আয়নার ওপিঠ

আয়নার ওপিঠ

আয়নার ওপিঠ

প্রফেসর অনামিকা হক লিলি 

তুমি কেমন মেয়ে বলতো । কিছুই কি চাইতে শেখনি ? তোমার এই স্বভাবের জন্য একদিন তুমি কিন্তু পস্তাবে সেদিন আসুক তখন দেখা যাবে। আসলে আমার এমন কোন চাহিদা নেই যে চেয়ে নিতে হবে । সবই তো না চাইতেই পেয়ে যাচ্ছি তাই না ? কোনদিন তুমি কোন স্বাদ আহলাদ বা অপূর্ণতার কথা বললে না । যা আনি বল, সুন্দর হয়েছে, বেশ হয়েছে, চমৎকার হয়েছে । আসলে কি জানতো, যারা বোঝে না তারাই চায় । চেয়ে পাওয়ায় কোন আনন্দ আছে বলো । আর এমনও তো হতে পারে, আমি চাইলাম আর তুমি দিতে পারলে না ! তখন তোমার মনটা কেমন খারাপ হবে ! কি যে অবান্তর কথা বলো না । আমার কি কোন বিত্ত বৈভবের অভাব আছে ? বলেই দেখোনা । সব কি টাকায় পাওয়া যায়, নাকি পাওয়ারে ? এসবের বাইরেও অনেক কিছু থাকে, এ সব লুবনা মনে মনে বলে, সামনে বলে, রাখোতো কথা, ফ্রেশ হয়ে খাবার টেবিলে এসো । আসছি, কনাকে নামতে বলো । কনাতো পড়ার টেবিল থেকে উঠেই না । ইউনিভার্সিটি আর বাসা, ওর আউটিং বলতে পাবলিক লাইব্রেরী না হয় ডিপার্টমেন্টের সেমিনার । মেয়েটাও তোমার মতই হয়ে যাচ্ছে নাতো ? লুবনা চমকায়, কেন আমার মতো কেন ? তোমার চোখে আমার আচরণ অস্বাভাবিক, কিন্তু ও কি করেছে ? কোন স্বাদ আহলাদের কথা বলে না তাই ? প্রতিদিন এটা দাও, ওটা চাই, সেটা নাই কেন ? শুনলে তোমার ভালো লাগতো ? বিরক্ত হয়ে যেতে বুঝলে ? বলতে জেদী মেয়ে, বেয়াদব মেয়ে, লোভী মেয়ে । শান্ত হওয়া শান্ত মেয়ে পাওয়া আজকাল ভাগ্যের ব্যাপার বুঝেছ ? আহা, আমি কি খারাপ বললাম নাকি, মেয়ে, বউ একটু আবদার আহলাদ করলে, কিনে দিয়ে বাবার, স্বামীর খুশী লাগে, ভালো লাগে, তাই । আহমদ সাহেবের গলায় ক্ষেদা পিঁড়িতে কণার আসার অনুভবে দুজনেই উপরে তাকায় । শান্ত শিক্ষশ্রী কনা ধীর পায়ে নামছে । এমন আলতো, শিড়ি যেন ব্যাথা না পায়, এমন ভাবে, যেন শব্দ না হয়, এমন ভাবে মনে হচ্ছে যেন বাঁশি বা সেতারের সুরে সুরে ভেসে ভেসে নামছে। পায়ে চঞ্চলতা নেই কিন্তু ছন্দ আছে, নিজেদের মেয়ে দেখে নিজেরাই মুগ্ধ হয়ে যায়। লুবনা বলে, কি খাবি রাতে, ভোর জন্য নতুন কিছু করে আমি ? না মা আমার জন্য নতুন কেন, তোমরা যা খাবে, ভাত, মাছের ঝোল, মুরগীভুনা, ভর্তা, ভাজি সবই খাব । না মানে, কতো মেয়েরা খাওয়া নিয়ে কোত বায়না করে । পিজা আনায়, কে এফ সি আনায়, তোর একদিনও ওসব খেতে ইচ্ছে করে না ! তাই বলছিলাম আর কি । তুই ক্রমশই চাপা স্বভাবের হয়ে যাচ্ছিস । তোমাদের কি হলো বলোতো ? আজকে আমাকে নিয়ে পড়লে কেন, বিশেষ কিছু বলতে চাচ্ছ ? তাহলে বলে ফেল । আজকে অনেক রাত পর্যন্ত পড়তে হবে ! না না কিছু বলার জন্য না । বাবা তুমি কিছু বলবে ? না না আমিও কিছু বলব না, ভাবছিলাম তোর কোন বন্ধু বান্ধব নাই যাদের সাথে লেখাপড়া শেয়ার করিস ? থাকবে না কেন বাবা ? একসাথে না পড়লে অনেক জানাই বাদ থেকে যায় । ডিসকাস করে পড়লে তাড়াতাড়ি ক্লিয়ার হয় । এ কথা জিজ্ঞাসা করছ কেন বাবা ? তোমরা কি আমাকে সন্দেহ করছ? তেমন কিছু হয়নি বাবা, হলে আমি নিজেই জানাব । কারণ আমি তোমাদের জানি, তাইনা ? কেমন ? কি জানিস ? না এমনি বললাম । নিশ্চয়ই এমনি বলিসনি, কারণ বলবি তো । মা, তোমার বোধ হয় মনে নেই, কিন্তু আমি মনে করে রেখেছি, যখন আমি সবে এইচ. এস. সি তে ভালো করলাম, ক্লাস মেটেরা একসাথে আনন্দ করে একরাত কাটাতে চেয়েছিলাম, মা বলেছিল, “না না ওসবে যাওয়া হবে না ।” যাইনি । বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢোকার পরপরই আমেরিকায় পড়ার সুযোগ পেয়েছিলাম। বাবা বলল, 'না না এখনি এসবে চেষ্ঠা করো না। পরে হবে। চেষ্টা করিনি । আমি জানি যে আমি তোমাদের একমাত্র সন্তান । আমাকে নিয়ে অনেক ভাব । যেমন এসেছিল তেমনি ধীর পায়ে উপরে উঠে গেল কণা লুবনা আর সৌরভ দুজনই নিশ্চুপ । কণাকে কি কিছু বলার ছিল ? কণা কি কোন ভুল বলেছে ? দুজনই উঠে গেল । কণার ঘরে আলো জ্বলছে । কারও চোখেই ঘুম নেই। লুবনাকে আজ তার স্মৃতি ক্ষত বিক্ষত করছে । অনেক দিনতো হয়ে গেল তবু কেন ভুলতে পারে না, কেন মুছে যায় না। এমন কোন ইরেজার, ডিটারজেন্ট কি আছে যা স্মৃতি মুছতে পারে কান্না বা চোখের পানি লুকানোর জন্য পাশ ফিরে শোয়। এস. এস. সি'র পর সে বান্ধবী মিতাদের বাসায় গিয়েছিল । তারা স্কুলের পাঁচজনই অত্যন্ত ভালো রেজাল্ট করেছিল । মা বলেছিল, তোমরাই তো তাইনা ? মিতাদের বাসায় বাবা মা ছাড়া কেউ নেই তো ? ঠিক আছে যাও । তবে বান্ধবীদের সাথে রাত কাটানোটাও আমার পছন্দ না । কিন্তু হঠাৎ করেই মিতার ভাই রাতের ট্রেনে দুই বন্ধুকে নিয়ে বাড়ী এসেছিল । মিতাতো আনন্দে আত্মহারা । আমরা আড্ডা বা দিচ্ছিলাম, ওরা খাওয়া দাওয়া সেরে এসে বলল, আমরা তোমাদের সাথে জয়েন করি ? মিতা আমাদের সবার মুখের দিকে তাকাচ্ছিল, কি বলবে ভাবছিল । কিন্তু এর মধ্যে আমাদের মধ্যে মুখরা রাখী বলে উঠল, অসুবিধা কি আছে, আসুন । আমি অন্যতিনজন বিব্রত বোধ করছিলাম । মনে হয় মিতার ভাই বুঝতে পারছিল, বলল চল আমরা যাই, ওদেরকে ওদের মত থাকতে দে। রাখীর সাথে দিব্যি গল্প জমিয়ে নিয়েছিল একজন । সে বলল ঠিক আছে তোরা যা আমি আর রাখী না হয় বারান্দায় গিয়ে কথা বলব । মিতা, আমরা কি আরেক রাউন্ড চা পেতে পারি । তুমি রান্নাঘরটা দেখিয়ে দিলে আমি রাখীর সাহায্য নিয়ে সবার জন্য চা করে আনতেও পারি । না না তোমরা কেন যাবে, আমিই করে আনছি, তবে মা বাবার ঘুম ভেঙ্গে না গেলেই হয় । মিতার ভাই বলল, বরং কোল্ডড্রিং কস খাওয়া যাক। খাওয়ার ঘরে ফ্রিজেই আছে। সাথে বরং চিপস আনি । মিতার ভাই উঠে গেছে কি যায় নাই এর মধ্যেই হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে গেল । বিব্রত আর প্রায় চিৎকারের মত রাখীর গলা । কতক্ষণের জন্য গেল জানিনা । আমি কাচুমাচু এর মধ্যেই কে যেন দুহাত দিয়ে। পিষ্ট করতে থাকলো । কথা বলছে মিতা, যে সেখানে আছে তেমনি থাক, আমাদের বাসা আমার সব চেনা, আমি উঠে যেয়ে মোমবাতি আর দিয়াশলাই নিয়ে আসছি । কে যেন বলল, আপনাদের হাতে বা পকেটে লাইটার নাই ? কেউ সিগারেট খান না ? থাকলেও কেন যেন কেউ উৎসাহ দেখাল না। আমি কোন শব্দই করতে পারছিলাম না। ঠোঁটদুটো কার ঠোটে আবদ্ধ জানিনা, হাত দিয়ে আমার সমস্ত শরীর সে অবশ্য করে রেখেছে মিতা মোম নিয়ে আসলো, রাইটও এলো, সবাই যেন ঠিক তেমনি আছে যেমন ছিল । মাত্র কয়েকটা মিনিট আমাকে তচনচ করে দিয়ে গেল । সকালেই বাসায় ফিরলাম, মা বললেন, কিরে লুবনা তোর চোখ মুখ ঠোঁট ফুলা কেন? সারারাত জেগে গল্প করে এই করেছিস । যা গোসল সেরে আয়, জানিতো অন্যের বাথরুমে তোর অন্তস্থি হয় । তারপর টেবিলে আয়, চা খেতে খেতে গল্প শুনি কি করলি তোরা । না মা, গোসল সেরে বরং একটু ঘুমিয়ে নেই মা, দুপুরে একবারে খাব। দরজা বন্দ করে বাথরুমে পানি ছেড়ে কতো যে কেঁদেছিলাম শতবার গাধুয়ে ঠোটমুখ গলা ধুয়েও সে মলিনতা আজও আমার যায়নি । কতো যে ভেবেছি, ভিকটিম কি শুধু আমিই ছিলাম নাকি আরও কেউ কেউ । ব্যক্তিটি কে তাও জানিনা, মিতার ভাইই কি হতে পারে, জানিনা । তখন মোবাইল ছিলনা যে টিপেআলো করে দিব, কেউ কিছু বলল না, না আমি না ওরা কেউ । খুব ধীরে হলেও বন্ধুতে ফাটল ধরেছিল শুধু রাখী আর বাচাল ছেলেটা কিছুদিন প্রেম প্রেম খেলেছিল । আমার স্বতঃস্ফূর্ততা কমে গিয়েছিল, ছেলেদের সাথে কথা বলতে সহজ হতে পারছিলাম না, শুদু তখন না, এখনও পারি না । আহমদ স্বতঃফুর্ততা চায় কিন্তু কি এক গ্লানি, দ্বিধা আমাকে জড়িয়ে রাখে । কণা তোকে আমি একথা কি করে বলি বলতো তোকে বান্ধবীদের সাথে যেতে দেই নি, সেটা ঠিক, কিন্তু নিজের অভিজ্ঞতার কথা কি করে ভুলি বল ! “আপনা মাংসে হরিনা বৈরী" রে মা। হাজার বছর আগের 'চর্যাপদে' যা বলে গেছে, সে তো সত্য । মেয়েদের শরীরই মেয়েদের প্রধান শত্রু ঠিক ৯ হরনীর মত । আহমদ সাহেবেরও ঘুম আসছে না। ওই টুকু মেয়ে আজ কতোবড় কথা শুনিয়ে গেল । ওর চিন্তায় ওর ভাবনার ওর চাওয়া পাওয়ার আমরা বাঁধা হয়ে দাড়িয়েছি । ওর স্বাধীন চলা ফেরায় হস্তক্ষেপ করেছি । এর প্রধান কারণ ওকে ওই বয়সে বিদেশে যেতে না দেওয়া । কিন্তু কেন দেইনি সেতো কেবল আমি জানি । বাবা জমিদার না কিন্তু অনেক জমির মালিক । একমাত্র ছেলে আমি, আর দুটো বোন । ওরা আমার ছোট । আমরা সবাই মেধাবী আর যাকে বলে আকষণীয় । নিজেকে নিজেরা সুন্দর বলে না মা বলতো ওরা নয়নজুড়ানো ওরা মনভরা দেখতে । আমাদের ভদ্রতা নম্রতার সাথে সুখা একটা অহংকার যে ছিলোনা তা না । লোকে কখনও মন্দ বলেনি, বাবাও আমাদের সব আব্দার মিটিয়েছেন চাওয়া মাত্র । তিনি রোজ সন্ধ্যায় বসে কৃষক মুজুরদের নিত্যের পাওনা নিত্য মিটাতেন । মাসাস্তে বাড়ীতে ভালো খাবারের ব্যবস্থা করে তাদের খাওয়াতেন । আই এস সি পাশ করতেই আমার আব্দার হলো, লন্ডনে যাব । মামা আছেন ওখানে, তিনিও উৎসাহ দেখালেন । বাবা মনে হয় মনে মনে খুশীই ছিলেন, কারণ তেমন বাধা তিনি দেননি । তিনি হয়ত ভেবে থাকবেন, লন্ডনে ছেলে পড়ে, বলে গর্বিত হবেন । অর্থের তো অভাব নেই, যে সুখ থেকে তিনি বঞ্চিত হবেন কেন ? শুধু মা খুশি ছিলেন না। সে জানতো লন্ডনে তার যে ভাই আছে সে উড়নচন্ডি স্বভাবের, পড়তে গিয়ে পড়া হয়নি । কিছু একটা করে তা কোনদিন বলেনি । এর বয়সে আমি যাই মা সেটা চায়নি । লোকে ভেবেছে একমাত্র ছেলে চলে যাচ্ছে বলে মা'র আপত্তি মার কান্না । পরে বুঝেছি মা'র দুরদর্শিতা, আমি কিছুদিন লন্ডনে ঘুরলাম বেড়ালাম, ভর্তি হলাম আইন পড়তে। ছাত্র ভাল অসুবিধা হয়নি তাছাড়া হাতির খরচের মত টাকা ঢালতে থাকলো বাবা । কদিন মামার বাসার পরই বাসা ভাড়া করলাম। বার্গার পাউরুটি দুখ কলা ডিম এটুকু হয় কিন্তু ভাত মাছ মাংস না খেতে পেয়ে বিমর্ষ লাগতে লাগল । রসনা তৃপ্ত হলো । ক্লাস মেট রিটা সাহায্যে এগিয়ে এলো । লন্ডনে ঝিরঝির বৃষ্টি কুয়াশা ঢাকা সূর‌্যের দেখা পাওয়া এমন দিনের অভার নাই । রিটা লন্ডনে জন্ম নেওয়া কিন্তু বাঙালি মা বাবা। রিটা বাংলায় বলা আর ইংরেজি লেখা বলা সবেই অভ্যস্ত । চলা ফেরায় মোটেই বাঙালি হয়নি । বুঝতেই পারিনি কখন ও আমার মনটা হরন করে নিয়েছে । ওই ঝিরঝিরি বৃষ্টি মাখা কুয়ামা দিনে ঝাল খিচুড়ি আর ডিমভাজা কেয়ে রবিবার দুপুরটা মনে হলো একটু গড়িয়ে নেই । রিটা যেতে চাচ্ছিল, বললাম ঘরে একটু বোস না ঘন্টা দুয়েক পরে একসাথেই বেরোব । রিটা বলল, তুমি কম্বল মুড়িয়ে থাকবে আমি শক্ত চেয়ারে বসে ? হাসতে হাসতেই বলল, কম্বলের ভাগ দিলে থাকতে পারি । তারপর জানিনা কখন সন্ধ্যা নেমেছিল, রাত গভীর হয়েছিল, ঘড়ির কাঁটা সকালে পৌঁছে গিয়েছিল । জেগে দেখেছিলাম দরজা চাপানো, রিটা নেই । ক্লাস করেছি, রিটাও করেছে, কেউ কারও দিকে তাকাইনি । মাস খানেক পর রিটা এসেছিল । রিটা স্বাভাবিক গলাতেই বলেছিল, জানি তোমার দায়িত্ব নেবার বয়স হয়নি, আমিও তৈরী না, কি থেকে কি হয়ে গেল ! পাপ বোধ তোমার যেমন আমারও তেমনি হচ্ছে । যা হোক আমি সামলে নেব । তবে এখনও আমাদের অনেক দূর যেতে হবে । জীবনে কিছু তো হতে হবে তাই না ? মা বাবার আশা ভঙ্গ করা ঠিক হবে না । আমি মুখ নিচু করে ছিলাম, রিটার মুখের দিকে তাকাতে পারছিলাম না । কিন্তু ওর মধ্যে এতো পরিণত কথায় অবাক হয়ে যাচ্ছিলাম । রিটা বলেছিল, আমার একটা কতা রাখবে ? তুমি আমাকে ভুলে যাও ওই রাতটা জীবন থেকে বাদ দিয়ে দাও । আমি অন্য কলেজে ভর্তি হয়ে যাব । দুজনেরই দুর্বল হতে কতক্ষণ, বল ? আইন পাশ লন্ডনে আমার হয়নি । কিছুদিন পরই ফিরে এসেছিলাম । বাবা অবাক হয়েছিলেন মা খুমি । মেম সাথে নিয়ে ফিরিনি বলে বড্ড স্বস্থি পেয়েছিলেন তারা । সেই রাত কি আমি মুছতে পেরেছি ? পারিনি । সেই অপরাধবোধ থেকে মুক্তি পেয়েছি ? পাইনি । রিটা কি ক্ষমা করতে পারবে ? পারবে না । ওর গ্লানি কি মুছবে ? মুছবে না । এমন বলতে না পারা কথার ভার অত্যন্ত ভারী হয় । মা মনি তোকে কি করে বুঝাই বলতো, ছোট বয়স না হলে আমার এই অপরাধ না হতেও পারতো । কনা তোকে কি আমি এমনি এমনি বাঁধা দিচ্ছি ? না রে কণা সময় হলে আমিই তোকে বিদেশে পড়তে পাঠাব । দুজনাই প্রায় এক সাইে পাশ ফিরল । উঠে বসল । লুবনা বলল, পিপাসা পেয়েছে । আহমেদ সাহেব বলল, আমাকেও দিও । তুমি ঘুমাও নি ? লুবনা, আসছে না, তুমি কেন জেগে আছ ? আহমেদ সাহেব, জানিনা । আচ্ছা বলতো, তোমার কি মনে হয় আমরা কনার চলায় বাঁধা হয়ে দাঁড়াচ্ছি ? লুবনা, মোটেই না, এটুকুর দরকার আছে । তবে কাল থেকে চেষ্ঠা শুরু করো । এখন থেকে শুরু করলে বছর খানেক তো লেগেই যাবে তাই না ? নাস্তার টেবিলে বাবার কথায় কনা বিস্ময়ে তাকায় । বলে, আমার বায়োডাটা, নম্বরপত্র ? কেন বাবা ? বোকা মেয়ে, অষ্টেলিয়া, কানাডা, আমেরিকার ইউনিভার্সিটিগুলোতে পাঠাতে হবে না ? কনা, মা তুমিও বলছ ? সে কি রে । আমরা দুজন কি আলদা নাকি ?
Read Also :-
Labels : #Bangla Golpo ,#Bangla Kobita ,#Bangla Romantic Story ,#Love Quotes ,#আয়নার ওপিঠ ,
Getting Info...

Post a Comment