সাথে দুপুরের রান্নার পাতা সেরে যায়।ব্লেড চাকু দেশলাই সরিয়ে রাখেন।ছোট এখনও স্কুলে যায় না বলে।শি জনের ফল আম জাম আপেল, কমলা বরই পেয়ারা, লিচু সে কিনে আনলে তবে বাসায় আসে।এ সব কথা একবারও মনে আসে না সাহেদের ইলেক্ট্রিকের বিল,পানি কিংবা গ্যাস সবই রেহেনা,বাচ্চাদের জামা জুতো,ঈদ বা পালাপার্বণ সব।রেহেনা এর মাঝে মাঝে দম আটকে আসে তারা হুড়া করতে করতে।সকালে নাশতা ভাজি জড়িয়ে দাঁতে কাঁদতে কাঁদতে,ডাল সম্ভার দিতে হয়।চায়ে চুমুক দিতে দিতে মাছের বরফ ছাড়াতে হয়। কলেজের সময়টুকুই যা,তবু অন্য অনেকের মতো সে কোনোদিনও ছুটিয়ে আড্ডা দেয়ার বা গল্প করার সময় পায় না।করে না,কারণ ততক্ষণে সোনা রূপা ছুটির পরে স্কুলে অপেক্ষা করে।রিকশায় করে ওঁদের নিয়ে ফিরতে ফিরতে পাউরুটি কিনে।টোস্ট কিনে , চিনি কিনে সংসার দরকারের কি শেষ আছে।আজ তো ফ্রিজটা গেল।যে দুই স্যার টা মাছ মুরগির তাঁর প্যাকেট আছে,সবই রান্না করে রাখতে হবে।রান্না করা রাখা তরকারি কয়দিনই বা খাওয়া যায়।যা গরম,কালা আদা, রসুন কাঁচা পিঁয়াজ কাট।ফ্রিজের তরিতরকারি সব রান্না ঘরে নিয়ে যা।কাটা বাছা ধোওয়া সব গোছা না হলে ডাকবি।রেহেনা বলে অভ্যাস মতো।এরপর থেকে রোজ ডিম ডাল চলবে।তাই রেহানার খাতার প্রথম কিস্তি জমা দেওয়া হয়নি।আর মাত্র দুদিন বাকিপঞ্চাশটা বোধহয় দেখা হয়নি।হবে কী করে?তোয়ালেটা রোদে নাবৃষ্টিতে তা ও তো তাঁকেই দেখতে হয়।অসংখ্য আর বারশুধু ওঠা আর বসা।বসে বসে কথা বলার চেয়ে নিজে করা বরং কম পরিশ্রমেরকাজের ছেলে মেয়েরা এ কটা? যা ঠাসা হয়।ছোট ঘুমিয়ে গেছে,নীল হয়ে যাওয়া কপালের উঁচু জায়গা টা আশপাশ পানি পট্টিতে এমন ফ্যাকাশে। ভেজা রুমাল সরিয়ে নেয় হয় রেহেনা।একটুতেই সর্দি জ্বর হতে এটার জুড়ি নেই।ও ঘরে বালিশ পিঠা পিটিয়ে শব্দ পায় রেহানা।সোনা আররূপার এই যুদ্ধ প্রায়ই হয়।পিঠে দুই  একটা না পড় পর্যন্ত থামে না।মাঝে মাঝে তুলা উড়ে ময় ময়।রেহানা আর ভাল লাগে না।নীচের তলায় কমপ্লেন শুনতে হয় মুখে বোঝে।শিক্ষিত মা বাবার ছেলে মেয়ে কেন যে এমন হয়।শিক্ষার উপরে ধিক্কার আসে।কীসের সেন্স পিওর?কিসের বায়রন,শেলি ফিট,তা কিসের? রবীন্দ্রনাথ।সব অর্থহীন মনে হয়।যাঁতাকলে পিষ্ট হয় রেহানা নিজে পিষ্ট করে সময়কে।এ ভাবে কি ঘটনা টেনে ঠেলে শেষ হয়ে যাবে বেলা।পালক মাত্র।ঃযব  ভরৎফং ষবধাবং হড় ঃৎধবব ড়ভ রঃং ভষরমযঃ ড়হষুংধসব ভবধঃযবৎ ড়ৎ ঃযব ফঁংঃ,লাইনগুলো আওড়ায়একটু উচ্চারণ করে।নিঃশ্বাস গরম হয়,চোখের পাতা ভার।শূন্যের সমুদ্র হতে নিমিষে নিমিষে ধরে কায়া বেল আহিন বেলা তটে তোরঙ্গের মৃত্যুহীন মায়া।কত কবিতার লাইন তাঁর আজও মনে আসে।কত গানের সুর কথা কথার ছন্দ।কিন্তু শাহেদ শাহেদের তো সময় নেই কোনও।কী করে শাহেদ,কী করে এমন হয় এ ক টা মানুষ।একজন স্বামী, একজন পিতা।সকালে অফিসে যাবার সময় ছেলেমেয়ের দু টুকেঅফিসের গাড়িতে শুধু স্কুলে নামিয়ে যাওয়া।সারা দিনের সারা সংসারের মাত্র এটুকুই কাজে তাঁকে পাওয়া যায়।কত ম্যাডাম অফিসের গাড়িতে আসে যায়?এ কথা কোনওদিন সাহেদকে বলেনি রেহানা।জীবনেরশুরুতে সৎ পথেই চলা তাঁর কাছে দেবতুল্য মনে হতো।কিন্তু এখন সে তাতে মাঝে মধ্যে মান সম্মান সম্ভ্রম নিয়ে তাঁর টানাটানি পরেতা সে কথা সাহেব নিজে না বুঝলে রেহেনা বুঝবে কী করে।ভীষণ বৃষ্টির সময় যখন ভিজে ভিজে রিকশা ধরতে হয়।কাদা পানি ভেঙে সোনা রূপা কে আনতে যেতে হয়।অন্যরা বলে,এক জন ইঞ্জিনিয়ারের বউ দেখে মনেই হয় না।শামিগাড়িতে যাতায়াত করে।কিন্তু নিজে এত কষ্ট করে রেহানা পারে ও।রেহানাকে পারতে হয়।অফিস শেষে গাড়ি নিয়ে মসজিদে যায় সাহেদ।এএক বারে দত্মবলি করে এশার নামাজের শেষে বেশ রাত করে বাড়ি ফিরে।ড্রাইভার টাও পেয়েছে এক কট্টর মৌলবি।দুজনে জমেছে ভাল।কে যেন সেদিন বলেছিল কলেজ ইঞ্জিনিয়ার মৌলবাদী হয়।রেহানা তো শাহেদের কথা কোনদিন বলেনি।তবুও এরা কোথা থেকে যেসব জানতে পারে।নাকি অন্য আরও কেউ ও ইনজিনিয়ার এমন।কে জানে হতেও পারে।।রেহানা বুঝতে পারেন না কী করে সে ধর্মকর্মের পথে বাধা দেবে। মুরুব্বিরা বলে তাও তো ভালো যে ক্লাবে যায় না।পার্টিতে যায় না।রেহানা মনে মনে বলে তার জন্যে তো সংসারেহাল একই।ক্লাব পার্টিতে যায় না কিন্তু মসজিদে যায় তব্ লিগে যায়।ক্লাব আর পার্টির শেষে এটা ভাল কিসে তার রায়ে হানা খুঁজে পায় না।মাকে সে কি দেখেছে?কী দেখেছে বাবাকে?মা দুপুরে উল বুনেছে ক্রোশ কাটা এলে শুনেছে।তাদের ফ্রকের বুকে ফুল তুলছে ভরাট করে।তাঁরা স্কুল থেকে ফিরলে মা ইলিশের পেটি ডিম কেটে কেটে ভাগ করে খাইয়েছে।পিঠে উলের সোয়েটারের মাপ নিয়েছে।ফলে তালের বড়া ডালের বড়া কিছু না কিছু করেছে।বাবাহাসি মুখে খেয়েছে।নিজের বাজারের তারিখ করেছে।মা রান্নার মধুর ঝগড়া।বাবা চা মুড়ি খেয়ে বাজারে গেছে সাইকেলে। ততক্ষণে মার চাকা বেগুন ভাঁজি কিংবা আলুরডাল না দিয়ে ভাত রাঁধা শেষ।বাবা খেয়ে অফিসে গেছে। রাতে সবাই মিলে বসিয়ে বসিয়ে খাওয়া মাদুর পেতে।মাদুরের কোণায় কালির দাগ দেখে বাবা বলছে।কিরে কালী ঢেলেছি বুঝি।মা আবার এজন্য মারেনি তো?তাঁর আমার হাতে কোঁদা কচি মার খেয়েছে।বাবার হাতে কোনওদিনই খায়নি।সেই মা বাবার মেয়ে হয়ে রেহানা দমদাম ছেলেমেয়ে মারে। চোখবেজে উঠতে চায় রেহানার।বাবা রোজ রাতে তাদের পড়া দেখেছে।মা পাশে বসে পাখা নেড়েছে।বাবার পিঠের ঘাম সিটি পেয়েছে।অফিস থেকে ফিরতে বাবা তাজা কই এনেছে?মা তখনই কুমড়ো বড়ি দিয়ে মাছ রেঁধেছে।কী যে সাধ আছে এই মাছ যেন অমৃত।আর বুঝিয়ে রেহানা চোখের পানি ধরে রাখতে পারবে না।বাবার সাথে আবৃত্তি করেছে।ধর্মপদ আলোচনা করেছে আবারও বড় হয়ে।যেমন দড়জি¦ কাঠের চামচ চিরকাল সব পোরসের মতো থাকিল ও কখনও সব পরশ আস্বাদন করিতে পারে না।তাঁর জীবনটাও কি সেই রকম নয়?সংসারে সে হাবুডুবু খাচ্ছে। কিন্তু এই কি সংসারের স্বাদ।এই কি রূপ? রেহানার ব্যাপারটা আসলে অন্য রকম,কাউকে কিছু বলা যায় না শুধু নিজে নিজে পুরা ছাড়ে।কিন্তু কেন সে পুড়বে?সংসার ধর্মে অবহেলা করে এ কোন ধর্ম কর্ম করে শাহেদ,সমস্ত দায়, দায়িত্ব অবহেলা করে সে যা করে তা আসলে কী?রেহানার কাছে আজকাল নির্যাতন বলে মনে।অত্যাচার ক্রমশই বাড়ছে।গত মাসে হঠাৎ সে সাতদিনের জন্য উধাও ছিল।কোন বলানেই কওয়া নেই।তা ফিরবার পরে জানা গেল, তব ওলিকে গিয়েছিল।কিসের সন্ধানে?কীসের মুক্তির আশায়?সংসার থেকে মুক্তি।আমার মনে অনেক পুঞ্জিভূত প্রশ্ন।শাহেদ ক্ষুধার্ত তৃষ্ণার্ত হয়ে ফিরে।অগ্নিশর্মা রাখে,কিন্তু বলার পরিবেশ রাখে না।প্রায় নিত্যদিনের ঘটনা।সেসময় তাঁর খাবার চাই। সেবা চাই।সেবাদাসী চাই।ইস্ত্রী তাঁর কাছে তখন ক্ষুধার ভোগের বস্ত্র যেমন দরকার তেমনই ভাত তরকারি।শাহেদ ফিরলে কোনও কোনও রাতে সোনা রূপা জেগে থাকলেওভয়ে কারে না।ওরা বুঝি কোনওদিনও শোনেনি,তা শোনেনি বাবা,মা তোমরা এসো তো বই খাতা নিয়ে।দেখি কেমন পড়ালেখা করছো।এসো একসাথে খাই আমরা দেখো আমি তোমাদের জন্য কি এনেছি।ছেলেমেয়েগুলো জীবনে এই  সাইট একদম অফ।বাবার আদর বা মনোযোগ কাকে বলে তা তারা জানে না।বরং বছরে  একবার পায় ভীষণ রোষ ভরা দেদার গালি।পরীক্ষার রেজাল্ট মনমতো হয় না বলে।সে গালি সব রেহানার গায়ে এসে বেঁধে।শাহেদ এটা দেখতে রাজিনয় যে পরীক্ষার রেজাল্ট ভালো হবে কী করে? কিন্তু তার ভাল চাই।বলবে সাধারণই মা কি করে? এ প্রশ্নের জবাব কি দেবে রেহেনা?সে জেগে ঘুমায়।তাঁকে রেহানা জাগাবে কী করে?অসহ্য লাগে রেহেনার।সে ছেলেমেয়ে পিঠায় উম্ম নিঃশ্বাসে ভরে ওঠে সারাক্ষণ। কিছুক্ষণ,তারপর আবার কলুর বলদ।কী করবে রেহানা?এমন মানুষের কেনই বা ঘর করবার স্বাদ হয়?সে কী ঘর ভাঙবে?বাঁধন ছিঁড়বে।সোনা রূপা আর ছোট ক্ষুর ভবিষ্যৎ।এ সব কি শাহেদ কোনও দিনও ভাববে না।দুঃখ আর অবসাদে ঝিমিয়ে পড়ে রেহানা।ছোট ঘুমের ঘোরে জোরে নিঃশ্বাস নিয়ে কেঁপে ওঠে।ওর বুকে হাত রাখে রেহানা। কি এক স্নেহে বুকে টেনে নেয়।সংসার এ তো মায়া। কিন্তু এ ভাবে আর কত দিন?

Read Also :-
Labels : #Bangla Golpo ,#Bangla Kobita ,#Bangla Romantic Story ,#Love Quotes ,#কলুর বলদ ,
Getting Info...

Post a Comment