কিন্তু নিরুচ্চার

কিন্তু নিরুচ্চার

 কিন্তু নিরুচ্চার




অনামিকা হক লিলির গল্প


আবার দেখে ফেললাম।অথচ আমার ভাবনা থেকে আমার চিন্তা থেকে।অতীতবর্তমান ভবিষ্যৎ থেকে দূরে রাখতে চাই।তোমার স্মৃতি মুছে ফেলতে চাই চিরতরে।একেবারে নিঃশেষ করে।কিন্তু এই সাই বলে বোধ হয় বার বাব দেখে ফেলি।বারবার ক্ষতস্থানের গভীর থেকে রক্ত ঝরে।আমার চেতনাকে বিধ্বস্ত করে।আমি ক্লান্ত হয়ে পড়ি।বিশ্বাস করো কোন তলা আমি ক্লান্ত আজ ভীষণ ক্লান্ততুমি আর কখনো আমাকে দেখা দিও না।তুমি এই ঢাকা ছেড়ে চলে যাও দূরে অনেক দূরে।নয়তো দেশ ছেড়ে অন্য কোথাও।এই কলেজে চাকরিটা না করলে কী হত তোমার?এটা কি তোমার নিছক খেলা খেলা চাকরি করার নয়।আমি জানি কুন্তলা আমি তোমার ব্যাপারে সব খবরই রাখি।মানে রাখতাম।তোমাকে দেখে বরাবরই আমার কষ্ট হয়েছে। কিন্তু আজকের মত আর কখনও হয়নি।আজকের কষ্ট আমার জন্য নয়।তোমার জন্য আমার কষ্ট।নিজের কাছে নিজে হেরে গেছো।কিন্তু কেন?কেন এমন করলে?তুমি সেদিন আমাদের বাসা ছেড়ে এসেছে।সে আজ থেকে তিন বছর আগের কথা।আমি তখন সবে পাশ করে বেরিয়েছি অর্থনীতিতে।বেশ ক বছর দণ্ডি দেওয়ার পর।বলেছিলে দেরি হোক তবু দামী বিষয়ে বের হলে।আমি বটে। তবুও আজ পর্যন্ত কিছুই জোটাতে পারিনি।মানে চাকরি বাকরি আর কি?তোমার অবশ্য খবর রাখবার কথা না তবুও।দামী বিষয়ে পাশ করেছি বলে ছিলে তো।বলছি,আজআবার এমন জাগাতে এসে পড়েছি যে এটাতেও কিছুই হবে না।বাসায় সবাই আশা করে আছে।সবার ধারণা পরীক্ষা দিতে দিতে অভিজ্ঞ হয়ে উঠেছিএইবার কিছু একটা হবেই হবে।তারা তো জানেনা যে আমি এটা অতি সহজক্লাস আসন নিয়ে বসে আছি সেই তখন থেকেই।সেই তখন তোমাকে দেখেছি আর তোমার কথাই ভাবছি।তুমি কি আমাকে লক্ষ্য করেছো?নাও করে থাকতে পারো।চুল একটু লম্বা হয়েছে।এ দিন তিন চারেক বোধহয় শেফ ও করেনি। তা বলে রং ও নাকি আগের মতো নেই পুড়ে গেছে।তুমি বলো পুড়বে না।পাশ করতে পাঁচেরও কাছে দশ তারপেরও তিন বছর ধরে চাকরি নেই পাচ্ছি না।অদ্ভুত ভবিষ্যতে পাবার আশাও নাই।এই আজকের এই তাতেই নাকি কে একজন বিশিষ্ট ব্যক্তি বাবাকে কথা দিয়েছিলেন।ছেলে পরীক্ষা দিক আমি দেখব।হায় রে পরীক্ষা দিচ্ছি আমি।গত পাঁচ বছরের অতীত শুধু ভেসে ভেসে উঠছে চোখের সামনে।তা তুমি কি আরও সুন্দর হয়েছ?অন্যরা হয়েছে বললেও আমি বলব না।তোমাদের কলেজের হল রুমে পরীক্ষা দিচ্ছি প্রায় তিনশ জন।এর মধ্যে তুমি নিশ্চয়ই আমাকে দেখনি।আর হাঁটাচলা কথা শুনেছি।দেখছি তোমাকে বারবার ফিরে ফিরে।সব কিছু।ম্যাটিং করে পড়বার অভ্যাস তোমার এখনো আছে দেখে ভাল লাগল।পায়ের স্যান্ডেল থেকে হাতের চুড়ি, কানের দুল সব মিলিয়েআমি তখন বলতাম যখন কোন কন্ট্রাস্টেরফ্যাশন আসবে তখন তুমি কি করবে?হেসে বলতে।ম্যাচিং সলে যুগে যুগে আর কনট্রাস্ট সাময়িক।তো তুমি আজকে ঘাড় কলাপাতা রঙের শাড়ি পরেছো।দিব্যি দেখাচ্ছে।সাধারণ মেয়েদের এর।রঙে গেয়ে দেখাবে। অথচ তুমি পড়েছো বলে খুবই স্মার্ট হয়ে গেছে রংটা।হাতে কি?একই রংয়ের চড়ি পড়েছো।আর সেই আংটিটা আমাদের বাড়ির আংটিটা সেটা হাতে পড়ে আছে কি?এই অন্যপার্শ্বে ছেলেদের খাতা সই করেছিলেন।তাই রক্ষা না হলে মুখোমুখি দেখা হলে এমব্যারাসিং হতো।পর তো আমারও।অ্যাডমিট কার্ড ফোটো শেষে মুখোমুখি।এখনও কিন্তু কুন্তলা বলেই ভাবছি তোমায়।কি প্রচন্ড লম্বা যে তোমার চুল।তোমার আগে পরে এ রকম আমি আর কারও দেখিনি।তো তুমি নিজেও দিব্যি লম্বা মেয়ে,মনে হয় পাঁচ তিন সাড়ে তিনহবেই।তারপর চুল পড়ত পিছন দিকে হাঁটুর জোড়া ছাড়িয়ে।সবগুলো সমান দীঘল সমান কুচকুচে। আর সে কি ঘন।মীনা ছিল তোমার আসল ডাকনাম।আর ভালো নাম বোধহয় এটা ছিল বড়সড়। কিন্তু সেটা মনে নেই নি কখনো।মেনা টাও আমার ভাল লাগত না।এই যুগে এরকম কি?কেশব ভর্তি মেয়েকে কোন তলা বলার আনন্দ থেকে বঞ্চিত হওয়া উচিত না।এটাই আমার মনে হত।মা দাদীদের মুখে শুধুই শুনি।সে যুগে ছিল। সে যুগে ছিল।আমি ওসব জানি না।এই যুগে এমন চুল ভরা মেয়ে আমি দ্বিতীয় দেখিনি।ও কিন্তু মা সে কথা স্বীকার করতেন না, বরং উল্টো করে অন্যরকম বলতেন।এত বেশি লম্বা চুল অপয়া র লক্ষণ।সংসারে নাকি?অমঙ্গল ডেকে আনে ইত্যাদি।মা কোথায় কোথায় বঙ্কিমের কপালকুণ্ডলা র কথা মনে করিয়ে দিতেন।কুন্তলা তোমার কি সে সব মনে আছে?সবার সামনে মিনা ভাবী বলে ডাকতাম আর আড়ালে কুন্তলা।এই আড়ালটুকু শুধুই কৌতুকের।তোমার এলো চুলের মতো একগোছা চুলে এ কটাফোস্কা গিঁট দিয়ে রাখতে।জিজ্ঞাসা করলে বলতে এমনি।পরে জেনেছি ওতে নাকি অন্যের চোখ লাগে না।অবশ্য চোখে লাগার মতো ব্যাপারই বটে।আমার সাথে দেখা হলেই গিঁটটা আমি খুলে দিতাম টান দিয়ে।ডাকতাম কুন্তলা তুমি হাসতে।উপচানো চুল সামলানো।ঢাকা ঢাকা হাসিটা ছিল চমৎকার।তুমি দূত বলে উঠতে দুটোকে জোড়া করে হাত দুইটিতুলে বেশ একটু ক্ষণ ধরে জড়িয়েখোঁপা করতে।টাউসএকটাখোঁপা হতো।আমি ভাবিতাম ফুল ছিঁড়ে এনে গুঁজে দিবো।বলতে পারলে ভাইয়া কে বলল।মায়ের ধারণাটাই বোধ হয় বসে গিয়েছিল।তাই তোমার চুলের প্রশংসা কখনও করেনি।খোঁপায় ফুল গুঁজে দেয়নি।এলোচুলের অভি সততা দেখেনি। খোঁপা বাঁধার কৌশল কখনও জানতে চাইনি।তুমি বলেছিলে তোমার ভাইয়াকেবলো।শুধু তুমি আমি ছাড়া কুন্তলা ডাকের কথা আর কেউ জানত না।এতে তুমি আনন্দ পেতে বুঝতাম।কিন্তু কোনও পশ্রয় তুমি দাওনি।বলতে দুদিন পরেই শীতের মরা পাতার মতো ঝরতে শুরু করলে আবার নামকে তুলে নেবে বুঝি।তখন কি নাম দেবে?ঠিককরে রেখো।আমি কী বলব বুঝে উঠতে পারতাম না।ঠিক এখন যেমন বুঝে উঠতে পারছি না।ক্যামু দিশেহারা চোখে পশ্নপত্র এ দিকে তাকিয়ে।তোমার গলার স্বর ভেসে আসছে।তুমি বেশ জুড়ে জুড়ে আমাদের উদ্দেশে বলছ।নাকি তোমার গলার সুর?টনটনে বলে জানি না তুমি বলেছ।তা আপনারা সবাই যার যার প্রশ্নপত্রের উপরে। আপনাদের নাম ও রোল নম্বর লিখুন।এ প্রশ্নপত্র পরীক্ষা শেষে খাতার সাথে ফেরত নেওয়া হবে।সবার সাথে আমিও তোমার কাছ থেকে আপনি ডাক শুনে নিলাম।আমি ইচ্ছা করেই রোল নম্বর আর নাম লিখলাম না।আমার জন্য অন্তত এটুকু কষ্ট তোমার হোক।এই রুমের আর সব টিচারের সাথে তোমারও একটুও ভোগান্তি।যাই হোক, আমার নাম খুঁজে বের করে লিখতে চেনা। নাম দেখে একটুও কি চমকাবেন না।আফসোস করবে না হায়।কেন? হলে তখন দেখলাম না।আমি অত্যন্ত সোজা প্রশ্ন কেউ গুলিয়ে ফেলেছি।রয়েছে অপ্রয়োজনীয়। অর্থাৎ যেটার কম মিল আছে সেটাই ঠিক চিহ্ন দাও।রয়েছেচেয়ার টেবিল সোফা।কাবার্ড, ফাইল ইত্যাদি।এর মধ্যে কম মিল কোনটায়?আমি চোখ বোলালাম কিন্তু কোনওটাতেই তাই দেখলাম না।তারপরে রয়েছে লিলি ফ্লাওয়ার,ডেজিফ্লাওয়ার,কলিফ্লাওয়ার,ডালিয়া ফ্লাওয়ার।দ্য ফুলকপি টাই যে বেমানান।না না সেটা বুঝিয়েও ঠিক না দিকে অন্য প্রশ্ন দেখলাম।সেটা তো সহজ হয়েছে। রঙ তুলির বোর্ড প্রস্তুতি অভ্যাস।আমি হেসে পাতা ওলটৈ অন্য প্রশ্নে গেলাম।মনে হল পাশ দিয়ে তুমি হেঁটে গেলে।আমি থমকালাম সেই পরিচিত পারফিউমের গন্ধটা বোধহয় এক ঝলক ভেসে এল।আমি আরেকবার পাওয়ার জন্যও জুড়ে শ্বাস নিলাম পেলাম না।উল্টো পাশের ছেলেটা আর ঘামের গন্ধে নিঃশ্বাস ভার গেল।আমি নিঃশ্বাসটা ফুসফুসে না ঢেলেও।উল্টে তখনই ফিরত পাঠালাম বাইরে।উলটো দিকে মুখ করে নতুন করে নিঃশ্বাস নিলাম।আর ফেললাম বেশ জোরে জোরে দুইবার।হাত মদ কালাম,হাত ঝাড়লাম।তাই তুললাম যেন লিখতে লিখতে কত ক্লান্ত।অনেকেই এর ঘণ্টা পরার পরেই বাথরুমে যাচ্ছিল।আসল প্রয়োজনীয় হতে পারে কিংবা বই দেখতে।পরীক্ষার সময় বাথরুমগুলো জিবি লাইব্রেরি হয়ে ওঠে।অবশ্য আরও এ কটা ব্যাপারও আছে।এই মেয়েটি চাঁদের মতো বসে পরীক্ষা দেওয়ার ব্যাপারটা।তোমার মতো সুন্দরী যদি যদি দুই একজন থাকে আর এ রকম অয়েল ডেমড,বলো লিখবে না দেখবে।তাঁদের দমদম বাত্ রোম পাবে নাই বা কেন?তাঁর অবশ্য সত্যিকারের দরকারি মনে হচ্ছিল।কিন্তু তুমি যদি হঠাৎ খেয়াল করো তাই থেমে থাকলেন দেখলাম তোমরা টিচাররা সবাই এত বারকরে আমাদের মাথা গুনছোহিসাবে মনে হয় গরমিল হচ্ছিল,তুমি সঙ্ঘ গুণ ছিলে। আমি মাথা নীচু করেছিলাম।সেটাই কি গরমিল?ভাবলাম দাঁড়িয়ে বলি যে আমিও আছি এই আমি তোমার।তোমার গলার স্বর আবার ভেসে এলো।পদাবলী লাইন মনে হয়ে গেলকানের ভিতর দিয়া মরমে তাপসী লোগো আপ আকুল করিল মোর প্রাণ।তুমি বললে আপনারা কে ক্যালকুলেটার ব্যবহার করবেন না। কারও ঘড়িতে থাকতে পারে।তারা ঘড়ি জমা দিন। পরীক্ষা শেষ হলে নিয়ে যাবেন।আমার এই ক্যালকুলেটার বসানো এটা কিন্তু  তোমারই দেয়া। পরীক্ষা সুবিধার জন্যই তুমি কিনে দিয়েছিলে।আর আজকে তুমি সেই একই কারণে খুলে যাচ্ছে।আমি খুব দ্রুত ঘড়িটা খুলে পকেটে রাখলাম।হাতে দিতে চাইনা তাই।তুমি আবারো পরিচিত সুবাস ছড়িয়ে পাশ দিয়ে গেলে।অন্য ম্যাডামরা একটু একটু গল্প করছিল চাপা স্বরে।শাখা ছিলাম। কিন্তু তুমি সারাক্ষণই টহল দিচ্ছিলেন।কয়েদখানা টহল পুলিশের মত,বেশি সিনসিয়ারিটি দেখেছিল নাকি সুন্দর্য। আমার মতোই অন্য অনেকেই তোমাকে দেখেছিলো। সেটা আমার ভাল লাগছিল না।অন্যরা অনেকেই প্রশ্ন না বোঝার ভান করে বারবার তোমাকে ডাকছিল।তুমি মিষ্টি হেসে ওদের কি যেন বলেছিলে অসহ্য।কেন যে ঘণ্টা শেষ হচ্ছে না?৩ ঘণ্টা যেন অনেক সময়।আগে খাতা দিয়ে চলে যায় তা ও হয়।তাহলে তো অবশ্যই তুমি দেখে ফেলবে।এখনও যে তুমি দেখো না সেটাও মানতে পারছি না।কারণ তুমি তো দিব্যি চতুর ছিলে এখন।এতগুলো ছেলে একসাথে পেয়েছ আর তুমি তাদের দেখবে না।তা কি হয়?দেখতে গেলে বারান্দায় দাঁড়িয়ে এক কাপ চা খেতে খেতে তুমি খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে ছেলেদের দেখতে।বাসায় এসে ওদের গল্প বলে একে বারে।ঘণ্টা নষ্ট করে দিতে।কার ব্যক্তিত্ব আছে।তাঁর নেই, তুমি নাকি দাঁড়িয়ে থাকা দেখেই বলতে পারো কারমোজায় গন্ধ করে আন্ডারও আর অপরিষ্কার তা ও মুখে দেখে বুঝব। আর প্রেমিকদের তো সবাই বুঝে যেমন নেশাগ্রস্তদের ও বোঝা যায় ইত্যাদি।তুমি কি করবে? আজকে বাসায় গিয়ে।কার কাছে গল্প করবে?তোমার ব্যবসায়ী স্বামীটির সুস্থ রসবোধ আছে কি?হয়তো তোমার কপালে ঐ জিনিসটাই নাই।যেমন ভাইএর মধ্যেও ছিল না।তুমি আমাকে অনেকবার বলেছে।এককবাড়ির দুই ছেলে একে বারে দুই রকম হয় কী করে?আমার জন্য ওইটুকুই যথেষ্ট ছিল।কিন্তু আমি না বুঝেই আর একটু বেশি আশা করেছিলাম।না স্বস্তি পাচ্ছি না, মুখ দেখাতে পারছি।না স্বাভাবিক হতে পারছি তোমার সাথে।অথচ সারাক্ষণই কুরে কুরে খাচ্ছিল আমার ভিতর।এই ঘটনাটা সেদিন ঘটে গেল।মা বললেন, অপয়া বউ।ভাইয়া কেন যে ব্যাপারটা ঘটিয়েছিল?ভাইয়া এখনও সবার কাছেই অজ্ঞাত।মনে হয় তোমার কাছেও।তোমরা কি সুখী ছিলেন না?ভাইয়া কি নপুংসক ছিল?নাকি অন্য কোনও কিছু?এ নিয়ে অনেকদিন অনেকের জল্পনাকল্পনা হয়েছে আর নয় থাক। শত্রু মিত্র উভয় পক্ষই নানা কথা বলেছি।ভাই আর কোনও পুরানো ব্যাপার খোঁজবার চেষ্টা করছিল।তোমারও যা নাকি তোমাদের এমন লজ্জার ব্যাপার হতো যে ভাই আর সহ্য করতে না পেরে এমন করছে।অনেকে বলছে, ব্যাঙ্কে খোঁজ নিয়ে দেখ,হয়তো অনেক বড় কোনও ঘাপলা করেছে। এখন ফাঁস হয়ে গেছে তাই।কিন্তু কোনসূত্র শ সূত্র ধরেই সত্যতা পাওয়া যায়নি।আমাদের আত্মীয় স্বজনেরা তোমাকে দোষী করতে চাচ্ছিলো।আত্মহত্যা না বলে বলতে চাচ্ছিলোসাজানো হত্যা।প্রথম থেকেই তুমি খুব নীরব ছিলেন।হাঁ বা না কিছুই বলেননি।সম্ভাব্য তাও খুঁজতে চাওনি কোনও প্রশ্ন করে।সবাই বলেছিল, সকালে যখন তুমি চিৎকার দাও তখন নাকি তুমি দুই হাত দিয়ে ভাইয়া গা থেকে গলা থেকে তোমার চুল স্বরা ছিল।আর আর্ত চিত্কার করে তুলেছিলেন বন্ধ ঘর।তার পর ছুটে দরজা খুলছে। তখন তোমার এত রাসখোলা এল চুল।কিন্তু তুমি বলতে কখনও এলোচুলে ভাই আর কাছে থাকতেন না।ব্যাপারটা বুঝিনি।যাক সে তোমাদের ব্যাপার।করতে চেষ্টা করেছিল তুমি নাকি ভাইয়াকে চুলের ফাঁসে মেরেছ।আমার খুবই খারাপ লাগছিল। এরকম ভাবতে। আর এই ভাবে বলে থানা পুলিশ করতে। তখন থেকেই সম্ভবত ও নীরব ছিলেন।আমার কষ্ট হয়েছিল খুব খুবই।এই পোস্ট মর্টেমের রিপোর্ট স্বস্তি এনেছিল আমায় জিও আমার আত্মীয়রা তবুও ছাড়েনি ছিলো তোমার বাবা। আর ভাইয়ারা টাকা দিয়ে অন্য রিপোর্ট লিখিয়েছে। মাভাইয়ের সার্টিফিকেট গুলো নিয়ে বসে বসে দেখেছে বারবার।আমার একমাত্র বড় ভাইয়ের জন্য ও যা আর বিলাতে তোমাকে এ চিতকার করেছিল বারবার।আমি এ ব্যাপারে মাকে কিছু বলতে পারিনি। পুত্র সুখে সেও তো পাগল প্রায়।বিয়ে করে আসা উপযুক্ত ছেলেকে এই বয়সে হারানো।এ কি কোন মার সয় তুমি বলো।তুমি আমাদের বাড়িতেই ছিলে,বললে তুমি ভাইয়া স্মৃতি ধরে সারা জীবন থাকবার বাসনা কোথাও হারিয়েছেন।আর ঠিক সেই সময়েই আমি বিরাট ভুলটা করে বসে ছিলাম।মাকে বলেছিলাম।যাক না কুন্তলা চিরকাল  আমাদের সাথে।আর একবার আমাদের বাড়ির বউ হয়ে।মা রেগে খেপে গিয়েছিলেন। চিৎকার দিয়ে বলেছিলেন।এই অপয়া বউ।আবারওতুই তুমি কি জানো কি রকম এরকম করে আমাদের উভয়ের দিকে তাকিয়ে ছিল।সে দৃষ্টিতে কি ঘৃণা ছিল?তা ছিলো নাকি অহঙ্কার বুঝিনি।সেই দিনই তুমি চলে গিয়েছিল এ সব কিছু ফেলে শুধু ভাইয়ার দেয়া আংটিটা হাতে রেখে।ঘুরতে কোনকথা বলেনি।আমার বলার মুখ ছিল না।শুধু বাবা বলেছিলেন।কোনও।দরকার হলে স্মরণ করো মা।তোমার খরখরে শুকনো চোখ সেই মুহূর্তে বিশ্বে উঠেছিল।তুমি বাবাকে সালাম করে রিকশায় গিয়ে উঠেছিলেন।দাঁড়িয়ে ছিলাম কাঠের মূর্তির মত চেতনাহীন।তুমি রিকশায় উঠবার আগে সেই পরিচিত ভঙ্গিতে ঠোঁট দুইটিজোড়া করে খোঁপা বেঁধেছিলে পিছিয়ে পিছিয়ে।আমার বুকের ভিতর ও তেমনই মুসড়ে মুসড়ে পাক খাচ্ছিল।সীমাহীন বেদনা বোধ। কিন্তু নিরুচ্চার।ঘণ্টা বাজল।তুমি বললে,আর মাত্র এক ঘন্টা আছে পরীক্ষা।এর ওর দিকে না তাকিয়ে।নিজেরা লিখুন।কিন্তু আমি তোমার দিকে না তাকিয়ে যে পারছিলাম না।তুমি তো বললে আর মাত্র এক ঘন্টা সময়।তার পর আমি চলে যাব।তুমি চলে যাবে যে যার পথে।সময় বড়ো দ্রুত যাচ্ছে এখন।অথচ একটু আগেই ভাবছিলাম কেন তিন ঘন্টা যাচ্ছে না।আশ্চর্য মানুষের মন।সময়টা বারুখ বেড়ে অনন্ত হোক।দুই থেকে শুধু একটু দেখা সে সময়ও বাঁধা।হঠাৎ চমকালাম শালতাকে খুলে রেখেছ তুমি।তবু ভাল,একব র  অন্তত পরিচিত ভঙ্গিতে খোঁপা বাঁধা দেখতে পাব।আমি শুধু শুধু কলমও ধরে বসে আছি চোখ তোমার দিকে রেখে।কোথায় যেন পড়েছিলাম।যার দিকে এত দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকা যায় সে নাকি একটু ক্ষণ পরেই বুঝতে পারে।সময় তো প্রায় ফুরিয়ে আসছে।এখনও কি তুমি বুঝলে না।অবশ্য জেগে থাকা ঘুমন্তকে তো জাগানো যায় না।তেমন যদি বাংলা প্রবন্ধ আর ইংরেজির প্রশ্নটা এ ক ব র চোখ বুজলাম।ইকনমিক্স এর উপরে এ কটা করেছিল।বেশ পাড়া যেতো।কিন্তু আমি তো তোমাকে ভাবছি,দেখছি,খাতা সোজা করে ভাঁজ করে রাখলাম। একেবারে লেখা শেষ এই ভাবে।কিন্তু এ কী এ কী দেখছি  কুন্তলা , তাঁর দেওয়া নামকে ভুলতে কি তুমি এরকম করছ?নাকি কোনও সংস্কার তোমার মধ্যেও বাসা বেঁধেছে।নাকি কোটিপতি তোমার প্রতি ব্যবসায়ীও এই অভিরুচি।কেন কেন তুমি এ কাজ করলে কুন্তলাচোখ চেপে কান্না এসে গেল। রোধ করার চেষ্টা করলাম। পারলাম না।পাশে পাশে ছেলের কাছে লজ্জা পাচ্ছি। সবার কাছেও তাই খাতা রেখে বের হয়ে গেলাম যাই বলে।তুমি খাতা নিয়ে এসে গুনে গুনে প্রশ্ন সহ তিনথানা।পরিচিত ভঙ্গিতে খোঁপা বাঁধতে চেষ্টা চলছেথমকে থমকে।কাটা চুল পিঠে এ সরালে,আমি চোখ মুছতে মুছতে হারিয়ে গেলাম।তোমার ভাবলেশহীন নির্বিকার চাহনিতে বি বিরতি হচ্ছি।তুমি কি সত্যিই আমাকে চিননি কুন্তলা। 
Read Also :-
Labels : #Bangla Golpo ,#Bangla Kobita ,#Bangla Romantic Story ,#Love Quotes ,#কিন্তু নিরুচ্চার ,
Getting Info...

Post a Comment