বিচিত্রমন

বিচিত্রমন

বিচিত্রমন


অনামিকা হক লিলি (প্রফেসর বেগম গুলবাহার)

অধ্যক্ষ, সরকারী বিজ্ঞান কলেজ, ঢাকা ।

তেলে প্রদীপ জ্বলে, প্রদীপে জ্বলে আগুন। আগুনের শিখা জ্বলে দপদপ করে, লকলক করে তার জিহ্বা। আগুন লাগা এ এক সর্বনাশা শব্দ। আগুন লাগে বাড়ীতে, পোড়ে গ্রাম, জ্বলে শত শত সামগ্রী, মানুষ পোড়া চামড়ার গন্ধ। আগুন লাগে সংসারে জ্বলে শ্বশুড়—শাশুড়ি, ছেলে, বউ, মেয়ে, জামাই সবাই। আগুন লাগে মনে, জ্বলে প্রেমিক প্রেমিকা, তাদের হৃদয় ভস্ম হতে থাকে। দ্রব্যমূল্যে আগুন লাগে বাজারে, ক্রেতার ওঠে নাভিশ্বাস। একা একাই ভাবছিলো ওয়াজিদ। হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে গেল, হঠাৎ বলা বোধহয় ঠিক হলো না, গরম আসতেই প্রয়শই যাচ্ছে তবু না বলে কয়ে যায় তাই হঠাৎ। টেলিভিশনে রবীন্দ্রসঙ্গীত হচ্ছিল, “আগুন জ্বালো, আগুন জ্বালো রুদ্ধ প্রাণের আবর্জনা পুড়িয়ে ফেলে আগুন জ্বালো” এ এক অন্য রকমের আগুন যেমন নজরুলের বিদ্রোহের আগুন। ভাবি সে ওয়াজীদের ছোট তাকে নামেই ডাকে, রাকা, রাকা চেচিয়ে বলে বুয়া মোম জ্বালাও মোম। অত্যন্ত চঞ্চল সে, মম আনতে একটু দেরী হলেই বার বার তাগাদা, তারপর নিজেই ছুটে যাবে ধরাতে । মনে মনে তাইই চাচ্ছিল সে। মোম হাতে যখন আস্তে আস্তে আসে অত্যন্ত স্নিগ্ধ লাগে।, পবিত্র লাগে, পবিত্র লাগে। ওয়াজীদ ভাবে, হায়রে এওতো একটা আগুনেরই শিখা, একই শক্তি রাখে তবু স্বভাবে যেন চাঁদের আলো। শুনেছে আগের দিনের বউ ঝি রা দুপুরের অবসরে পা মেলে দিয়ে সলতে পাকাতো, সন্ধায় পিদিম জ্বালাবে বলে। ঘিয়ে তেলে জ্বলতো সে আগুন । তেলে আগুন কথাটা মনে আসতেই আবার কি যেন কেন তেলে বেগুনে জ্বলে উঠলো মনটা । রাকা মুখরা, বলল কি এতো ভাবো এজিদ? ওয়াজীদেকে সে সংক্ষেপে এজিদ বলে ডাকে তাছাড়া এনিয়ে দেবরকে রাগানোও যায়। এজিদ ইসলামের ইতিহাসের এক বিখ্যাত চরিত্র, যেমন সাহসী তেমনি ক্ষমতার লোভ । এজিদ বলে ডাকলো বলে রাগ করলো না সে, বরং বলল, জান রাকা এখন আমার এজিদ হতেই ইচ্ছে করে। আমাকে ধরার জন্য আমার শত্রু উঠবে ঘোড়ার পিঠে আমিও তেজী ঘোড়ায় সাওয়ার। আমি পালাছি সে ধরতে চাচ্ছে, কেউই কাউকে হারাতে পারছে না। অন্তকাল ধরে পাহাড়ের ভিতর শুধু ছুটবো আর ছুটবো । রাকা বলে, কি আবোল তাবোল বলছ, কোথায় বলবে 'রাকা চল ছাদে যাই ওখানে বাতাসে বসে গান গাই, কবিতা বলি, খোপায় তারার ফুল গুজে দিতে যাতী কিংবা অরুনশ্রুতির দিকে হাত বাড়াবে, কালপুরুষ দেখিয়ে বলবে, না! তোমার খোঁপায় ফুল দেওয়া যাবে না ভাইয়া আকাশেও দাঁড়িয়ে একদিন অন্ধকারে রাতে গলায় মালাই না হয় দিয়ে দিব। রাকা বড় মুক্ত মনের মেয়ে, তাই মনে এলেই বলে ফেলতে পারে । রাকা, তুমি যুদ্ধ দেখেছ? যুদ্ধের সময় আমার জম্মই হয়নি। তবে শুনেছি, আব্বা আম্মার কাছে । আমারও তাই, বলোনা তুমি কি শুনেছ? যুদ্ধ যুদ্ধই আমারও যা শোনা, তোমারও তাইই শোনা হবে, ব্যক্তি বিশেষের নতুন আর কি, ব্যতিক্রম ছাড়া সমগ্র ভয়াবহতা এক। তাছাড়া এই তো এখন প্রতিদিনই দেখতে পাচ্ছ, ইরাক্লেকে। যুদ্ধের কথা ভাবলে আমার কষ্ট হয় তাই ভুলে থাকি, তুমিও আমার মতো সহজ থাক বুঝলে, সহজ থাকো । স্বাভাবিক থাকো । পারছি কই, মনে হচ্ছে মিসাইল এসে আমাদের বাড়ীটা গুড়িয়ে দিচ্ছে। বিস্ফোরনের শব্দে আব্বা, বোবা কালা হয়ে গেছে আর কথা ফুটছে না, মার গেছে চোখ, তোমার গেছে হাত, ভাইয়ার গেছে পা —রাকা দৌড়ে উঠে ওয়াজীদের মুখে হাত চাপা দেয়। বলোনা তো, ওরকম অলুক্ষুনে কথা বলো না। রেগে গিয়ে বলে, মিসাইলে আমাদের সবার এটা ওটা হচ্ছে, আর তুমি বীরপুরুষ একা সুস্থ আর অক্ষত আছ? স্বার্থপর কোথাকার। ভাবনাটাও তোমার ওই এজিদের মতই। নিজের স্বার্থসিদ্ধির জন্য অন্যের বউ ভাগাতে অন্যের রাজ্য ধরতে পার। না রাকা না, আমি যা ভাবছি তাতো হতেই পারে, হচ্ছেও বাগদাদে তাই না? মনে কর, আমিই একমাত্র সুস্থ, তোমাদের সবাইকে একে একে হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছি। যখন নিচ্ছি তখন তোমরা অজ্ঞান, জ্ঞান ফিরলে দেখলে তোমার সুচারু দুটো হাত কনুই পর্যন্ত গোল করা ব্যান্ডেজ। বলো না বলো না, আমার হাতের চা না হলে বাবা সকালের কাগজটা পড়ে আনন্দ পায় না, আমার হাতের পরিপাটি ঘর, ফুলের টবের ফুটে ওঠা ফুল, দুপুরে মায়ের মাথায় আলতো হাতে তাকে বিশ্রাম দেওয়া, রাতে তোমার ভাইয়ের কপাট সমান পিঠে পাউডার ছিটিয়ে পরশ বুলানো—— না না অমন করে বলো না, আমার কান্না এসে যাচ্ছে। ওয়াজীদ আমি কান্না থামাতে পারব না। আমি একা, অক্ষত তাই না? ভেবে দেখ, আমি কি করে হাসপাতালের বিছানায় তোমাকে চেপে ধরে আর্তনাদ সামলাচ্ছিও স্বান্তনা দিচ্ছি চোখের পানিতে বুকের পানিতে ভেসে। বলছি, এইতোআমার হাতদুটো আছে সে শুধু সাহায্যের জন্য। আমিতো সুস্থ আছি । রাকার গলায় কান্নার শব্দ । মনে কর, ভাইয়ার জ্ঞান ফিরেছে বাগদাদের হাসপাতালের বেডে। পাশ ফিরতে চাচ্ছে, ফিরলো, আর ফিরতে গিয়ে বুঝলো তার হাটু পর্যন্ত বাদ দিতে হয়েছে। তার আর্ত চিৎকারে প্রকম্পিত সমস্ত ওয়ার্ড। বজ্রর্মুঠিতে আঘাত হানছে বিছানায়, মাথায় কপালে । পদহীন জীবন সে রাখবে না, বেঁচে কি লাভ পঙ্গুত্ব নিয়ে। অক্ষত এই আমি বিক্ষত হয়ে বলছি, ভাইয়া ভেবো না, এই তো আমি রয়েছি। আমার পায়ে তুমি চলবে, আমার কাঁধে ভর দিয়ে তুমি দাঁড়াবে। রাকা এবার ডুকরাতে তাকে। ওর পিঠ কাঁপছে। ওই বসরার হাসপাতালে আব্বার আর জ্ঞান ফিরলো না কিন্তু প্রান আছে। অসহায় শিশুর মতো নির্বোধ চাউনি। ক্ষুধা, তৃষ্ণার কথা বলতে পারছে না, বুঝাতে পারছে না অন্য কোন প্রয়োজনের কথা, আমি ঘড়ি ধরে মুখে তুলে খাওয়াচ্ছি, বেড প্যান দিচ্ছি গা করে দিচ্ছি—— আমি সুস্থ আছি না? আর মা'র কথা কি বলব? মার গর্তহয়ে যাওয়া দৃষ্টিহীন চোখ থেকে শুধু পানি ঝরছে। কোন বিলাপই সে করছে না, শোকে যে পাথর হয়ে যায় মনে হয় তাইই হয়েছে আমি ঘরে ঢুকলেই বুঝতে পারছে। ছেলের গায়ে ঘ্রান বলেই কি? তখন চোখের পানি আরও বাড়ে, দুই গাল বেয়ে গাড়য়। চুল এলোমেলো থাকলে আর কোনদিন বলবে না, বোতাম ভুল লাগানো সুধরাবে না, মা আর মুড়িঘন্ট রেঁধে বলতে পারবে না, আজ সবাইকে একসাথে খেতে বসতে হবে। মা বলে ডেকে বলছি, একটু চা দেব মা? মায়ের বিলাস ওই সকাল সন্ধ্যা দুই কাপ চা। এতো তৃপ্তি করে চমুক দেন, সে তো তুমি জানই রাকা। মা আমাকে খামচে ধরে, পিঠে হাত বুলায়, মুখে চা তুলে নেয় না। আমিতো বুঝছি মা কি বলছেন মনে মনে। “রাকার হাতের চা দিতে পারবি, তুই? সেই চা পাতা কিনে আনবে তোর বড় ভাই, হেঁটে গিয়ে পাশের দোকান থেকে। আমার চা খাওয়া দেখে তোর বাবা ঠাট্টা করে বলবে কি পাও ওই বিষ পান করে? বল পারবি, ওই রকম দিন আর আনতে পারবি?” তবু আমি মাকে প্রবোধ দিতে থাকবো রাকা এবারে শব্দ করে ডাক ছেড়ে কাঁদতে থাকে । তুমি না বলছিলে ছাদে যাবে, চলো রাকা ছাদে যাই কারেন্ট না আসা পর্যন্ত। ভাইয়া এসেছে জানলে নামা যাবে। ওসব কথা থাক. এবার তোমার মন ভালো হয়ে যাবে এমন গল্প করব। যাওয়ার আগে মাকে বরং এককাপ চা দিয়ে নিজেদের জন্যও নিয়ে যাওয়া যাক । বার বার সরি চায় ওয়াজীদ। চলো রাকা ওঠো, ছাদে বসে আমরা বরং গতবছর বেড়িয়ে আসা সুন্দর বনের গল্প বলি । আমাদের সবার ভালোলাগা সময়গুলোকে রোমন্থন করি। আলো নেই ওদিকে আকাশও ঘোলাটে তবু বাতাস বইছে মৃদু মন্থরতাই ভরসা। ছাদে উঠার সময় মাদুর নিয়ে উঠা ওয়াজীদের অভ্যাস, একেবারে আকাশের দিকে মুখ করে না শুলে ভালো লাগে না। আকাশের তারা গুনতে ভালোলাগে, ভালোলাগে আকাশ পেরিয়ে মহাকাশের ভীষন রকম গতিময়—— এখান থেকে দেখা যাওয়া নিরবতার সৌন্দর্য অনুসন্ধান করতে। রাকা বলে, তুমি তো ছাদে যেয়েই একজন জ্যোর্তি বিজ্ঞানী হয়ে উঠবে। গিয়ে কি লাভ? না না সত্যি বলছি, সুন্দর বনের গল্পই করব। তবে চলো। আমাদের কিন্তু সুন্দরবনকে নিয়ে গর্ব করা উচিত। সত্যিই একটা ব্যতিক্রমী ক্ষেত্র, আর পর্যটকদের জন্য কৌতুহলোদ্দীপক বটে। রাকা বলে, সুন্দরবন নিয়ে একটা গা ছমছম করা ভালোলাগা আমাদের সবার মধ্যেই আছে তাই না? ভেজা মাটি, সে মাটি নোনা নোনা, জোয়ার ভাটার অপরূপ দৃশ্যের রূপায়ন। গোলপতার ঝাড়, গড়ান, কেঁওড়া, সুন্দরী গাছের গায়ে চিহ্ন একে যায কতদূর পর্যন্ত সে জোয়ারের পানির পরশ পেয়েছিল। আমি শিল্পীহলে ক্যানাসে সেই চলমান নিরবতার সৌন্দর্য এঁকে ফেলতাম । তোমার মনের ক্যানভাসে তো এঁকেই রেখেছ, নইলে বলছ কি করে, আসলে সবার হৃদয়েই মনে হয় শিল্পী মন আছে। সেদিন তুমি আর তোমার ভাই কি রকম বাক যুদ্ধ লাগিয়েছিলে মনে আছে? তোমার তো সবসময়ই ছবির উল্টো পিঠ দেখার অভ্যাস। ভাবী, এটা কিন্তু একটু অন্যায় বললে তুমি। আমি মোটেও তেমন নই আর সেদিন একটিও ভুল কথা বলিনি। আমি বলেছিলাম সুন্দরবনের কালোকাদামাটির স্তর বিশিষ্ট জমিনে ধারালো নখওয়ালা শুকরেরা বাস করে। তোমার ভাই বলেছিলে যারা কাদা একেবারেই পছন্দ করে না সেই রয়েল বেঙ্গল টাইগার এখানে বাস করে। ওয়াজীদ, আর তুমি বলেছিলে, এখানে সদাচঞ্চল, সবল চাহুনীর মনোহর চিত্রল হরিন দল ধরে থাকে, কচি কচি ঘাস পাতার ফাঁকে ফাঁকে শিশুর মত খেলা করে। রাকা, তুমি বলেছিলে খাড়ির ভয়ঙ্করতার কথা, সেখানে স্রোত দুই দিকে বয়ে যায়। সে কি উথালি পাথালি অবস্থা সংগমস্থলের। সেখানকার জলচর প্রানীদের নাকি আহি গ্রাহি রব উঠে যায়। মাছ নাকি কখনও কখনও ভড়ে কিংবা জোয়ারের তোড়ে গাছে উঠে যায়। তোমার ভাই বলেছিলো,তুমি গাছের সরল হওয়া বেড়ে উঠা দেখতে পাও না, দেখো শুধু বাতাসে বেকে যাওয়াগুলো, দেখো জঙ্গলে কুমির, অজগর শঙ্খচূড় । তুমিই বল রাকা, এগুলো কি ভুল দেখা? রাকা, না ভুল না তবে হাজার হাজার নানা জাতের নাম জানা কিংবা অজানা পাখীও তুমি দেখতে পার, দেখতে পার দুষ্টুবানরের লাফালাফি, ফড়িংয়ের ঝাক, আকাশের স্বপ্নিল চাঁদ, ঝিঝির সুরেলা ডাক, সন্ধ্যার নিস্তব্ধতা। কিন্তু তুমি তা দেখোনি, বলেছিলে ভাইয়া বলোতো, আমরা এখানে কেন এসেছি? ভাইয়া বলেছিলো, কেন বেড়াতে? আর রাকা তুমি বলেছিলে, কেন নিসর্গকে মনের মধ্যে মাধুরী মিশিয়ে মূর্ত করে তুলবে বলে। আর ওয়াজীদ, তুমি বলেছিলে আমরা তো এসছি ফিরে যাব বলে। কিন্তু যারা ডেরা বেঁধেছে এই স্বাপদ সঙ্কুল বনের মধ্যে। শুধুই কি কাঠ চুরি করবে বলে? হরিনের মাংস আর চামড়ার লোভে? হরিনের সিং সংগ্রহে, বাঘের বাচ্চা ধরে বিক্রি করার লোভে? একবার কি ভেবেছ, কেন ওরা এটা করছে, কি কঠিন তাদের জীবন, কি ভয়ংকর জোঁক প্রতিনিয়তই তার শরীরের রক্ত শুষে নিচ্ছে। রাকা, আমার এও মনে আছে, তুমি ও সব জোঁককে কোন জোঁক বলে মনে করেছিলে। আচ্ছা, তুমি কি কোন কিছুকেই সহজ সবল ভাবে নিতে পার না? ফিরতে পথে বলেছিলে তুমি নাকি দেখে গেলে আনইউজুয়াল রিয়েল লাইফ। তোমার মনের নাকি আরেকটি দুয়ার খুললো। আমরা দেখলাম বিমূর্ত অনুভবে, দেখা না দেখাকে কল্পনায় ভরিয়ে নিলাম, তুমি অতিবাস্তবে থেকে গেলে । নাও এখন চা খাও, এলে সুন্দর বনের সুন্দর স্মৃতি রোমন্থনে, মনে করলে আবার সেই—— বল, আকাশের দিকে তাকিয়ে আবার কোন সাগরে ভাসছ? মাকে বলব, খুব তাড়াতাড়ি তোমারজন্য বিয়ে ঠিক করা দরকার হাঃ হাঃ করে হেসে উঠে ওয়াজীদ, আমি এখন যে সাগরে ভাসছি সেখানেই ভাসতে দাও । কুলে আনতে চেয়োনা । রাকা, কেন প্রেম সাগরেও তো ভাসতে পারো, পার না? গর্ধভ দুই ভাই । এই শতাব্দীতেও এ্যরেঞ্জ বিয়ে। আরে এ্যারেঞ্জ বিয়ে বলেইতো ভাবীর হাতের চা দেবর পাচ্ছে। ওয়াজীদ, জান ভাবী, আকাশের দিকে তাকিয়ে আমার কি মনে হচ্ছিল? রাকা, শুনবোনা বললেই কি তুমি থামবে? তুমি যা ভাবো তাতো বলেই ছাড়। বলো শুনি। মনে হচ্ছিল, আকাশটা মহাসমুদ্র। সৈকতে রাকা, বুঝেছি বুঝেছি, বলবে যে আমি কৈতে নুড়িকুড়াচ্ছি। একথা পুরানো কথা, নতুন কি ভাবছ বলো। অগাধ সমুদ্রের সাথে আমাদের তুলনা যে বালুকনার সমান তাও জানা। ওয়াজীদ— আমি মোটেই যে কথা বলব না। ভাবছিও না। মনে হলো আমি ছোট্ট একটা নৌকা নিয়ে অগাধ সমুদ্রে চলে গেছি, মাছ ধরব বলে ঘিরে প্রবল ঘূর্নিঝড়ে নিজেই ধরা পড়লাম। ঝড় থামল কিন্তু কূল পেলাম না কিনার পেলাম না। সেই হারিয়ে যাওয়া নিখোঁজ হওয়া জেলেদের মতো নিরুদিষ্ট রইলাম। তোমরা ভেবে পাচ্ছ না আমি মৃত নাকি জীবিত, কোনদিন ফিরব নাকি ফিরব না। রাকা চুপ কর। চুপ করো। মনে হচ্ছে আবারও কাঁদাবে। বেল বেজে উঠলো, চলো নিচে চলো, বিদ্যুৎ এসে গেছে। ওয়াজীদ, যাও, আসছি আমি ।
Read Also :-
Labels : #Bangla Golpo ,#Bangla Kobita ,#Bangla Romantic Story ,#Love Quotes ,#বিচিত্রমন ,
Getting Info...

Post a Comment