ফেরা

অনামিকা হক লিলি।
প্রায় দশ বছর পর বকুল এই লাইনে আবার এলো।এই স্টেশনে এসে নামলো।একবার যাবার পর আর এই পথে ফেরা হয় নাই। এ সময় এই স্টেশনে সে রোজ রোজ আসত।সকাল বিকাল রেল পথ পেরিয়ে স্কুলে যেত আসত।সাথে থাকত ছোট বোন মুকুল।পাড়ার বন্ধু ইলা রিজিয়া।বকুলের মনে ধাঁধা লাগে।এ কি সে দিনের কথা নাকি প্রায় এক যুগ আগের কথা।কিন্তু আশপাশের সব কিছুই যেন স্পষ্ট। সে তো চিরচেনা যেন এই তো সেদিন।অল্প হিলের সাদা জুতার ওপর দাঁড়িয়ে সব যেন স্পষ্ট হয়ে ওঠে।বকুল গাছ ফোর তোলে সব সময়েই ভিতর সব লেগে থাকা বালিকা।স্টেশনের নাম লেখার পাশ ঘেঁষে ফেলে।ভাজার উনুন জ্বলত সকাল বিকাল। তাই নাড়ুয়া বিস্কুটের টিন চাপড়ার দোকান।বড় বয়ামে গোলাপি টিপ দেওয়া বর বিস্কিট তাদের লোভাতুর করত। নজর ফেলল স্টেশনে পাগলিটা যেখানে বসে এ নিয়ে কাঁদত।এখানে সে তার ছেলে হারিয়ে ছিল।তাই হয়তো ভাবতো পিষ্ঠ হয়ে যাওয়া সেলে কাঁদলে ফিরে পাবে সে। তাই বকুলের এ কবার। হাত বুলিয়ে নিল স্টেশনের নাম লেখা বাধন ও সিমেন্টের শিরশির করে উঠল সমস্ত শরীর?কী করে সে ভুলে ছিলো এতোদিন এই নামটা কি?চোখে পড়ল কে যেন নামটাকে কাঁচা হাতে বড় বড় করে স্টেশন মাস্টারের ঘরের দেয়ালে লিখে রেখেছে কয়লা দিয়ে।মনে মনে কী এক হাসি হাসল বকুল।হয়তো তাঁর মতোই কেউ যাওরার আগে আবেগপ্রবণ হয়ে লিখেছে।যাতে একে অপরকে ভুলে না যায়।আবারওআনটু হাসে বকুল।তাঁর হৃদয়ে যে লেখা সে তো অনেক আঁচড় কাটা গভীরে।যা রক্তক্ষরণে গাঢ় দাগ পড়েছে।ব্যাগ হাতে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে রইল বকুল।সেখান থেকে রিক্সা নেবার কোনও মানে হয় না।এটা মাত্র ব্যাগ।বলে কুলিরাও বিরক্ত করেনি।নতুন আসা শীতের হাওয়া, মিষ্টি সিদ্ধ মমতা ছড়িয়ে দিচ্ছে চোখে মুখে।যে দিন সে গিয়েছিল সেদিন এই বাতাসেই ছিল কান্নাভরা মায়ার পরশ।তাঁর মনে পড়তে কি এ কষ্ট তাকে পিষতে থাকে?হাওয়া এলোমেলো ঘূর্ণিঝড় হয়ে বয়ে কিছু যেন সোনিপাত খেয়ে খেয়ে উপরে উঠে।ধরে ধরে নামিয়ে আনেন।কৌসরের আনন্দময় স্মৃতি গুলো।জোর করে রাখতে চায় সর্বস্বত্ব করে।পাগলি তাঁর নেই।নতুন কিছু বাবলা গাছের লাইন তার কাটার ধার ঘেঁষে।পাশে নতুন দোকান।ক্রেতার ভিড়।তেলে ভাজা নয় সিঙ্গারা।ডাল পুরি।যারা নামল সবাই তাঁর ওই শ্রেণির হাতে টিফিন।ক্যারিয়ারের কাপড় টা ঠিক ঠাক করে নিল।ব্যাগটা নামিয়ে ছের সোল যা নাকি তার একমাত্র গৌরবের।আলগোছে হাত বুলিয়ে খোঁপা খুলে শক্ত করে বাঁধল আবার।জুতো জোড়া পায়ে একবার ধুপধাপ করেকেড়ে নিল।এ কবার এগোনো দরকার।মনটার মতো পা দুইটি বুঝি একটু একটু ও কাঁপে য়ে বকুলের। প্র্যাট ফর্মের শেষ মাথায় গিয়ে পাথর আর নুড়ির রাস্তা শেষ করে নিল। ইটের রাস্তায় নামে ভক্ত।সে তার নামের গাছটার দিকে এ কবার তাকায়।এখনও কি অত অত ফুল ঝরায় গাছ।কতদিন সে কুড়িয়ে গেঁথে নিয়ে গেছে।বাংলার দিদিমণি সে মালা হাতে জড়িয়ে রেখেছে।নিজেকে ধন্য মনে হয়েছে তাঁর। দিদিমণি গালে মাথায় হাত বুলিয়ে বলছেন।বকুল নাম সার্থক।জানিস তো বকুল ফুল শুকিয়ে গেলেও চমৎকার গন্ধ থেকে যায়।তাই বাংলার সেই দিদিমণির কথায় এত কেন মনে হচ্ছে আজ এখন।মাত্র তাঁর কাছে কিছু আদর কিছু স্নেহ কিছু আশার কথা শুনতে বলে।তো ক্লাসে রোল কলের সময় সবার সুখে মুখের দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে তিনি দেখতেন।তিনি অনেকেই নিজের মন মত একেক নাম দিয়ে ডাকতেন।তাই বকুলকে ডাকতেন।বকুলকে ডাকতেন কাজলি বলে।আশ্চর্য বকুলের এত ভালো লাগতো। অথচ বাড়িতে কেউ কালী বা অন্য নামে ডাকলে কান্না পেত।মনে হতো বাড়িতে সবাই তাঁকে অবজ্ঞা করত।হেই করে দেখতশুধু কালো বলে।তা যেন সেই ইচ্ছে করে কালো রংবেছে নিয়েছে।প্রত্যক্ষণের মতো একটু একটু করে খুলতে থাকে বকুল।তাই ধরে যাওয়া ইট পাথরে জমে ওঠা জঙ্গি।এবং জাল সে দুহাতে সরিয়ে সরিয়ে হারিয়ে যাওয়া সম্পদ যেন খুঁজতে থাকে।খুঁজতে থাকে এতটুকুও আলো এতটুকুও উজ্জ্বলতা।এই কাজলই নামটুকুও বারবার আসা যাওয়া করে।গত দু বছরেও ওই নামে একবারওকেউ ডাকেনি।গলা ভারী হয়ে আসে।তাঁর কাজের জায়গায় সে শুধুই বকুল।হঠাত্ মনে হয় তার কোনও তুলে রাখব ভাল নাম নেই।নেই বকুলের সাথে বেগম খাতুন খানম বা আক্তার।বুক চিরে গরম বাতাস বেরিয়ে আসে।হঠাৎ করেই একদিন স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।বকুলের।মায়ের অসুস্থতায় যে দায়িত্ব এসেছিল তা আর ফিরে যায়নি।ভাল হয়েও বলেনি।বাবা আর ভাইয়ের হয়ত চোখেই পড়েনি ব্যাপারটা।স্কুলে সময় হলে এই এমনএ কটাতাই ভারী কাজের দায়িত্ব পড়ত সময়টা পার হয়ে যেত।বকুল পাড়ার সাথীদের সাথে হই হই করে বের হয়ে যেত।কোয়াতলায় চোখের পানিতে বালতির পানি বাড়া তো।ক্রমশই দায়িত্ব বাড়াতেকেরানি ঘরের স্ত্রী কত আর সবল হবে? তবু বকুলের অল্পবয়সের অভিমানী এই মন কত কী যে ভাবতো।সে কী এই বাড়িরই মেয়ে?তাহলে এত ভেদাভেদ কেন?রঙ যেতাঁর বাবা মা, ভাই বোন কারও সাথে তাকে মিলে না কেন. তবে কি সে কুড়িয়ে পাওয়া?পোষ্য নেয়া।তাই বা হয় কী করে বড় ভাই তো আছেই ঘরে।সেসময় মোটেই হিসাব মেলাতে পারত না বকুল।চোখ ফেটে অভিমানে শুধু কান্নায় আসত তাঁর।মাঝে মাঝে মরে যেতে ইচ্ছে করত।ভাইয়া যখন মুকুলকে নিয়ে মেলা দেখতে বা পুজোর সময় প্রতিম দেখতে নিয়ে যেত।তখন সবচেয়ে কষ্ট হত।সে বড় হয়েছে বলে ডাকেনি। অবজ্ঞা করে ডাকেনি। এ সবই মনে হতো।ধীরে ধীরে যে সে অন্যের সামনে আশা ছেড়ে দিয়েছে সেটাও কারও নজরে পড়েনি।মাঝে মাঝে মনে হত।মা কি তাঁর সৎমা?তাই হয়তো তখনকার অভিমানী অবুঝ মন।মুকুল প্রতিমা দেখে এসে কলকল করে গল্প করত।দুর্গা সুন্দর লক্ষ্মী সুন্দর সরস্বতী সুন্দর।শুধু গণেশকে যেন মানায় না।কথাটা বুকে গিয়ে লাগত বকুলের।মনে হত বুঝি তাঁকেই খোঁচা দিয়ে বলছে মুকুল।মুকুলের দিন বলেছিল।আপা তোর কাপড় ভ্যাপসা শা গন্ধ। তার পর দিনই কিছু না বলে বরং গরম লাগছে বলে মেঝেতে বিছানা করে ছিল মুকুল।বুক ফেটে কান্না চাপা থাকেনি। বালিশ ভিজে ছিল সারা রাত।চিত্ কার করে বলতে ইচ্ছে করেছিলতাই সারাদিন কাজ করে রান্না করে দেখ।তার পর সুগন্ধ শরীরে থাকে কি না।কোনও রকম নালিশে মাকে জানায়নি মুকুলের বিরুদ্ধে।কালো বলে সে মেনে নিয়েছে বুক চেপে।তাই গুলের সময় খুব করে ঘোষা দিয়ে জামা দিয়ে গা ঘোষ তো।মাঝে মনে হত যদি মরিস বাটা গায়ে লে প্লে ফর্সা হওয়া যায় সে তাই করত।প্রতিনিয়ত হৃদয়ে যে যন্ত্রণা নিশ্চয়ই সে জ্বালাপোড়া এর চেয়ে বেশি হতো না।কোথায় যেন পেটটা খড়িতে ঘণ্টা বাজল।বাবার কথা মনে পড়ছে বকুলের।এ রকম এ কটা ঘণ্টা বাজলেই বাবা এসে মাদুরে বসতেন।এসময় বাবা তাঁর নাম ধরে ডাকতেন।বলতেন বকুল তাড়াতাড়ি ভাত দেয়।আ পিমের দেরি হয়ে গেছে।তাই বড়বাবু পৌঁছানোর আগে পৌঁছাতে হবে।বকুলের রান্না আগেই হয়ে থাকত।সামান্য ভর্তা সো সরি ডাল ভাতই তো।কিন্তু আগে তা মা দূরে এনে রাখত না। সে ওই শুধুবাবার ডাকটুকুও শোনার জন্যতাই ডাকটা শুনলে দৌড়ে নিয়ে আসত।পাতে তুলে দিয়ে দিয়ে পাখার বাতাস করত। এই সব টুকরো তার সারাদিনে প্রাপ্তি।বাবা ম্যাজিস্ট্রেট অফিসের কেরানির কাজ করতেন।সবসময় মাথা নীচু করে হাতে ছাতা নিয়ে হেঁটে হেঁটে যেতেন।বাবার মুখে হাসি দেখেছে এমন কথা মনে পড়ে না বকুলের।তাঁর মনে হতো সবটুকু অপরাধ একা তাঁরই কাঁধে।দরিদ্র হওয়ার অপরাধ।সন্তান জন্ম দেওয়ার অপরাধ।এমনকী বকুলের কালো হয়ে জন্মানোর অপরাধ টুকুও যেন তারই।আর সে বোঝাতে এই বুঝি তিনি মাথা তুলে তাকাতে পর্যন্ত ভয় পান।হঠাৎ দুই একদিন ছাড়া তেমন কিছু মনে পড়ছে না।যেটুকু মনে আছে স্পষ্ট একেবারে।বাবা বলেছিলেন।তো তুই আমার মায়ের মতো করে রাধেশ।তোর রান্নায় মায়ের হাতের স্বাদ পাই।বকুলের চোখে সেদিন আনন্দে কান্না এসেছিল।আর এর দিন বাবা বলেছিলেন।তোর খুব কষ্ট হচ্ছে। পড়ালেখা টা হল না।কথা সে দিন অসমাপ্ত ছিল।বকুলউঠে গিয়েছিল বাবার জন্য এ কটা পিঁয়াজ ছিলে আনতে।চোখে পানি ছিল।বাবা দেখেনি মুখ নীচে ছিল।কি জানি বাবা ও তাঁরা কাদছিলেন কি না?সে ফেরার মকুল ম্যাট্রিক দেবে।তাই রাত জেগে পড়ে।বকুল কি?বার বার সা এনে দেয়।সায়ের পানির সাথে বকুলের ব্যথা ভরা ও তলায়।কান্না তার বাষ্প হয়ে বাতাসে।এইটের পর আর পরা হল না।বিয়ের কথাবার্তা যে একদম হয়নি তা না।আবার মেজে ঘষে কখনও পান নিয়ে সরবত নিয়ে দাঁড়াত সে।কোন বাড়ি লাভ হল না।বলে বরং ছোট বোনটাকে দিন কিংবা মোটা পণ।মুকুলের অহংকার বাড়ে।বকুলের সাথে কথা বলে কম।যেন মুকুলের ভালো ঘর বর্ষে আটকে রেখেছে।একদিন রাতে সে।মা ভাইয়ের বাবাকে বলায় এমন কথা বুঝি শুনেও ছিল।বলছিল।বকুলের কোনও ব্যবস্থা না করে সে মুকুলের বিয়ে দিতে পারবে না।বাবার কথায় কোনও কাজ হয়নি।মুকুলের বিয়ে ঠিক হল।আর বকুল তার আগেই চলে এলো। নার্সিংয়ের ট্রেনিং নিতে ঢাকায়।মুক্তি পেল নিজে আর মুক্তি দিল গরীব।কেরানির বাড়িটার।বকুল নিজের মতো করে তৈরি করলেন নিজেকে।যে সেবায় তার হাত পাকাই ছিল।ক্লান্তি ছিল না।কার্যক্ষেত্রে সোনা পেল।হাসপাতালে সময়ে অসময়ে বকুলই হয়ে উঠল রোগীর অবলম্বন।তা বকুল বাড়ির কথা ভুলে গেল।ভুলে থাকলইচ্ছা করেই।সে কোন ছুটি নিলো না। দশ বছর একদিনের জন্যেও না।বড় ভাই একবার এসেছিল।ভাল খাইয়ে দাইয়ে কিছু টাকা ধরিয়ে দিয়েছিল হাতে।বাবাকে এ কটা ছাতা কিনে দেয়ার জন্য।সেবার কী কঠোর ব্যবহার ছিল বকুলের।তার পর বড়ভাই আর আসেনি।বাবার ওই ভিটা টুকু আছে তো?নাকি এমন?তাই অভাবে তাও গেছে।সেই টিনের চালে সশব্দে নামা বৃষ্টির শব্দ জানালার শিক ধরে দাঁড়িয়ে কান্নার শব্দ কে ঢেকে দিত তার।সমস্ত হৃদয় সাগর মন্থন করতে থাকে বকুল।মনে হয় সুধা নেই।এতোটুকু সুধা নেই শুধুহলাহল।মুকুলের পরীক্ষায় পাশ হয়নি।মুকুলের ভালো ঘর বর ভালো থাকেনি।রূপের মোহ বেশিদিন টিকে নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে।রূপার ঝন্ ঝন্ শব্দ পায়নি।তাই এক মেয়ে নিয়ে ফিরে এসেছে মুকুল।ভাইয়ের বউ কী যেন কেমন?সরি তো বউ শাশুড়ি তেল লেগে আছে নাকি ব্যতিক্রম?জো তুক নিয়ে এসেছে বলে সবার উপর গরম দেখায়।না কি কিছু আনতে পারেনি বলে মা ভাই।কিটকিট করে দিনমান।বাবার জন্য কষ্ট হচ্ছে।বাবার পেনশন টুকু সম্মান অন্তত আছে তো?মুকুলের মেয়েটার অনাথ অবস্থায় কথা ভেবে দম আটকে আসতে চান।মনে হয় এই দশ বছর পর।কোনই বা সে অত দূর থেকে ছুটে এসেছে এই স্টেশনে।যে আবেগ নিয়ে সে বেরিয়েছিল।প্ক্রমশই যেন তা মিলিয়ে যেতে থাকে।মায়া মমতার বন্ধন কোনও কিছুতেই টান সে অনুভব করে না।সব কেমন ওলোটপালট মনে হয়।তবে সে।ফিরে অন্য আশা করছিল।দুই দিন আগে যখন প্রোমোশন পায়।তখন সে আনন্দের সাথে খুঁজছিল। মেট্রন হয়।মাথায় আর পোশাকে তাঁর বৈষম্য আসে।তখন সে আনন্দের সাথে খুঁজছিল।ভেসে উঠেছিল আপনজনদের মুখ।মনে হয়েছিল, নিজের দোষে নিজের ভুলেই সেআজ দূরে।মনে হয়েছিল নিজেকে সরিয়ে রাখার অন্যায় শুধু তাঁকেই।আর সেই মন নিয়েই সে ছুটে এসেছে। এত দিন পর এতটা পথ।কিন্তু এখন আর এগিয়ে যেতে পা সরছে না কেন?গর্ব দেখতে পাচ্ছে।সে কি একটু অহংকারী এখন কিংবা আত্মতৃপ্ত নিজেকে নিয়ে নিজ কর্মে।বকুল বুঝতে পারেন না কী করবে সে।তাঁর উপস্থিতি কি শুধু ওদের কান্নায় বাড়াবে না।বকুল দেখে যখন সে যেন আবার স্টেশনে পৌঁছে গেছে।বকুল ফিরবার টিকিট কেটে নেয়।ট্রেন আসতে দেরি আছে।বকুলতলায় গিয়ে বসে সে।ছোট মেয়ে ফুল খুঁটছেখুঁটে খুঁটে।দেখতে বেশ।মুকুলের মেয়েটি হয়তো এমনই হবে।মুকুলের মেয়েরনাম জানা হয়নি।স্টেশনের না মেয়ে নিজেই নাম রাখে সে।মালতী।এ মালতীর জন্যই তাঁকে ফিরতে হবে স্টেশনের আবার।তাই টিকিট হাতে বকুল উঠে দাঁড়াও।
প্রায় দশ বছর পর বকুল এই লাইনে আবার এলো।এই স্টেশনে এসে নামলো।একবার যাবার পর আর এই পথে ফেরা হয় নাই। এ সময় এই স্টেশনে সে রোজ রোজ আসত।সকাল বিকাল রেল পথ পেরিয়ে স্কুলে যেত আসত।সাথে থাকত ছোট বোন মুকুল।পাড়ার বন্ধু ইলা রিজিয়া।বকুলের মনে ধাঁধা লাগে।এ কি সে দিনের কথা নাকি প্রায় এক যুগ আগের কথা।কিন্তু আশপাশের সব কিছুই যেন স্পষ্ট। সে তো চিরচেনা যেন এই তো সেদিন।অল্প হিলের সাদা জুতার ওপর দাঁড়িয়ে সব যেন স্পষ্ট হয়ে ওঠে।বকুল গাছ ফোর তোলে সব সময়েই ভিতর সব লেগে থাকা বালিকা।স্টেশনের নাম লেখার পাশ ঘেঁষে ফেলে।ভাজার উনুন জ্বলত সকাল বিকাল। তাই নাড়ুয়া বিস্কুটের টিন চাপড়ার দোকান।বড় বয়ামে গোলাপি টিপ দেওয়া বর বিস্কিট তাদের লোভাতুর করত। নজর ফেলল স্টেশনে পাগলিটা যেখানে বসে এ নিয়ে কাঁদত।এখানে সে তার ছেলে হারিয়ে ছিল।তাই হয়তো ভাবতো পিষ্ঠ হয়ে যাওয়া সেলে কাঁদলে ফিরে পাবে সে। তাই বকুলের এ কবার। হাত বুলিয়ে নিল স্টেশনের নাম লেখা বাধন ও সিমেন্টের শিরশির করে উঠল সমস্ত শরীর?কী করে সে ভুলে ছিলো এতোদিন এই নামটা কি?চোখে পড়ল কে যেন নামটাকে কাঁচা হাতে বড় বড় করে স্টেশন মাস্টারের ঘরের দেয়ালে লিখে রেখেছে কয়লা দিয়ে।মনে মনে কী এক হাসি হাসল বকুল।হয়তো তাঁর মতোই কেউ যাওরার আগে আবেগপ্রবণ হয়ে লিখেছে।যাতে একে অপরকে ভুলে না যায়।আবারওআনটু হাসে বকুল।তাঁর হৃদয়ে যে লেখা সে তো অনেক আঁচড় কাটা গভীরে।যা রক্তক্ষরণে গাঢ় দাগ পড়েছে।ব্যাগ হাতে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে রইল বকুল।সেখান থেকে রিক্সা নেবার কোনও মানে হয় না।এটা মাত্র ব্যাগ।বলে কুলিরাও বিরক্ত করেনি।নতুন আসা শীতের হাওয়া, মিষ্টি সিদ্ধ মমতা ছড়িয়ে দিচ্ছে চোখে মুখে।যে দিন সে গিয়েছিল সেদিন এই বাতাসেই ছিল কান্নাভরা মায়ার পরশ।তাঁর মনে পড়তে কি এ কষ্ট তাকে পিষতে থাকে?হাওয়া এলোমেলো ঘূর্ণিঝড় হয়ে বয়ে কিছু যেন সোনিপাত খেয়ে খেয়ে উপরে উঠে।ধরে ধরে নামিয়ে আনেন।কৌসরের আনন্দময় স্মৃতি গুলো।জোর করে রাখতে চায় সর্বস্বত্ব করে।পাগলি তাঁর নেই।নতুন কিছু বাবলা গাছের লাইন তার কাটার ধার ঘেঁষে।পাশে নতুন দোকান।ক্রেতার ভিড়।তেলে ভাজা নয় সিঙ্গারা।ডাল পুরি।যারা নামল সবাই তাঁর ওই শ্রেণির হাতে টিফিন।ক্যারিয়ারের কাপড় টা ঠিক ঠাক করে নিল।ব্যাগটা নামিয়ে ছের সোল যা নাকি তার একমাত্র গৌরবের।আলগোছে হাত বুলিয়ে খোঁপা খুলে শক্ত করে বাঁধল আবার।জুতো জোড়া পায়ে একবার ধুপধাপ করেকেড়ে নিল।এ কবার এগোনো দরকার।মনটার মতো পা দুইটি বুঝি একটু একটু ও কাঁপে য়ে বকুলের। প্র্যাট ফর্মের শেষ মাথায় গিয়ে পাথর আর নুড়ির রাস্তা শেষ করে নিল। ইটের রাস্তায় নামে ভক্ত।সে তার নামের গাছটার দিকে এ কবার তাকায়।এখনও কি অত অত ফুল ঝরায় গাছ।কতদিন সে কুড়িয়ে গেঁথে নিয়ে গেছে।বাংলার দিদিমণি সে মালা হাতে জড়িয়ে রেখেছে।নিজেকে ধন্য মনে হয়েছে তাঁর। দিদিমণি গালে মাথায় হাত বুলিয়ে বলছেন।বকুল নাম সার্থক।জানিস তো বকুল ফুল শুকিয়ে গেলেও চমৎকার গন্ধ থেকে যায়।তাই বাংলার সেই দিদিমণির কথায় এত কেন মনে হচ্ছে আজ এখন।মাত্র তাঁর কাছে কিছু আদর কিছু স্নেহ কিছু আশার কথা শুনতে বলে।তো ক্লাসে রোল কলের সময় সবার সুখে মুখের দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে তিনি দেখতেন।তিনি অনেকেই নিজের মন মত একেক নাম দিয়ে ডাকতেন।তাই বকুলকে ডাকতেন।বকুলকে ডাকতেন কাজলি বলে।আশ্চর্য বকুলের এত ভালো লাগতো। অথচ বাড়িতে কেউ কালী বা অন্য নামে ডাকলে কান্না পেত।মনে হতো বাড়িতে সবাই তাঁকে অবজ্ঞা করত।হেই করে দেখতশুধু কালো বলে।তা যেন সেই ইচ্ছে করে কালো রংবেছে নিয়েছে।প্রত্যক্ষণের মতো একটু একটু করে খুলতে থাকে বকুল।তাই ধরে যাওয়া ইট পাথরে জমে ওঠা জঙ্গি।এবং জাল সে দুহাতে সরিয়ে সরিয়ে হারিয়ে যাওয়া সম্পদ যেন খুঁজতে থাকে।খুঁজতে থাকে এতটুকুও আলো এতটুকুও উজ্জ্বলতা।এই কাজলই নামটুকুও বারবার আসা যাওয়া করে।গত দু বছরেও ওই নামে একবারওকেউ ডাকেনি।গলা ভারী হয়ে আসে।তাঁর কাজের জায়গায় সে শুধুই বকুল।হঠাত্ মনে হয় তার কোনও তুলে রাখব ভাল নাম নেই।নেই বকুলের সাথে বেগম খাতুন খানম বা আক্তার।বুক চিরে গরম বাতাস বেরিয়ে আসে।হঠাৎ করেই একদিন স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।বকুলের।মায়ের অসুস্থতায় যে দায়িত্ব এসেছিল তা আর ফিরে যায়নি।ভাল হয়েও বলেনি।বাবা আর ভাইয়ের হয়ত চোখেই পড়েনি ব্যাপারটা।স্কুলে সময় হলে এই এমনএ কটাতাই ভারী কাজের দায়িত্ব পড়ত সময়টা পার হয়ে যেত।বকুল পাড়ার সাথীদের সাথে হই হই করে বের হয়ে যেত।কোয়াতলায় চোখের পানিতে বালতির পানি বাড়া তো।ক্রমশই দায়িত্ব বাড়াতেকেরানি ঘরের স্ত্রী কত আর সবল হবে? তবু বকুলের অল্পবয়সের অভিমানী এই মন কত কী যে ভাবতো।সে কী এই বাড়িরই মেয়ে?তাহলে এত ভেদাভেদ কেন?রঙ যেতাঁর বাবা মা, ভাই বোন কারও সাথে তাকে মিলে না কেন. তবে কি সে কুড়িয়ে পাওয়া?পোষ্য নেয়া।তাই বা হয় কী করে বড় ভাই তো আছেই ঘরে।সেসময় মোটেই হিসাব মেলাতে পারত না বকুল।চোখ ফেটে অভিমানে শুধু কান্নায় আসত তাঁর।মাঝে মাঝে মরে যেতে ইচ্ছে করত।ভাইয়া যখন মুকুলকে নিয়ে মেলা দেখতে বা পুজোর সময় প্রতিম দেখতে নিয়ে যেত।তখন সবচেয়ে কষ্ট হত।সে বড় হয়েছে বলে ডাকেনি। অবজ্ঞা করে ডাকেনি। এ সবই মনে হতো।ধীরে ধীরে যে সে অন্যের সামনে আশা ছেড়ে দিয়েছে সেটাও কারও নজরে পড়েনি।মাঝে মাঝে মনে হত।মা কি তাঁর সৎমা?তাই হয়তো তখনকার অভিমানী অবুঝ মন।মুকুল প্রতিমা দেখে এসে কলকল করে গল্প করত।দুর্গা সুন্দর লক্ষ্মী সুন্দর সরস্বতী সুন্দর।শুধু গণেশকে যেন মানায় না।কথাটা বুকে গিয়ে লাগত বকুলের।মনে হত বুঝি তাঁকেই খোঁচা দিয়ে বলছে মুকুল।মুকুলের দিন বলেছিল।আপা তোর কাপড় ভ্যাপসা শা গন্ধ। তার পর দিনই কিছু না বলে বরং গরম লাগছে বলে মেঝেতে বিছানা করে ছিল মুকুল।বুক ফেটে কান্না চাপা থাকেনি। বালিশ ভিজে ছিল সারা রাত।চিত্ কার করে বলতে ইচ্ছে করেছিলতাই সারাদিন কাজ করে রান্না করে দেখ।তার পর সুগন্ধ শরীরে থাকে কি না।কোনও রকম নালিশে মাকে জানায়নি মুকুলের বিরুদ্ধে।কালো বলে সে মেনে নিয়েছে বুক চেপে।তাই গুলের সময় খুব করে ঘোষা দিয়ে জামা দিয়ে গা ঘোষ তো।মাঝে মনে হত যদি মরিস বাটা গায়ে লে প্লে ফর্সা হওয়া যায় সে তাই করত।প্রতিনিয়ত হৃদয়ে যে যন্ত্রণা নিশ্চয়ই সে জ্বালাপোড়া এর চেয়ে বেশি হতো না।কোথায় যেন পেটটা খড়িতে ঘণ্টা বাজল।বাবার কথা মনে পড়ছে বকুলের।এ রকম এ কটা ঘণ্টা বাজলেই বাবা এসে মাদুরে বসতেন।এসময় বাবা তাঁর নাম ধরে ডাকতেন।বলতেন বকুল তাড়াতাড়ি ভাত দেয়।আ পিমের দেরি হয়ে গেছে।তাই বড়বাবু পৌঁছানোর আগে পৌঁছাতে হবে।বকুলের রান্না আগেই হয়ে থাকত।সামান্য ভর্তা সো সরি ডাল ভাতই তো।কিন্তু আগে তা মা দূরে এনে রাখত না। সে ওই শুধুবাবার ডাকটুকুও শোনার জন্যতাই ডাকটা শুনলে দৌড়ে নিয়ে আসত।পাতে তুলে দিয়ে দিয়ে পাখার বাতাস করত। এই সব টুকরো তার সারাদিনে প্রাপ্তি।বাবা ম্যাজিস্ট্রেট অফিসের কেরানির কাজ করতেন।সবসময় মাথা নীচু করে হাতে ছাতা নিয়ে হেঁটে হেঁটে যেতেন।বাবার মুখে হাসি দেখেছে এমন কথা মনে পড়ে না বকুলের।তাঁর মনে হতো সবটুকু অপরাধ একা তাঁরই কাঁধে।দরিদ্র হওয়ার অপরাধ।সন্তান জন্ম দেওয়ার অপরাধ।এমনকী বকুলের কালো হয়ে জন্মানোর অপরাধ টুকুও যেন তারই।আর সে বোঝাতে এই বুঝি তিনি মাথা তুলে তাকাতে পর্যন্ত ভয় পান।হঠাৎ দুই একদিন ছাড়া তেমন কিছু মনে পড়ছে না।যেটুকু মনে আছে স্পষ্ট একেবারে।বাবা বলেছিলেন।তো তুই আমার মায়ের মতো করে রাধেশ।তোর রান্নায় মায়ের হাতের স্বাদ পাই।বকুলের চোখে সেদিন আনন্দে কান্না এসেছিল।আর এর দিন বাবা বলেছিলেন।তোর খুব কষ্ট হচ্ছে। পড়ালেখা টা হল না।কথা সে দিন অসমাপ্ত ছিল।বকুলউঠে গিয়েছিল বাবার জন্য এ কটা পিঁয়াজ ছিলে আনতে।চোখে পানি ছিল।বাবা দেখেনি মুখ নীচে ছিল।কি জানি বাবা ও তাঁরা কাদছিলেন কি না?সে ফেরার মকুল ম্যাট্রিক দেবে।তাই রাত জেগে পড়ে।বকুল কি?বার বার সা এনে দেয়।সায়ের পানির সাথে বকুলের ব্যথা ভরা ও তলায়।কান্না তার বাষ্প হয়ে বাতাসে।এইটের পর আর পরা হল না।বিয়ের কথাবার্তা যে একদম হয়নি তা না।আবার মেজে ঘষে কখনও পান নিয়ে সরবত নিয়ে দাঁড়াত সে।কোন বাড়ি লাভ হল না।বলে বরং ছোট বোনটাকে দিন কিংবা মোটা পণ।মুকুলের অহংকার বাড়ে।বকুলের সাথে কথা বলে কম।যেন মুকুলের ভালো ঘর বর্ষে আটকে রেখেছে।একদিন রাতে সে।মা ভাইয়ের বাবাকে বলায় এমন কথা বুঝি শুনেও ছিল।বলছিল।বকুলের কোনও ব্যবস্থা না করে সে মুকুলের বিয়ে দিতে পারবে না।বাবার কথায় কোনও কাজ হয়নি।মুকুলের বিয়ে ঠিক হল।আর বকুল তার আগেই চলে এলো। নার্সিংয়ের ট্রেনিং নিতে ঢাকায়।মুক্তি পেল নিজে আর মুক্তি দিল গরীব।কেরানির বাড়িটার।বকুল নিজের মতো করে তৈরি করলেন নিজেকে।যে সেবায় তার হাত পাকাই ছিল।ক্লান্তি ছিল না।কার্যক্ষেত্রে সোনা পেল।হাসপাতালে সময়ে অসময়ে বকুলই হয়ে উঠল রোগীর অবলম্বন।তা বকুল বাড়ির কথা ভুলে গেল।ভুলে থাকলইচ্ছা করেই।সে কোন ছুটি নিলো না। দশ বছর একদিনের জন্যেও না।বড় ভাই একবার এসেছিল।ভাল খাইয়ে দাইয়ে কিছু টাকা ধরিয়ে দিয়েছিল হাতে।বাবাকে এ কটা ছাতা কিনে দেয়ার জন্য।সেবার কী কঠোর ব্যবহার ছিল বকুলের।তার পর বড়ভাই আর আসেনি।বাবার ওই ভিটা টুকু আছে তো?নাকি এমন?তাই অভাবে তাও গেছে।সেই টিনের চালে সশব্দে নামা বৃষ্টির শব্দ জানালার শিক ধরে দাঁড়িয়ে কান্নার শব্দ কে ঢেকে দিত তার।সমস্ত হৃদয় সাগর মন্থন করতে থাকে বকুল।মনে হয় সুধা নেই।এতোটুকু সুধা নেই শুধুহলাহল।মুকুলের পরীক্ষায় পাশ হয়নি।মুকুলের ভালো ঘর বর ভালো থাকেনি।রূপের মোহ বেশিদিন টিকে নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে।রূপার ঝন্ ঝন্ শব্দ পায়নি।তাই এক মেয়ে নিয়ে ফিরে এসেছে মুকুল।ভাইয়ের বউ কী যেন কেমন?সরি তো বউ শাশুড়ি তেল লেগে আছে নাকি ব্যতিক্রম?জো তুক নিয়ে এসেছে বলে সবার উপর গরম দেখায়।না কি কিছু আনতে পারেনি বলে মা ভাই।কিটকিট করে দিনমান।বাবার জন্য কষ্ট হচ্ছে।বাবার পেনশন টুকু সম্মান অন্তত আছে তো?মুকুলের মেয়েটার অনাথ অবস্থায় কথা ভেবে দম আটকে আসতে চান।মনে হয় এই দশ বছর পর।কোনই বা সে অত দূর থেকে ছুটে এসেছে এই স্টেশনে।যে আবেগ নিয়ে সে বেরিয়েছিল।প্ক্রমশই যেন তা মিলিয়ে যেতে থাকে।মায়া মমতার বন্ধন কোনও কিছুতেই টান সে অনুভব করে না।সব কেমন ওলোটপালট মনে হয়।তবে সে।ফিরে অন্য আশা করছিল।দুই দিন আগে যখন প্রোমোশন পায়।তখন সে আনন্দের সাথে খুঁজছিল। মেট্রন হয়।মাথায় আর পোশাকে তাঁর বৈষম্য আসে।তখন সে আনন্দের সাথে খুঁজছিল।ভেসে উঠেছিল আপনজনদের মুখ।মনে হয়েছিল, নিজের দোষে নিজের ভুলেই সেআজ দূরে।মনে হয়েছিল নিজেকে সরিয়ে রাখার অন্যায় শুধু তাঁকেই।আর সেই মন নিয়েই সে ছুটে এসেছে। এত দিন পর এতটা পথ।কিন্তু এখন আর এগিয়ে যেতে পা সরছে না কেন?গর্ব দেখতে পাচ্ছে।সে কি একটু অহংকারী এখন কিংবা আত্মতৃপ্ত নিজেকে নিয়ে নিজ কর্মে।বকুল বুঝতে পারেন না কী করবে সে।তাঁর উপস্থিতি কি শুধু ওদের কান্নায় বাড়াবে না।বকুল দেখে যখন সে যেন আবার স্টেশনে পৌঁছে গেছে।বকুল ফিরবার টিকিট কেটে নেয়।ট্রেন আসতে দেরি আছে।বকুলতলায় গিয়ে বসে সে।ছোট মেয়ে ফুল খুঁটছেখুঁটে খুঁটে।দেখতে বেশ।মুকুলের মেয়েটি হয়তো এমনই হবে।মুকুলের মেয়েরনাম জানা হয়নি।স্টেশনের না মেয়ে নিজেই নাম রাখে সে।মালতী।এ মালতীর জন্যই তাঁকে ফিরতে হবে স্টেশনের আবার।তাই টিকিট হাতে বকুল উঠে দাঁড়াও।
Read Also :-
Labels :
#Bangla Golpo ,#Bangla Kobita ,#Bangla Romantic Story ,#Love Quotes ,#ফেরা ,
Getting Info...