হাতের মুঠোয়

অশমিকা হক লিলি
বঙ্গবন্ধু সেতু, সেতু, সেতু, সেতু। আর কারও বাসায় এ নিয়ে কেমন আলোড়ন উচ্ছাস বা আনন্দ হচ্ছে বুঝছি না তবে আমাদের বাসায় বেশ কমাস ধকেই অনেক, জল্পনা কল্পনা' চলছে। বিশেষ করে যে দিন থেকে নির্ধারিত হয়েছে এই বীজ উদ্ভোধনের দিনটির কথা ২৩ শে জুন। আমরা বাসায় সাকু পাঁচ জন আর কারে আর কাজের ছেলেটি আর ড্রাইভার ওরাও রিবারেরই সদস্য তাই সত। গত তিন মাস কোন না কোন ভাবে সপ্তাহে অন্ততঃ দুদিন ওই ব্রীজর প্রসঙ্গ উঠবেই সে নাস্তার টেবিলেই হোক বা রাতে খাওয়ার টেবিলে। র্দীঘ প্রতীক্ষা একটা কিছু হতে যচ্ছে দেশে। এই সেতু এ যেন স্বপ্নের বসল আমি আশ্চর্য হয়ে দেখি এই একটি ব্যাপারে সবারই উচ্ছাস আর এই উচ্ছাসের নানা রুপ বয়স বেদে কর্তা বলেন, সত্যি বলতে কি ভাবতেও পারি নি আমাদের এই জীবনদ্দশায় দেখে যেতে পারব। সেই করে ১৯৭২ যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব গিয়ে ছিল জপানে, সেখানে আলোচনা করেন এসে ছিলেন যমুনার উপরে সেতু— কারর আরও সঙ্গে ছিলেন ক্যাপ্টেন মনসুুর আলীর, আর জাপান বাংলাদেশ মৈত্র সমিতির সপতি জাপানী ভদ্রলোক নাম মি: হাওয়াকাওয়া। শখ মুজির যমুনার ধরে বালুর চরে গিয়ে স্থান নির্বাচন করে এসে ছিলেন কিন্তু ৭৫ এ তো তিনিই আর রইলেন না। কর্তা তো না বলে নাম বললেই সহজ রহমান সাহেবের এই সব বলতে বলতে কেমন যেন আবেগ তাড়িত হয়ে উঠেন, কথা তার ফুরাতে চায় না। ৭৫ এ বঙ্গ বন্ধু নিহত হওয়ার পর ভাবলাম ওই বালু চরে দেখে আসা ব্রীজের নকশা বালু চরে বাঁধা বাড়ীর মতই হয়ে গেল। সামান্য বাতাসেই তাই বদলে যবে বিলীন হয়ে যাবে। হয়ে গিয়ে ছিল তাই পরবর্তী সরকার একে বার নাকচ করে দিয়ে ছিলো। আর তখনই ঔ রকম ভাবতাম আমাদের জীবদ্দশা না হয়ত ছেলে মেয়ে কিংবা নতি নাতনি আমলে হলেও হতে পারে। কিন্তু তার পরবিতি সরকারের আমলে যেন একটু আশার আলো দেখছিলাম যখন সবকিছু থেকে যমুনামেড় উৎস কাটা হয়ছিল। এই ট্যাম কাটা নিয়ে কতো টা আলোচনা সমলোচনাই যে হয়েছে। এই ছোট্র দেশের সবাই একসাথে খুশী মনে এই ট্যাস দিতে চায়নি সরকার তাই বাধ্য করে ছিলো দিতে। কতো দিনের কতো জনের শ্রমের রক্ত পানি করা টাকা যে এতে রয়ছে। যাক তবু তো হলো বলতে গেলে জীবদ্দশায় দেখেই তো গেলাম কি বল। রহমান সাহের একটু আবেগাপ¥ুত হলেই প্রথমেই চোখে পানি আসে তারপর গলা ধরে যায়। মেয়ে ঝুনু তখন তাকে থামিয়ে দিয়ে নিজে বলতে শুরু করে। বলো বাবা সেই কবে থেকে বলছি যখন থেকে কাজ শুরু হয়েছে তখন থেকে বলছি, অর্ধেক কাজ হলে তখনও বলেছি, আবার শেষ পর্যায়েও বলেছি, কতো জন যাচ্ছে চলো আমরাও ব্রীজের কাজ দেখে আসি। তুমি গেলেই না। বারে বারেই বললে, না একেবারে হয়ে যাক তখন যাব আল্লাহ হারাত দিক তখন যাব। যাক বাবা বাঁচা গেল উদ্ভোধনীর দিন একেবারেই সমনে। তারপড়ই একটা ঠিকঠাক দিন করা সবাই মিলে যাওয়া মজাই আলদা ছেলে সুমন বলে, দিনটা কিন্তু আমাকে আগে থেকেই জানিও। এদিকে কতোকিছু সামলতে হবে না আমাকে। টিকেটের মাচ, কোচিংয়ে ক্লাস, কম্পিউটারের ক্লাস, এসব মনে করতে হবে তো? আচ্ছা ববা আমাদের গাড়ী নিয়ে না যেয়ে একটা মাইকো ভাড়া নিলে কেমন হয়? মনে হয় সেটাই ভালো ঝুনু ফোড়ন কাঠে, বুঝেছি তোমার দুটো বন্ধু সাথে নেবাই ইচ্ছা হয়েছে তা বললেই হয়। তোমা তো আবার বন্ধু ছাড়া দেশের বাড়িতে বেড়াতে যাওয়াও চলে না? মাইক্রো বাসে কথায় কজে ছেলেটার খুশী বাড়ে। এতে সে নিশ্চিত হতে পারে একসঙ্গে তারও তো হবে বলে। প্রত্যেক বছর সে নাইট কোচে করে বাড়ি যায়, সে কিন্তু দেখতেও পার না মজাও পর না। খাল্লা আম্মারা সাকালে গাড়ী করে যার, ফেরীতে কাতো কিছু খায়, দেখে কিনে,ইচ্ছেমত গাড়ি থামায়ে বিশ্রাম নিতে পারে, কতো কিছু করে তাই সুমনের কথাতে মাইক্রোর সাথেই তার সমর্থনকে রাখে। তবে এতে ড্রাইভারের যাওয়া হবে কিনা এ নিয়ে সন্দেহ থাকে তার। পরে হয়তো এ নিয়ে নিচে গিয়ে সে ড্রাইভারের সাথে আলোচনা করে। সব চেয়ে মজা করে, ছোটটা, রুমপা, বুঝুক না বুঝুক সব রকম আলোচনাতেই তার আসা চাই। বলবে? সেতু মানে তো ব্রীজ, তাই না বাবা ? কিন্তু বঙ্গ বন্ধু ব্রীজটা বানাতে এত দেরি হচ্ছে কেন? এই ব্রীজটা নিউমার্কেটের টার সমান নাকি ফার্মগেটের টার সমান ? রুমপা মাত্র কস্নাস টুতে পড়ে, সব সময় পটর পটর কথা ঠেঁাটে লেগেই থাকে। ওর দেখা ব্রীজ ওই দুটোই, একটা স্কুলে যেতে যেতে মাঝে মাঝে পাড় হয় আরেক টা মায়েয় সাথে গাওসিয়া মার্কেট হয়ে নিউমার্কেটে গেলে মায়ে হাত ধরে পাড় হয়। রুম্পা বলে ব্রীজে যাওয়া সময় মা তুমি কত খুচরো টাকা সাথে নিয়ে যাবে? সুমন বলে মা খুচরো কেন নিবে রে, রুম্পা ওমা তাও জানে না? ব্রীজে তো অনেক রকম ফকির থাকে। শুয়ে বসে দায়িয়ে, আবার কাঠের বাসে বসে, মা ওদের সবাইকে টাকা দিতে দিতে যায় তাই বললাম। আর কতো ফেরিওয়ালা থাকে, কতো কিছু কিনতে পাওয়া যায় ঠিক যেন মেলার মতো মনে হয়। আচ্ছা ভাইয়া বঙ্গ বন্ধু সেতুতেও কি এরকম মেলার মতো লাইন দিয়ে দোকান থাকবে? খলনার দোকান থাকবে টাফ আইসক্রিমের দোকান থাকবে কি ? সুমন হেসে উঠে, হেসে ওঠে রহমান সাহের আর ঝুমু বলে, দুর বোকা, তুই কিছুই জানিস না। এটা সেই করম ব্রীজ নাকি? গাধা কোথাকার আর যায় কোথায়, সবাই হাসলে কান্না শুরু করে রুম্পা কাঁদতে কাঁদতেই বলে, একবার নিয়ে তো গেলে না দেখাতে কেমন ব্রীজ। খালি তো সবাই মিলে ব্রীজে যাব যাবই করছ যাচ্ছো না তো। রহমান সাহেব বলেন যব রে মা যাব, এবার সত্যিই যব, যমুনার উপর ব্রীজ হলো আর অমরা যমুনার উপারের লোকেরা যাবো না তা হয় ? শীঘ্রই যাব অতি শীঘ্রই যাব। এতখনে আমি বল লাম, তাহলে আমের সময় থাকতে থাকতে যাওয়ার প্রোগ্রাম করলে ভালো হয়। ঝুনু বলে কিন্তু মা রাজশহীতে যে গরম তুমি কি পারবে সহ্য করতে ? সুমন এবার ঢাকাতেই কি কম ? মা ঠিকই বলেছ আমের সময় গেলে, খাওয়াও হবে আনাও হবে। আর সে জন্য তো মাইক্রো নিতে হবে। মাইক্রো নিতেই হবে না বাবা। রহমান সাহের আমের সময়ই যাব আর মাইক্রো বাস নিয়েই তো যাব, তুই তোর দু' একজন বন্ধু কেও বলিস খতি নাই, প্রথম বার যমুনার উপর দিয়ে ব্রীজে যাব বেশ সরবেই যব। সবাই মিলে আন্দদ করতে করতে যব, টিফিন কেরিয়ারে থকবে হালুয়া রুটি মুরগী, ফ্রাস ভর্তি চা তোদের জন্য কোডডিংক, ঠান্ডা পানি, ফল, মিষ্টি, কেক, তোর মায়ে খিলি করা পান। সুমন, বাবা, তুমি এই যাওয়া নিয়ে বড় বেশী আরেগ পবন হয়ে পড়েছ। রহমান সাহের আবেগ পবন আবে কি এমনি এমনি আসছে বাবা? এমনি আসছে না রাজধানী ঢাকা থেকে, তারও আগে পূর্বপাকিস্তানের সব কথা, যা তদের জানার বাইরে সেই আবেগ যে কাজ করেছে আছ। কি জানি যে ছিল উত্তর বঙ্গে যাওয়া! কোন সময় গিয়ে কোন দিনি তা রক্ষা করা যেত না। এই পূর্ববঙ্গ থেকে উওররঙ্গে। বিমাণ তো হলো তাও ঈশ্বরদী হয়ে প্রথমে। কিনÍু কয়জন আর কতো খরচ করে. বিমানে যেতে পারে বল? সবার জন্য ওই খেরাপারপারই উপায়, একমাত্র উপরেই চলাচলে। কতো যে কষ্ট কতো যে বাধ বিগ্ন নিজের বাব মার সাথে যোগাযোগ তাও যেন ছিলো খুবই কষ্ঠকর। কত গুলো ফেরী ছিল জানো? একে বারে, শুরুতেই এই মিরপুরের ছোট এক লোহারপুল। এর একধারের গাড়ী চললে অন্যধারের, চলমান বন্ধ থাকতো, একসাথে দুটো গাড় চলতে পারতো না এতেই সরু ছিলো ব্রীজ টা। প্রায় আধঘন্টা থেকে একঘন্টা ওখানেই কেটে যেতে। তারপর একটু যেতে না যেতেই আবার নবাবহাটের ফেরী, তারপর আবার তারই পরহয়ে মানিকগঞ্জের ফেরী তবে এলো প্রধান ফেরী, যমুনা পাড়ি দিতে হবে। ওই সব ব্রীজেও অনিদিষ্ট সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতো আর আরিচা থেকে নগরবারী যেতে শুধু অনিষ্টি নয় বলতে গেলে অনিশ্চিত হয়ে পড়ত কখনও কখনও কত যে সময় নষ্ট, কতো যে দুর্ভোগ পোথন কতো যে আসুস্থা কতা যে ক্ষতিস্বিকার তার কোন হিসাব নাই ববা। শুধু এই সব কারণে কতো মা বাবা যে মাথা খুঁড়েছে সন্তানকে একটু কাছ পাবার কিন্তু সময় মতো পারনি তারা। অনেকের ইচ্ছা থাকলেও কষ্ঠের কথা ভবে কম সম্পর্ক রেখেছে গ্রামের সাথে।কত ব্যবসায়ীর কত কাচা ফসল নষ্ট যে হয়েছে। আম লিচু, ময়জে, পিয়াজ, তরমুজ, শাকসবজি এই পাড়ে আনলে তাদের ব্যবসা হতো, কিন্তু তা পারে নি। সুমন মা তুমি কিনÍু সামনে ২৩ই জুন অবশ্যই ভাল খাবার দাবার রাধবে। এত বড় একটা ব্যাপার হচ্ছে বাবার সেন্টিমেন দেখে ব্যাপারটা বুঝলাম আরও বেশি করে। তিন মাইল সেতুর জন্য আমাদের দেশ কতই না অসুবিধা মুখে ছিল। ব্রীজ টা লম্বা প্রায় তিন মাইল তাই নাহ বাবা। আর এটা পৃথিবীর বড় সেতুর গুলোর মতই ১১ নম্বর তাই নাহ। ঝুনু এবার চা খাও অনেক হয়েছে। আর ঠিক দিনটি ঠিক কর। যে দিন সবাই মিলে যাব আমরা গরম থাক আর বৃষ্টি থাক। মার কথাই ঠিক আমের সময় যাব। রহমান সাহেব ঠিক আছে। তোমরা সবাই মিলে ঠিক করো বাকী সবতো এখন হাতের মোঠই।
Read Also :-
Labels :
#Bangla Golpo ,#Bangla Kobita ,#Bangla Romantic Story ,#Love Quotes ,#হাতের মুঠোয় ,
Getting Info...