ব্যঙ্গময় নীরবতা

প্রাফেসর অনামিকা হক লিলি।
চল্লিশ পেরিয়ে এসেছে বেশ কয়েক বছর। পঞ্চাশ ও বুঝি ছুঁই ছুঁই।বয়সে বিরহের কথা প্রকাশ করা যায় না।আবার সহ্য করাও কঠিন।যদি যৌবনের শুরুতে হত তাহলএর সমজদার বা ভুক্তভোগী সঙ্গীপাওয়া যেত।দিব্যি বন্ধুদের সাথে দাড়ি গোঁফ রেখে মজনু সাজা যেত।নয়তো কবি কবি ভাব করে অন্যের মনোযোগ আর বিশেষ অনুভূতি পেয়ে দিনগুলো চলে যেত।একে বারে নব যৌবনে হলে একে আমি দুঃখ বিলাস বলে নামকরণ করতে পারতাম।মুখে করুণ হাসি ফুটিয়ে বললাম।না কিছু হয়নি বেশ আছি।কিন্তু ওই সব সময়গুলো ভাবনাগুলো যথাসময়ে কিছুই আসেনি।আর আসেনি বলেই বুঝি। এতদিন এ এলো।তোমাকে পেয়েছিলাম যৌবনের শুরুতেই।সেই থেকেই চলছিলাম এবং চলছিলাম।পিছনে ফিরে তাকাইনি।কখনও তাকায়নি।তোমার প্রাণ বন্যায়।উচ্ছলতায় শুধু আমি ভেসে যেতে এই শিখেছি।কোনও অপূর্ণতার কথা কখনও মনেও আসেন নি আ নী ণী।আজকেআমাকে তুমি কোন পথে রেখে গেলে।না এ কূলে নাও কূলে।মাঝপথে আমি ডুবব নাকি ভাসবো কিছুই বুঝছি না।আসলে একা কখনোই তো কিছু বুঝে উঠতে পারি না।বড় বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিলাম।যেমন ছোট তে মায়ের, তেমনি তোমার।মাকে ছেড়ে প্রথম হস্টেলে এসে যেমন লাগত কিছুটা ঠিক।সেইরকম যেন।কেউ গোসলের কথা বলে না।খাওয়ার কথা বলে না।একবার ঘুমালে আর উঠবার কথা বলে না।এ যে কী অসহায় মুসরান গুমরানো ব্যথা।অথচ কী উল্টোটাই না ভাবতামবাড়িতে বসে বসে।মাকে বলতাম কবে যে স্বাধীন হবো।তোমার জ্বালায় আর পারি না।শান্তিমতো একটু ঘুরবো ফিরবো তাও উপায় নেই।হস্টেলে গেলেই বাসি বুঝেছো।হস্টেলে গেলেই বাসি।মাকে এমন হুমকি যে কতদিন দিয়েছি।তারপর বাড়িরঘাট থেকে নৌকায় পা রাখতে রাখতেই মনটা কেমন হয়ে গেছে।সব সাপ ভেজা লো গিটার মতো ভেজা ঝর ঝরে চোখে দেখেছি মায়ের আসল।চোখের কোণায় আর একবার মুখের কাছে।বারবার কান্না রোধের চেষ্টা দেখে আমি ঢুকলে উঠেছি।এনা নৌকা বাঁক নিয়েছে এত ক্ষণ তাকিয়ে থেকেছি।কেটে গেছে নর বরে বাঁশের সেতু।দেখেছি মাছ ধরার জন্য হাত পা ছড়ানো বাঁশের মাচা। মাথার উপর মাছরাঙার প্রহর গোনা।দুই মনোযোগ কাড়তে পারছে নামায়ের কান্না লুকানো মুখ ছাড়া।কানে শুধু বেজেছে একটানা বউ ঠাম্মার আর শপ শপ শব্দ।মা কে ছেড়ে শুধুই দূরে নিয়ে যাচ্ছে।মা তুমি কতক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিলে?যন্ত্রচালিত এর মত বেতের সুটকেস নিয়ে প্লাট।ফর্মের ধারে নেমেছি।দূর থেকে ধোঁয়া উড়িয়ে হুইশেল দিয়ে কি যেন কি সতর্ক করে দিতে দিতে মাটি কাঁপিয়েট্রেন এসে পৌঁছেছে। ।উঠে বসেছি।মাঠ ঘাট তাল সুপারি আম কাঁঠালের গাছ ঘুরতে ঘুরতে দূরে সরে গেছে।বড় লম্বা পুলের তার দৃষ্টির সামনে ওঠানামা করেছে বারবার।পাখিগুলো দ্রুত ডানায় সামনে উড়েও ক্রমশ পিছিয়ে গেছে।আমি তেমনইএগিয়েতেমনই পিছিয়েও গিয়েছি।মা আমাকে বিদায় দিয়ে কি করছে?কি বলছে?কী নিয়ে সময় কাটাচ্ছে সেই চিন্তায় সারাক্ষণ মোম চেয়ে থেকেছে।আজ কী যে হল?আমার কথা ভাবতে ভাবতে কে যে মার কথা মনে আসছে।আসলে কোথায় ঠিক কোন্ খানে যেন কোন এক নিশ্চয়ই তোমরা এর সুরে বাঁধা।সেই শূন্যতা আর এই হাহাকারে কোথায় যেন আত্মিক এ কটা মিল আছে।তুমি বুঝলে না ইলা।আমার অপারগতা গুলো আমি তোমাকে কোনওদিনই বুঝতে পারিনি।আমি মনে হয় আসলে গুছিয়ে বলতেও পারতাম না।আমাকে সবাই কর্তব্যপরায়ণ প্রচন্ড রাসা ভারী।ব্যক্তিত্ব শালি বলে জানত।শুধু তুমি জানতে আমি কতখানি অসহায়।শিশুর মতো নির্ভরশীল আর ভালবাসারউষ্ণতা কতখানি যাইতাম তা তুমি জানতে।তোমার মুখের একটুখানি হাসির জন্য কি যে ব্যাকুল থাকতাম মনে মনে জানোইলা।ছোটবেলায় আমার মাঝে মাঝে ইনট্যুইশন কাজ করত, এ ক বারবেশ জোরে তাপে বিছানায় শুয়ে আছি।মা তখনও খাওয়া দাওয়া হয়নি।দুপুর প্রায় গড়িয়ে এসেছে।মনে মনে ভাবছি মা এলেই বলব।অথচ মা সহজে আসবে না।চিৎকার দিয়ে ডাকব সেটাও শরীরে উল্লাসে না।বেশ।একটু ক্ষণ পর মা বলে বললাম।মা আমাদের খয়েরি ছাগলের বাচ্চাটা বোধহয় চাষির বাড়ির মাচায় উঠে অনিষ্ট করছে।মা বললেন, ধুর পাগলা ওটা ওর মার সাথে মাঠে চড়ে বেড়াচ্ছে।তুই জ্বরের ঘোরে আবোল তাবোল বলছে।উল্টাপাল্টা ভাবছিস।তাই দেখি তো জ্বর বেড়েছে কি না।জলপট্টি দেবো নাকি পানি ঢালবো দেখি।মা তুই এই বলয় বাইরে পা বাড়াতে না বাড়াতে চাষির চিৎকার শুনতে পেলামচাচী ছাগলটাকে একেবারে ধরেই নিয়েই এসেছে।একটু রেগে ঝাঁঝে সাথে বললেন,ছাগল পুষবে পুশ তা কে। না করেছে।একটু সামলে রাখবে তো?একেবারে মাচার উপরে যে খাচ্ছে।সাহসবটে ধামায় রাখা পাঁচ সের চাল একেবারে তলানিতে নিয়ে এসেছে।চাচী আরও কিছু বলতে বলতে চলে গেলেন।আর মা অবাক হয়ে আমার দিকে চেয়ে দেখলেন।বড় হয়েও ব্যাপারটা ঠিকই ছিল।বুঝতাম ভাবতাম কিন্তু কেন যেন শেষ পর্যন্ত আর বলা হত না।ঘটে গেলে ভাবতাম।ইস্ একটু সাবধান করলেই পারতাম।আমার মন তো ঠিকই বুঝেছিল।কিন্তু এই বেলায়।নিজেরবেলায় কী যে হল?কিছুই বুঝলাম না।বুঝতেবুঝতে আমি একেবারে হতবাক হতভম্ব হয়ে গেলাম।কোন মেঘে বৃষ্টি হবে কিংবা হবে না।ধান তুলবে নাকি উঠানে ছড়াবে মা আমাকে প্রায়ই জিজ্ঞাসা করে নিতেন।আমি মহাবিজ্ঞানীর মত বলতাম।আর আশ্চর্য হয়ে দেখতাম।কী করে যেন ব্যাপারটা গুলো মিলিয়ে মিলে যেত।স্কুল কলেজের অমন বহুবার হয়েছে।ফুটবল টিম হেরে আসবে নাকি জিতে আসবে ঠিক ঠিক বলে দিতাম।তখন আমার নামই হয়ে গিয়েছিল গণকআফজাল।অনেকেই ঠান্ডা বিদ্রুপের চোখে দেখত।বলত ঝরে বক মরে ফকিরের কেরামতি বাড়ে।তবে মনে মনে একটু সমীহ ও মনে হয় করত।দুষ্টু ছেলেরা খুব এখটা কাছে ভিড়ত না।হয়তো ভাবতো আমি ওদের মনের কথা জানি। তেমনই যাঁরা হোস্টেলে রাজনীতি নিয়ে মাতামাতি করত তারাও ভিড়ত না।তাই রফিকদের বাসায় এসে ব্যাপারটা জেনেছিলাম।রফিকের বোন ক্লাস নাইনে পড়ে।সা নাস্তা নিয়ে এসে একটু ইতস্তত করছিল দাঁড়িয়ে।বললাম কিছু বলবে।বসো নাকী নাম তোমার?সে আমার তিনটিপ্রশ্নের একটারও জবাব না দিয়ে বরং বলল,আপনি নাকি গণক?আপনি হতে দেখতে জানেন।আমি তো একেবারে থ।আমি হাত দেখিয়ে কথা এই প্রথম শুনলাম।বললাম কে বলেছে?কেন ভাইয়া?ভাইয়া আমাদের আগে বলেছে আপনিআগে থেকে বলতে পারেন।মা আপনারকথা সাথে বলতে চান।মাকে কিন্তুআমার কথা একদম বলবেন না।আপনার আল্লার কিরা থাকল।বলেই বেণী দুলিয়ে দৌড় দিল।রফিক এলে বললাম।তোর বোনটার নাম কিরে?বেশ চটপটে আর চালাক।ও।রিয়া এসেছিল বুঝি।বেশ কিছুক্ষণ বকবক করে গেছে। তাই না?ভীষণ আড্ডা বাস আর হ যুগে আর টইটই করে ঘুরে বেড়াতে খুব ভালোবাসে।মা সারাক্ষণ বকে ওকেতবুও যেই কার সেই।ফিরতে পথে রফিককে বলেছিলাম।খালাম্মা একটু বলিস সে যেন একটু চোখে চোখে রাখেন,শা ত দিন পরে দেখি অত্যন্ত শুকনো মুখে৷ রফিক আমার হলে।ভীষণ রকম অস্থির আর দুশ্চিন্তায় সাপ ও চোখে মুখে কি করবে কিছুই বুঝতে না।রিয়া নাকি কাল বাসায় ফেরেনি।বন্ধুদের বাসায় খোঁজ করেছে সেখানেও যায়নি।আত্মীয় বাড়িতে এখনও বলেনি।পাশে নানা রকম রটনা হয়।খবর অবশ্য চাপা থাকবে না।রফিক কান্নাভেজা গলায় বলল।তুই সেদিন বলেছিলি সত্যিই যদি সেদিন সাবধান হতাম আম্মা কে?ব্যাপারটা বলতে আমি ভুলে গিয়েছিলাম।কিন্তু তোর সাথে তো মারকথা হয়েছিল তুই তো বলতে পারতি ,রফিকেরগলা প্রায় ভাঙা ভাঙা।আমি ভীষণ অপ্রস্তুত বোধ করছিলাম।বলতে পারছিলাম না যে আমি রিয়ার কথা আর থেকেই বুঝেছিলাম। রিয়ার লুকানো কোনো ব্যাপার আছে।যা সে কাউকে জানাতে চায় না।কেন যে আজ এই সব অসহায়ত্বের কথাগুলো মনে পড়তে বুঝতে পারছি না।আমারকিছুই করার ছিল না তবু সবাই আমাকে অপরাধী ভেবেছে।কখনও কখনও মাও করেছে।করেছে তুমিও।আমি কিছুই বুঝতে পারিনি বলতে পারিনি।মা ভেবেছে আমি সত্যিই বুঝি হলে চলে এসে আনন্দে থেকেছি।তাঁকে ভুলেই থেকেছি।মায়ের জন্য কান্না মাকে দেখতে পারিনি।তুমি ভাবতে আমি আমার অফিসটা কেই বেশি ভালোবাসি।ইচ্ছে করে বাসায় থাকি না।নৌকার গলুইয়ে দাঁড়িয়ে থাকা সেই ঝাপসা চোখে মা কে বিন্দু থেকে বিন্দু তোর হওয়া দৃশ্য মাকে বোঝাতে পারেনি।তেমনই বোঝাতে পারেনি তোমাকেও।অপরাধবোধে তোমার মুখোমুখি হতে ভয় পেতাম।চোখে চোখ রাখতে পারতাম না।কম কথা বলা লোকদের ওই এক অসুবিধা।বলি বলি মনে মনে ভেবে বলা হয় না।হয়তো সে সময়ে অভিমান নিয়েই চলে গিয়েছেন।খবর পেয়ে যেন ছুটে গেছি।তখন মা ধরাছোঁয়ার বাইরে।মাকে আর বোঝাতে পারেনি বোঝানো হল না। খবর দেরিতে পৌঁছেছে।তবু আমি নিজেকে ক্ষমা করতে পারিনি।কারণ কেমন এক টা অস্বস্তি তো কদিন ধরে চলছিল আমার মনের মধ্যে।কিছু এ কটা অমঙ্গল যে আসছিল সেটা মনে মনে অনুভব করছিলাম।তবু কে যে মার কাছে ছুটে যাওয়া হয়নি।যদি ছুটে যেতাম তাহলে আমাকে ভুল বুঝত কে।আর আমিই বা কী করে কষ্ট পেতাম।মা তো চলেই গেল।তারপর তুমিও।তুমি গেলে অন্যভাবে অন্যত্রে অন্য কোথাও।তুমি তো আমার অপারগতার কথা জানতে ইলা।তুমি তো কতদিন বলেছো মানুষের মনের পাওয়াটাই বড় পাওয়া।অন্য আর সব তুস।তুমি অবশ্য এ ভাবে যতই বলতে আমি ততই গুটিয়ে যেতাম।আমার দুঃখের মধ্যে আমার যাতনার মধ্যে।তোমার জন্য তো দুঃখের আমার অব্দি ছিল না।মনে মনে চাইতাম তোমার আর একটু ব্যস্ততা বাড়ুক।বাইরে আরেকটু ব্যাপ্তি হোক।তো একান্ত নিজস্ব সময় তোমার হোক।কিন্তু এ ভাবে কি চেয়েছি?আমরা মুখোমুখি বসলে আমাদের কথা খুব অল্পই ফুরিয়ে যেত।চঞ্চল দুরন্ত পদধ্বনির অভাবটা এখন বড় বেশি করে বাঁচত।আমার মুখ থাকত খবরের কাগজের আড়ালে।আর তুমি পাড়াপড়শির জন্য উল বুনতে।আমাদের নিরবতায় উলের কাঁটা মুখোমুখি।আলাপন আমি মনে মনে উপভোগ করতাম।কিন্তু বলা হয়ে উঠত না।বেশ বুনো বুনতে থাকলে তোমার আঙুলগুলা সুন্দর খেলা।দেখতে খুব ভাল লাগে। আমি আসলে বুঝতে পারিনি। আসলে তুমি আমাকেকীভাবে দেখতে বা ভাবতে?তুমি কি আমাকে করো না করতে?নাকি ঘৃনা।অবজ্ঞা করেছ নাকি অন্য কিছু?সে তুমি যাই করো না কেন? আমাকে অন্তত তুমি শেষ দিন পর্যন্ত বুঝতে দাওনি।লোকে জানে তুমি হায়ার এডুকেশনে বাইরে গেছো।কিন্তু আমি তো জানি তুমি ফিরবার জন্য যাওনি।নিশ্চুপদুপুরে ঘুমের অলসতা এ কখনও ইলা বলে সবে ডাকতে ইচ্ছা করে।মনে পড়ে।ওলের কাটায় বিরামহীন চুম্বন।এ তোদুঃখেও আপন মনে হাসি।বন্ধু তো আপন তেমন কেউ নেই।চাপা স্বভাবের লুকের কি হৃদয়ের বন্ধু হয়।জানা নেই।যার স্ত্রী বন্ধু হতে পারল না।তবে মাঝে মাঝে সেই রফিক আসে বলে আমি নাকি বেশ আছি।প্রতীক্ষার বিরহ মনে করে ও এটাকে বিরহ বিনাশ দিয়েছে।আমি মনে মনে হাসি।যার চিরবিরহ ও তার বিরহ নিয়ে বিলাস করা সাজে।ঠিক মাঝে মাঝে তাঁর সংসারের তুমুল হট্টগোল থেকে আমার এখানে হাঁফ ছাড়তে আসে।আমার নিশ্চুপ নিরিবিলি বাড়িতে বুক ভরে শ্বাস নেয়।একবেলাআরাম করে ঘুমায়।আর এই নিশ্চুপ আমাকে শ্বাস নিতে দেয় না।তাই নিশ্চুপ তার পাষাণ ভার আমার বুকে চেপে বসে থাকে।আমি ছটফট করি অস্থির পায়চারি বুকে ব্যথায় মোচড় ঘুম জড়ানো অভিমান।ইলা তুমি কি বলতে পারো এ অভিমান এ অভিযোগ আমি কার উপরে করবো।আমি বড় একা বড় বেশি একা লাগে।তুমি কি তা বিশ্বাস করো ইলা।তা তোমার ছেড়ে যাওয়া ঘরটা তেমনই আছে।কোনায় কোনায় ঝুল জমেছে?ঘরে লতা গুল্ম।ওগুলো অবাধ গতিতে সদ্য হাঁটতে দেখা শিশুর মতোহাত পা পেট ভর করে বারান্দা বেয়ে দেয়াল ছুঁই ছুঁই করছে।তা রাত্রে কান পেতে থাকলে।হঠাত্ মনে হয় ওঁরা আমার সাথে কথা বলতে চায়।মনে হয় নিজেদের মধ্যে কথা বলে।আমার একাকীত্ব সঙ্গ দিতে চায়।মনে মনে তোমাকে অশরীরী।রূপে দেখতে ইচ্ছা করে।তা কিন্তু নিশাচরেরডানা ঝাপটানো আর প্রহর ঘোষণার ঘণ্টা ধ্বনি আমাকে বাস্তবেরমধ্য ধরে রাখে,সে দিন রফিক তার এ পরিচিতকে ধরে নিয়ে এসেছিল।ভদ্রলোক, ভারী রসিক।উঠানের দিকে নজর পড়ায় বললেন।অনুকূল ঠাকুরের মতো আশ্রম খুলেছেন নাকি?চলেনতো এরকম একটা।আদর্শ গরু গৃহের সে ব্যবস্থা করি।উঠানের মধ্যে কখনও কখনও এর দুই করে অনেক শালিক এসে বসে।ইচ্ছামতো কী সির মিছিল করে?মনে পড়ে ছোটোবেলায় বিশ্বাস করতাম এক শালী কে দুঃখ,দুই শালিকে সুখ।তিন শালিকে পত্র স্যার শালিকে বন্ধু।এ বারে চৌথের শেষ দিনের ঝরে ভিতরে কোটার হয়ে যাওয়া পুরোটা আম গাছটা পড়ে গেছে।গাছটা ভীষণ লম্বা ছিল।তার মগডালে উঁচুতে কয়েকটা টক আম ধরত।যাঁদের দেখে তুমি করুনা করে।তাকাতে আর নীরবে বড় বড় শ্বাস ফেলতে।গাছের কোটার সাপ বা পোকামাকড় আছে বলে ওদের খেলা তুমি ভেঙে দিতেবুঝতাম না।ওদের খেলা দেখতে আমার ভাল লাগত।ইটের গুঁড়ার মসলা করা কারও বাজার করেআনা, কারও পাকা গিন্নি গিন্নি ভয় করে মুখ ঝাপটা দেওয়া।তখন কেন যেন?পড়ে যেত।অবাক লাগে কেন তা ছোটরা এখন রাক্ষস এই বলে।আর খেললেই গ্রামের চিত্রটা ফুটিয়ে তোলে।আমার এই ভাঙা খেলা কেউ খেলা হলেও খেলে না।গাছটা পড়ে যাওয়ায় উত্তর দিকটা অনেকটা ফাঁকা হয়ে গেছে।তাতে আকাশটা যেন একটু কাছে মনে হয়।আকাশের দিকে তাকিয়ে পৃথিবীটাকে এ তখন বড় মনে।সংকীর্ণ সব কিছুই আসলে প্রশস্ত।তাঁকে ডেকে রাখে।মানুষ নিজেকে গণ্ডির মধ্যে আবদ্ধ রেখে প্রকৃত বড় কিছু দেখতে পায় না।পাতাবাহারের ডালগুলোও কারা যেন ভেঙে ভেঙে নিয়ে যায়।গন্ধরাজ গাছটা দাঁড়িয়ে আছে এক বা সাদা ফুল মাথায় নিয়ে বাড়িটা সন্ধ্যায় মম করে,কাঁঠাল গাছেযেন এবরমোশি আসেনি।সমাপ্ত জিন্নার মতো ওই গন্ধটা আজ বড় বেশী বেমানান লাগে।অফিস তেমন ভাল লাগে না।আগে যেমন একান্ত ও হয়রান না হলে ঘরে ফিরতাম না।এখন একান্ত দরকার না হলে অফিস বাদ দেওয়ার কথা ভাবি।অন্যরাও খুব এ কটা ঘাঁটায় না।অবশ্য আমাকে নিয়ে অন্যের মাথা ব্যথা কমই ছিল।সবাই হিসেব করে বেতনের স্কেল এর পদের।আমার তখন হাসি পায়।ভাবি কারও জীবনে গ্রাম।টোটাল কখনও মিলেছে।আমার তো মিলল না।ছাত্রজীবনে অঙ্ক মেলাতে কষ্ট হয়েছে।জীবনের কোনো হিসাব মেলেনি।তাঁর কবিতায় ছন্দ আসেনি।গল্পে নায়ক নায়িকাকে মেলাতে পারেনি।সংসার করতে সংসার মেলেনি।হতাশায় কোনও ভরসা মেলেনি।পথের শেষে এসেও কেন যে পথে।আগলে বসে আছি।সবাই ভালো থাকতে চেয়েছে।আমার পূর্বপুরুষ আমি আর আমার উত্তরসূরি যদি থাকত তো চাই তো।জীবনে চাওয়ার পাওয়ার যদি মিল না থাকে তাহলে বরং এই ভালই হয়েছে।ইলা তুমি কখনো কি আমার মত করে ভাবো।তোমার প্রাণ পাঁচ র্যত ক্রমশ নিঃশেষ হয়ে পড়েছিল।এখন কি তুমি তা ফিরে পেয়েছ?বিয়ে থাকলে ভাল।আমার তো শুধু ব্যঙ্গ ময় নীরবতা।মাঝে মাঝে তবু এই বুঝি দরজায় করাঘাত করলে বলে চমকে উঠি।মনে মনে ভাবি কেন একদিন সত্যি তো হতে পারে।
Read Also :-
Labels :
#Bangla Golpo ,#Bangla Kobita ,#Bangla Romantic Story ,#Love Quotes ,#ব্যঙ্গময় নীরবতা ,
Getting Info...